এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি আদায়

বিশেষ প্রতিনিধি
‘করোনাকালে নেওয়া সেশন ফি শিক্ষার্থীর কোন কাজে লাগে নি, এখন আবার কিসের সেশন ফি’র জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বুঝতেই পারছি না, এসব বিষয় নিয়ে আমরা কথা বললে আমার মেয়েটাকে নানাভাবে হয়রানি করা হতে পারে, আপনারা বিষয়টি একটু দেখেন ভাই।’ সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা (এসসি বালিকা) উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির অর্থাৎ (২০২২ ইংরেজি’র) এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক রোববার সকালে এ প্রতিবেদককে এভাবেই জানালেন নতুন করে সেশন ফি নেবার তাগাদার কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে গত কয়েক দিন হয় অগ্রিম ৬ মাসের বেতন ৯০ টাকা, ৬ মাসের টিফিন ফি ৪৫০ টাকা এবং ৬ মাসের সেশন ফিসহ ১৮৭২ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
অথচ পাশের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইনচান মিঞা জানালেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ ধরণের কোন প্রজ্ঞাপন জারি হয় নি। এজন্য আমরা কোন ফি আদায় করছি না।
একই শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান বললেন, আমরা এখনো এই টাকা আদায় করিনি, তবে একই শহরে দুটি সরকারি স্কুল, তারা (এসসি বালিকা) যেহেতু ফি আদায় করছেন, আমাদেরও হয়তো আদায় করতে হবে।
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জানালেন, সেশন ফিসহ ১৮৭২ টাকা এই সপ্তাহের মধ্যে জমা দেবার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। লিখিত কোন নোটিশ দেওয়া হয় নি। টাকা আদায়ের কোন রশিদও দেওয়া হচ্ছে না। শ্রেণি শিক্ষকরা এই টাকা আদায় করছেন।
এই বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী বললেন, করোনাকালে টিফিন, সেশন ফি ও বেতনের জন্য যে টাকা আদায় হয়েছে, সেই টাকায় আমাদের জন্য উল্লেখ করার মত কিছুই করা হয় নি, ক্লাস হয় নি, টিফিনও দেওয়া হয় নি। এখন আবার টাকা দেবার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। যা অনেকের পক্ষেই দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বললেন, প্রধান শিক্ষক স্যারের নির্দেশে এই টাকা আদায় হচ্ছে। যেহেতু সেশনকাল বেড়েছে, এজন্য ২৪০ জন শিক্ষার্থীকেই ৬ মাসের বেতন, টিফিন ও সেশন ফি দিতে বলা হয়েছে। একই কথা জানালেন, অপর শ্রেণি শিক্ষক ক্ষিতিশ চন্দ্র দাশ।
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাসহুদ চৌধুরী বললেন, ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীদের সেশনকাল বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা হবার কথা ছিল, এখন জুনে পরীক্ষা হবে। সিলেট মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফি নেওয়া হচ্ছে, এজন্য আমরাও নেওয়া শুরু করেছি, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ফি নেবার নির্দেশনা দেওয়া হয় নি, না নেবারও কোন নির্দেশনা নেই। তবে পাঠদান চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাঠদান করলে খরচ আছে, এইজন্য ফি নেওয়া হচ্ছে। পরে কর্তৃপক্ষ ফি না নেবার জন্য বললে, আমরা টাকা ফেরৎ দেব।
টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’এর সভাপতি অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু বললেন, সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া এভাবে টাকা আদায় করা যুক্তিসঙ্গত নয়। ঠিকমত পাঠদান না হওয়ায় হতাশায় শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। এরমধ্যে টিফিনের টাকাও আদায় হচ্ছে, যেখানে পাঠদান হচ্ছে না, টিফিন দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে সেশন ফি বা টিফিন ফি আদায় করা ঠিক হবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে রশিদ থাকা জরুরি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, এই বিষয়ে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায় নি। তারা কিভাবে টাকা আদায় করছেন তাদেরই বলতে হবে।