ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে পুরাতন বিচারালয় এলাকাটি সংরক্ষণ প্রয়োজন

শহরের পুরাতন বিচারালয় এলাকাটি সংরক্ষণ ও দৃষ্টিনন্দন করার প্রস্তাব উঠে এসেছে শহরের বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে। গতকাল এ নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পুরাতন বিচারালয়ের পার্শ্ববর্তী পুরাতন কালেক্টরেট এলাকাটি নানাভাবে সজ্জিত হয়েছে। এখানে ঐতিহ্য জাদুঘরসহ একটি মুক্তমঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে পুরাতন কালেক্টরেট এলাকাটি মানুষের প্রিয় ও পছন্দের একটি জায়গায় পরিণত হয়েছে। এরকম একটি জায়গার ঠিক পাশেই অবস্থিত পুরাতন বিচারালয়টি রয়ে গেছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। পরিত্যক্ত থাকার কারণে এখানে বিভিন্ন জঞ্জাল তৈরি হচ্ছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে এই ভবনের জায়গা বেহাত হয়ে পড়ারও আশংকা রয়েছে। পাশাপাশি অবস্থিত এই দুইটি ঐতিহ্যম-িত ঐতিহাসিক স্থাপনার ব্যাপারে জেলাবাসী সংবেদনশীল। এই দুই জায়গাকে ঘিরে বহু জনের রয়েছে বহু অম্ল-মধুর স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা। তাই সকলেই চান পুরাতন কালেক্টরেটের মতো পুরাতন বিচারালয়টিও দৃষ্টিনন্দনভাবে সংরক্ষণ করা হোক।
প্রশাসনিক ও বিচারিক কাজের প্রয়োজনে সেই ব্রিটিশ আমলে এখানে প্রশাসনিক ভবন ও বিচারালয় গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন এই স্থাপনা দুইটি এতদঞ্চলের প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ফলে উভয় স্থাপনাই ঐতিহাসিক চরিত্র লাভ করেছে। যে ভবন দুইটি দীর্ঘদিন একটি এলাকার শাসন ও নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত ছিল সেই ভবনও ইতিহাসের অন্যতম উপাদান বটে। ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা যেকোনো সভ্য জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইতিহাসের আনন্দ, বেদনা, অব্যক্ত যন্ত্রণা সবকিছুই বাঙ্ময় হয়ে উঠে ঐতিহাসিক স্থাপনায়। সেই জায়গা থেকে পুরাতন বিচারালয়টি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে এই অঞ্চলের বহু প্রাচীন ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। এই জায়গা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ জনপদের দুই শতাব্দীর ইতিহাসকে স্মরণ করার একটি প্রয়াস পাবে।
নতুন বিচারালয় এলাকায় এখন বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। সংগত কারণেই ধরে নেয়া যায় পুরাতন ভবনটিতে ভবিষ্যতে কোন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার প্রয়োজন হবে না। ব্যবহারাধীন না থাকলে অযতœ ও সংস্কারের অভাবে ভবনটি একসময় ধ্বংস হয়ে যাবে। এগুলো ধ্বংস হলে এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাসের একটি ধারার বিলুপ্তি সাধন ঘটবে। এটি কারও কাম্য নয়। তাই কোন্ উপায়ে ভবনটি সংস্কার ও ব্যবহার করা যায় তা ভেবে দেখার এখনই সময়।
এ বিষয়ে আমরা কিছু প্রাথমিক প্রস্তাবনা তুলে ধরতে পারি। পুরাতন বিচারালয়ের ভবনগুলোকে বিচারসংক্রান্ত জাদুঘরে পরিণত করা যেতে পারে। এই অঞ্চলে বিচার ব্যবস্থার প্রচলন ও এর বিকাশের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক উপাদানসমূহ এখানে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এই আদালত থেকে ঘোষিত অতিগুরুত্বপূর্ণ রায়ের কিছু ধারাবর্ণনা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিচার বিভাগের ক্রমবিবর্তনের উপর সংক্ষিপ্ত ধারণা লাভের উপকরণ রাখা যেতে পারে। এই বিচারালয়ের অনেক উপাদান নিশ্চয়ই এখনো রয়েছে, দ্রুত এগুলো আধুনিক উপায়ে সংরক্ষণ করা না গেলে ধ্বংস হয়ে পড়বে। ভবনের বাইরের আঙ্গিনাটিকে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার জন্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এখানে শিশুদের জন্য কিছু করা যায় কিনা তাও বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। এরকমটি হলে পুরাতন কালেক্টরেট থেকে নতুন শিল্পকলা একাডেমি হয়ে পুরাতন শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাটি একটি সংস্কৃতি-ক্রিড়াঞ্চল হয়ে উঠবে। এতে এলাকাটি যেমন দৃষ্টিনন্দন হবে তেমনি সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও অনুশীলনের সুযোগ বাড়বে। এখানে আরও নতুন নতুন সৃজনশীল চিন্তা যুক্ত হতে পারে। তবে সবার আগে এলাকাটি সংরক্ষণ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে।
আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন।