ওয়েজখালি এলাকার ব্যস্ততম সড়ক অংশ নিরাপদ হোক

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের শহরতলির ওয়েজখালি এলাকায় সড়কের উভয় পাশ জুরে গড়ে উঠা দোকান পাট নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইতোপূর্বে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এইসব দোকানপাট ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন পরই উচ্ছেদকৃত জায়গা আবারও যথারীতি পুনর্দখল হয়ে দোকান পাট গজিয়ে উঠতে দেখা গেল। সড়কের কিনারে এইসব দোকান পাট গড়ে উঠে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর মদদে। যারা এইসব অস্থায়ী দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করেন তারা এই প্রভাবশালীদের নিয়মিত ভাড়া দিয়ে থাকেন। সরকারি জায়গা দখল করে যে অনৈতিক অর্থনৈতিক কর্মকা- সারা দেশে চলছে ওয়েজখালির এই উপসর্গটি তার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এখানে কোনো একক পক্ষের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে এমন অবৈধ কর্মকা- পরিচালনা করা সম্ভবপর নয়। সামনে কিছু তথাকথিত প্রভাবশালী আছে, এদের শনাক্ত করা কঠিন কাজ নয়। তবে এদের পিছনে আরও বড় বড় কোন শক্তি মদদ দিচ্ছে তা কখনও জানা যাবে না। জায়গা সড়ক বিভাগের। সড়কের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসন তথা ট্রাফিক বিভাগের। সকলের চোখের সামনেই যখন এমন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবারও গজিয়ে উঠতে পারে তাহলে এটি ভাবলে কি ভুল হবে যে, এর পিছনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু ব্যক্তির যোগসাজস রয়েছে?
ওয়েজখালি সুনামগঞ্জ শহর থেকে নিষ্ক্রমণ ও শহরে ঢুকার প্রধান জায়গা। এই জায়গায় সবসময় যানবাহনের ভিড় লেগে থাকে। ফলে সড়কের দুইপাশে গড়ে উঠা দোকানপাট ও সেগুলোর ক্রেতা-বিক্রেতাদের জটলার কারণে এই জায়গাটি অতিশয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল সড়কের কিনারা ঘেঁষে দোকানগুলোর অবস্থান হওয়ায় সড়কের উপরে ক্রেতার ভিড় জমে উঠে। এতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত ঝামেলার সম্মুখীন হয়। যানজট, জনজটে ওয়েজখালির সড়কটি সর্বদাই পথচারীদের জন্য আতংকের কারণ হয়ে রয়েছে। এই অবস্থার স্থায়ী সমাধান দরকার।
আমরা আইন মানতে অভ্যস্ত জাতি হয়ে উঠতে পারিনি। তাই উচ্ছেদের পরও আবারও পুনর্বাসিত হয়ে পড়ি স্বউদ্যোগে। পুনঃ পুনঃ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে আইনপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সভ্য সমাজের রীতি অনুসরণ করে আইন মানার গণসংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে এই ধরনের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন বটে। কিন্তু তাই বলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে আইনপ্রয়োগকারীদের কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। উচ্ছেদের পর পুনরায় যারা দখলদার হয়ে আসে এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। সাজার ভয়ে যাতে দ্বিতীয়বার এরা সরকারি জায়গা দখলের সাহস না দেখাতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। যে ছিঁচকে প্রভাবশালীরা স্থানীয়ভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ কর্মকা-ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশ্রয় দান বন্ধ করতে হবে।
সড়কে শৃুঙ্খলার অভাবে বহু অমূল্য প্রাণ ঝরে যেতে দেখি আমরা প্রতিনিয়ত। প্রাণ না গেলেও পঙ্গু হয়ে পড়েন আরও বহু লোক। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ছাত্র তরুণরা অভূতপূর্ব সড়ক আন্দোলন গড়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল। এখন সড়ক নিরাপত্তা আইন হয়েছে। সরকার এই আইন প্রয়োগের ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে প্রথমে বুঝিয়েছিলেন। যদিও এখন ততটা তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। সড়কের পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোও নিশ্চিতভাবেই সড়ক নিরাপত্তার সাথে জড়িত। ওয়েজখালি এলাকার ব্যস্ততম সড়ক অংশটুকু পথচারী ও যানবাহনের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠুক এই আমাদের কামনা।