ওষুধ সংকটে বেলাবরহাটী কমিউনিটি ক্লিনিক

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেলাবরহাটী কমিউনিটি ক্লিনিক ৮ গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ না থাকায় এবং লোকবল সংকট থাকায় সেবা গ্রহিতাদের বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ ও লোকবল বাড়ানোর দাবি সেবা গ্রহিতাদের।
বেলাবরহাটী কমিউনিটি ক্লিনিক হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা যাতায়াত সড়কের পাশে বেলাবরহাটী গ্রামে অবস্থিত। ২০০০ সালে এই ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করতে গ্রামের বাসিন্দা ক্বারী মোহাম্মদ হোসেন ৫ শতাংশ জায়গা দান করেন।
প্রতিদিন বেলাবরহাটী কমিউনিটি ক্লিনিকে বেলাবরহাটী, ষোলঘর, বালিকান্দি, হালুয়ারগাঁও, রহমতপুর, বেরীগাঁও, জগন্নাথপুর ও মইনপুর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানের রোগীরা সেবা নিতে আসেন। প্রতিদিন শিশু, মহিলা ও পুরুষসহ ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী আসেন এই কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে। কিন্তু ওষুধের পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সকল রোগীকে সকল রোগের ওষুধ দেয়া সম্ভব হয় না।
মঙ্গলবার সকালে বেলাবরহাটী কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে কথা হয় সেবা নিতে আসা একাধিক রোগীর সাথে। তাঁরা জানান, এই ক্লিনিকে আমরা সব সময় সেবা নিতে আসি। কিন্তু পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ না থাকায় আমরা কোনো কোনো সময় ওষুধ পাই না। লোকবল সংকট থাকায় সহজে ডেলিভারী করাতে পারি না, অপেক্ষায় থাকতে হয়।
বেলাবরহাটী কমিউনিটি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান, ২৭ প্রকারের ওষুধ আমাদের ক্লিনিকে বরাদ্দ দেয়া হয়। সেবা গ্রহিতার তুলনায় এই ওষুধ পর্যাপ্ত নয়। এই ক্লিনিকে ১জন কমিউনিটি হেলথ
কেয়ার প্রোভাইডার, ১ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও ১জন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী রয়েছেন।
হালুয়ারগাঁও গ্রামের আতরজান বিবি বলেন,‘বয়স হয়েছে, শরীরে রোগে বাসা বেঁধেছে। শহরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারি না। এই ক্লিনিকে এসে ওষুধ নেই। রোগও ভাল হয়। কিন্তু সকল রোগের ওষুধ পাওয়া যায় না এই ক্লিনিকে।’
বেলাবরহাটী গ্রামের গোলাপ বানু বলেন,‘গ্রামে এই ক্লিনিক থাকায় রোগে আক্রান্ত হলে সহজে সেবা নেয়া যায়। তবে ডেলিভারী রোগীর সঠিক সেবা যতেœর লোক নেই। শহরে যেতে হয় প্রসুতি রোগীকে নিয়ে।’
ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা রুনা বেগম বলেন,‘আমাদের মেয়েলী রোগের জন্য এই ক্লিনিকে এসে সেবা নেই। ভালও হই। কিন্তু ওষুধ বরাদ্দ বাড়াতে হবে।’
সেবাগ্রহিতা সিদ্দিক মিয়া ও রহিম উদ্দিন বলেন,‘এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা ভাল হলে এবং লোকবল থাকলে আরও বেশি ডেলিভারী করা সম্ভব হতো।’
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর মো. তানজিল মিয়া বলেন,‘ কমিউনিটি ক্লিনিকে ডেলিভারী করার যন্ত্রপাতি সংকট আছে, জনবলেরও সংকট আছে। আসবাবপত্রেরও সংকট রয়েছে। যন্ত্রপাতি ও জনবল এবং ওষুধ বরাদ্দ বাড়ালে আরো বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। বেশি পরিমাণে ডেলিভারী করাও সম্ভব হবে।’