ওএমএসের চালের বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যবস্থা নিন

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার তাহিরপুর উপজেলার ওএমএস চালের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে, অনেকেই দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও চাল না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সংবাদে প্রকাশিত তথ্য মোতাবেক তাহিরপুর উপজেলা সদরে ২ জন ডিলারের মাধ্যমে জনপ্রতি ২ মেট্টিকটন করে চাল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা চালু ছিলো। গত ১৭ অক্টোবর থেকে ডিলারদের দৈনিক বরাদ্দ অর্ধেকে নামিয়ে এনে ডিলার প্রতি ১ মেট্টিকটন করে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিলারদের বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ার কারণেই ওএমএস চাল কিনতে আসা বহু লোক এখন চাল কিনতে বিফল হচ্ছেন। সুনামগঞ্জ অঞ্চল বোরো প্রধান হওয়ার কারণে আগে কার্তিক মাসে অভাব দেখা দিত। যথেষ্ট কমসংস্থান তৈরি ও ধান উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ার কারণে অন্তত দুই দশক ধরে এই অভাব তেমন দেখা যেত না। কিন্তু এবার আবারও হাওরাঞ্চলের পল্লীগুলোতে আগের মতো কার্তিকের তীব্র অভাব ফিরে এসেছে। এই অভাবের প্রধান কারণ হলো গত বৈশাখে আগাম বন্যা ও দুর্বল বাঁধ ভাঙার কারণে ব্যাপকভাবে বোরো ফসলের হানি ঘটা। ২০১৭ সনের পর ২০২২ সনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপকভাবে বোরো ফসল বিনষ্ট হয়। এই ফসল হানির পরপরই নেমে আসে ইতিহাসের ভয়ানকতম বন্যা। এই বন্যা কৃষকদের কাঁচা বসতঘর ধ্বংস করে দেয়, ঘরগেরস্থালী সামগ্রী ভাসিয়ে নেয়। ফসল হানির সাথে এই বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। এরই পরিণতি হিসাবে কার্তিকের তীব্র অভাবের আগমন ঘটেছে। সরকার এই অভাব মোকাবিলার জন্যই ওএমএসে চাল বিক্রি সহ নানা ধরনের সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। হাওরাঞ্চলের তীব্র অভাবের সময়ে যখন ওএমএসে চাল বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো উচিৎ সেখানে হঠাৎ করে এই বরাদ্দ অর্ধেকে নামিয়ে আনার কারণ বোধগম্য নয়।
হাওরাঞ্চলের প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। বোরো ফসল গোলায় উঠলে হাওরের মানুষের মুখের হাসি চওড়া হয়। আর যে বছর বোরো ধানের বিপর্যয় নেমে আসে সে বছর মানুষের মুখও ঘন আঁধারে ঢাকা পড়ে। এবারের অবস্থা সেরকম। গ্রামে গ্রামে এমন বহু কৃষক পরিবার আছে যারা কখনও সাহায্যের লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন না। এরা নিজেদের অভাবগ্রস্ত দুরবস্থা প্রকাশে সর্বদা কুণ্ঠা অনুভব করেন। এই ধরনের সংকটাপন্ন নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা হাওরাঞ্চলে প্রচুর। এরা এখন সবচাইতে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। ওএমএসে চাল বিক্রির সুবিধা বজায় থাকলে এই ধরনের সংকটাপন্ন পরিবারসহ নি¤œবিত্ত পরিবারগুলোর অন্তত ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করতে পারে। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বছরব্যাপী সহায়তা কর্মসূচী চালু রাখার। এই সেদিনও খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন দেশে খাদ্যের ভালো মজুদ আছে। কার্যত তাহিরপুরে ওএমএস’র বরাদ্দ হ্রাস করে ওই প্রতিশ্রুতি রক্ষার বদলে ভঙ্গ করার বাস্তবতা আমরা লক্ষ করছি যা নিতান্তই দুঃখজনক। তাহিরপুরের উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওএমএস’র বরাদ্দ কম স্বীকার করে এই বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি পাঠানোর কথা বলেছেন। এমন অভাবের তীব্রতা কেবল তাহিরপুরের নয়। পুরো জেলাতেই একই ধরনের অবস্থা বিরাজমান। বাজারে দ্রবমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন উর্দ্ধগতি অবস্থাকে বেসামাল করে তুলেছে। সুতরাং মানুষকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই সরকারের সহায়তা কর্মসূচিগুলোর সংকোচন নয় আরও বেশি করে সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে।
তাহিরপুরসহ জেলার সর্বত্র ওএমএস’র চালের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং প্রকৃত অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোই যাতে এই সুবিধা পেতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। কালক্ষেপণ নয় দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।