ওয়েজখালী গ্রীড স্টেশন চালু

বিশেষ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার রাত থেকে সুনামগঞ্জের নতুন পাওয়ার গ্রীড স্টেশন পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হয়েছে। রাত ১০ টায় সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ ও দিরাই বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন নতুন পাওয়ার গ্রীড স্টেশনের সঙ্গে। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জের নতুন গ্রীড স্টেশনকে জাতীয় গ্রীডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সুনামগঞ্জের নতুন পাওয়ার গ্রীড স্টেশন ৬০ থেকে ৭৮ এমবিএ (৫৪ থেকে ৭০ মেগাওয়াট) পর্যন্ত বিদ্যুৎ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ শহরতলির ওয়েজখালিতে (ইকবালনগরের পাশে) নির্মিতব্য পাওয়ার গ্রীড স্টেশন এবং ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের টাওয়ার বসানোর কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
২০১২-১৩ সালে শহরতলির ওয়েজখালীতে এই পাওয়ার গ্রীড স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৪ সালে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে একসঙ্গে দেশের ১০ টি স্থানে ৯৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পাওয়ার গ্রীড স্টেশনের কাজ শুরু হয়।
নতুন পাওয়ার গ্রীড স্টেশনে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. দুলাল মিয়া বলেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল জাতীয় গ্রীড থেকে ১৩২ কেভি নতুন বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের নতুন গ্রীড স্টেশনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়। ২৪ এপ্রিল থেকে শুক্রবার (৪ মে পর্যন্ত) পর্যন্ত ঐ লাইনে এক মিনিটের জন্যও ত্রুটি দেখা দেয়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়নি। কিন্তু সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ ঐ লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিতে প্রস্তুত না থাকায় সরবরাহ শুরু করতে কয়েক দিন বিলম্ব হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে সুনামগঞ্জ ও দিরাই বিদ্যুৎ বিভাগ নতুন পাওয়ার গ্রীড স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করছে। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন গ্রীড স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে আরও এক সপ্তাহ্ লাগবে।’ তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার পর থেকে ছাতক থেকে সুনামগঞ্জে আসা ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ লাইনে কোন ত্রুটি দেখা দেয়নি। সুনামগঞ্জ ও দিরাইয়ের গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বিদ্যু সরবরাহ কখনোই বন্ধ হয়নি। সুনামগঞ্জের গ্রাহকরা এই সময়ে বিদ্যুৎ না পেয়ে থাকলে অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটির কারণে হয়তো বিদ্যুৎ পাননি। প্রকৌশলী দুলাল মিয়া জানালেন, গ্রাহকদের অতি প্রয়োজনীয় বিধায় নতুন পাওয়ার গ্রীড স্টেশনটি পরীক্ষামুলক ভাবে চালু হয়েছে। এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে হবে।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ-ছাতকের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন জীর্ণ-শীর্ণ থাকায় আকাশে মেঘ দেখা দিলেই হয় এই বিদ্যুৎ লাইনে সরবরাহ্ বন্ধ করে দেওয়া হতো। না হয় সামান্য বৃষ্টি বা বজ্রপাত হলেই লাইনে ত্রুটি দেখা দিতো এবং সরবরাহ্ বন্ধ হয়ে যেতো। দীর্ঘদিন ধরে এমন ভোগান্তিতে ছিলেন সুনামগঞ্জবাসী। বিগত দুই বছর রমজান মাসে বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে অতিষ্ট গ্রাহকরা সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছিলেন।