ওয়াজখালী কান্দিপাড়া সড়কের বেহাল দশা

স্টাফ রিপোর্টার
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ওয়েজখালী গ্রামের কান্দাপাড়া রাস্তার বেহাল দশা। ইট দিয়ে তৈরি ৬০০ ফুট রাস্তার অনেক এবড়ো থেবড়ো হয়ে আছে। সরু এই সড়কের ইটের সারি উঠে যাওয়ায় স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দ। সড়কের ইট সড়ে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কটি এলাকাবাসির জন্য অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তভোগিরা।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ওয়েজখালী গ্রামের কান্দাপাড়া রাস্তার গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান সড়কের বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। ইটের সড়কটির একাদিক জায়গায় ভেঙে গিয়ে অনেক ছোট-বড় গর্তের তৈরি হয়েছে। ভাঙা রাস্তার চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকাবাসির। এছাড়াও বর্ষাকালে সড়কটিতে পানি উঠে যায়। হাটু পরিমাণ পানি সহ সড়কের কোনো কোনো জায়গায় কোমড় সমান পানি থাকে। এসময় পাড়াটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে ওয়েজখালী গ্রামের।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়েজখালী গ্রামের সাথে কান্দাপাড়ার একটি সংযোগ সড়ক আছে। প্রায় ৬০০ ফুট রাস্তাটি ইটের সারি করে তৈরি। রাস্তাটি অনেক পুরাতন হওয়ায় সড়ক থেকে ইট সরে গিয়ে অনেক খানা- খন্দ তৈরি হয়েছে। কোথায়ও সড়ক ভেঙে ইট পাশের ডুবায় গিয়ে পড়েছে।
ফলে রাস্তাটি মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে।
এদিকে কান্দাপাড়ার পরেই লাখাইর হাওর ও খাচলইর হাওরের অবস্থান। এই হাওরে কান্দাপাড়া সহ ওয়েজখালীর বাসিন্দারা জমি চাষ করেন। হাওর থেকে ধান বাড়িতে আনার রাস্তা কান্দাপাড়ার এই সড়কটি। সড়কের এই রকম বেহাল দশা হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন একালাকর প্রায় ১২০০ মানুষ।
জানা যায়, বৈশাখ মাসে ওয়েজখালী গ্রামের কৃষকদের ধান বাড়ি আনতে পারেন না সড়কের বেহাল দশার কারণে। লেগুনা তো দূরে থাক সামান্য ঠেলা গাড়ি করে ধান আনা যায় না। ফলে কৃষকদের মাথায় করে ধান পরিবহণ করতে হয়। এতে সময় ও অতিরিক্ত শ্রম দিয়ে হয় তাদের।
কান্দাপাড়ার বাসিন্দা লাল মিয়া (৫৩) বলেন, এই সড়ক দিয়া চলা যায় না। সড়কের সবকানে ভাইঙা গেছে। সড়কের যতটুকু ইট আছে একটু বৃষ্ট হলে সেগুলান পিছলা হয়ে যায়। তখন আর চলা না।
একই পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ (৩৫) বলেন, বাইরা মাসে (বর্ষাকালে) এই সড়কে পানি উইঠা যায়। কখন সড়কের বালা-মন্দ (ভাঙা অংশ) কিছুই দেখা যায় না। অনেক দুর্টনায় পড়তে হয়। গত বাইরা মাসে একজনের পা ভাঙছে।
বিল্লাল মিয়া (৫০) বলেন, পানির সময় রাস্তা তলইযায়। তখন রাস্তা সহ সমস্ত বিলে জারমুনি গাছে ভইরা যায়। আমরা ঘর থাইকা বার হইতে পারি না তখন। অনেক উপাস থাকতে হয়। এখন তো পানি কমছে। গত পানির সময় আমরা ৪ দিন উপাস আছিলাম।
কান্দাপাড়ার বাসিন্দা মো. মাখন মিয়া (৭২) বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছি আমাদের এই রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছেন না।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকোশলী মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েকদিনের ভেতরেই আমাদের রাস্তার কাজের একটা প্রজেক্ট শুরু হবে। তবে আমাদের এই প্রজেক্টে এই রাস্তাটির কাজ নেই। এটা অপেক্ষমান আছে। পরবর্তীতে আমরা কান্দাপাড়ার সড়কটির কাজ শুরু করবো।