ওভালে সাকিব রূপকথা

সু.খবর ডেস্ক
মাইলফলক থেকে ছোঁয়া দূরত্বে ছিলেন সাকিব আল হাসান। সবচেয়ে কম ম্যাচে পাঁচ হাজার রান ও আড়াইশ’ উইকেটের রেকর্ড গড়তে একটি উইকেট প্রয়োজন ছিল তার। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করামকে বোল্ড আউট করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ব্যান্ড হয়ে ওঠা সাকিব। এই রেকর্ড তার আগে কেবল চারজন করেছেন। যদিও তাদের সবারই ২০০ ম্যাচের বেশি লেগেছে। ২৫৮ ম্যাচে এই ‘ডাবল’ অর্জন করেন পাকিস্তানের রাজ্জাক। আফ্রিদির লেগেছিল ২৭৩ ম্যাচ, জ্যাক ক্যালিস ২৯৬ ম্যাচে আর জয়সুরিয়া করেছেন ৩০৪ ম্যাচে। যেখানে মাত্র ১৯৯ ম্যাচ থেকে ৫ হাজার ৭৯২ রান ও ২৫০ উইকেট দখলে নিলেন সাকিব। এ ছাড়া প্রোটিয়াদের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচে বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার আরও কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। টানা চার বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। মুশফিকের সঙ্গে বিশ্বকাপে দেশের সর্বোচ্চ ১৪২ রানের জুটিতেও ছিলেন তিনি। আর এ ম্যাচে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন সাকিব। আর জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
কেনিংটন ওভাল, সাকিবের জন্য মোটেও সুখকর মঞ্চ ছিল না। রোববারের আগে এই ভেন্যুতে তিনি দু’বার নেমেছেন ব্যাট হাতে। কোনোবারই আলো ছড়াতে পারেননি দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। এক ম্যাচে করেন ৮ বলে ১০ রান, আরেক ম্যাচে ৪৮ বলে ২৯। এমন অস্বস্তির ছায়া যেখানে লেগে আছে, সেই ওভালই এবার কি-না সাকিবকে দিয়েছে দু’হাত ভরে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ওয়ানডের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার তকমা নিয়ে উড়ে যান ইংল্যান্ডে। ওয়ার্মআপ ম্যাচে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। তার পরও ক্রিকেটবোদ্ধাদের আলোচনার টেবিলে ছিল এই সাকিবের নাম। কেউ বলেছেন প্রতিপক্ষের জন্য এক্স-ফ্যাক্টর, কারও চোখে ছিলেন ডেঞ্জারম্যান। প্রথম ম্যাচেই বোধ হয় তার নমুনা মিলল হাতেনাতে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে সাকিবের প্রয়োজন ছিল মাত্র পাঁচ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ হাজারি ক্লাবে নাম লেখাতে এটা নিশ্চয়ই তার জন্য কঠিন কিছু ছিল না। যদিও তার আগে বাংলাদেশের হয়ে কেবল তামিম ইকবাল এই ঘর থেকে ঘুরে এসেছেন। এ দিন যখন ১৬ রানের মাথায় ফেলুকাওয়ের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তামিম। তখন যেন তার রেকর্ড টপকানোর কাজটা আরও সহজ হয়ে গেল।
২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাকিবের। সে থেকে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের ক্রিকেট রাঙিয়ে চলেছেন। এই মুহূর্তে ১১ হাজার রানের মধ্যে তার নামের পাশে রয়েছে টেস্টে তিন হাজার ৮০৭। ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার ৭৯২ ও টি২০-তে এক হাজার ৪৭১ রান। এই তিন ফরম্যাটের মধ্যে টি২০ বাদে বাকি দুটিতে শতকের সংখ্যা আবার এক ডজন।
২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে অভিষেক বিশ্বকাপ খেলতে নামেন সাকিব। সে আসরে পোর্ট অব স্পেনে ভারতের বিপক্ষে স্বরণীয় এক জয় পায় বাংলাদেশ। যে জয়ের ভিত গড়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন সাকিব। ওই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৩ রান। এরপর ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপ। চেনা পরিবেশ আর গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সামনে প্রথম ম্যাচেই জ্বলে ওঠে সাকিবের ব্যাট। আবারও প্রতিপক্ষ ভারত, সাকিব খেলেন ৫০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস। চার বছর পর এলো ২০১৫, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড হলো ১১তম আসরের যৌথ আয়োজক। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করবে বিশ্বকাপ। সেখানেও সাকিব, আফগানদের বিপক্ষে খাদের কিনারায় থাকা বাংলাদেশকে টেনে তুলতে করেন ৫১ বলে ৬৩ রান। চলমান টুর্নামেন্টের আগে এটাই ছিল সাকিবের বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ। কিন্তু গতকাল নিজেকে আরও ছাড়িয়ে গেলেন।
সূত্র :সমকাল