ঔষধ ব্যবসায় সর্বোচ্চ মানবিকতা ও নৈতিকতা বজায় থাকুক

গত সোমবার শহরের একটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখার দায়ে ওই ফার্মেসির দুই কর্মীকে ৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগেও শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে অনুরূপ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনরক্ষাকারী ঔষধ সংরক্ষণসহ নানা কারণে জরিমানা করার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু এইসব অভিযানের ফলে যে অবস্থার তেমন কোন হেরফের হয় না সর্বশেষ একটি ফার্মেসির দুই কর্মীকে কারাদ- দেয়া তার প্রমাণ। বিষয়গুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকারক হলেও অল্প কিছু ফার্মেসি এই অনৈতিক কাজগুলো বেমালুম চালিয়ে যান শুধুমাত্র কিছু অতিরিক্ত মুনাফার আশায়। যে ব্যবসায় মানুষের জীবন মরণের প্রশ্ন জড়িত সেখানে সর্বোচ্চমাত্রায় মানবিকতা ও নৈতিকতা থাকার দরকার হলেও বাস্তবে তার বিচ্যুতি দেখা যায় প্রায়শই । এই দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতার মাঝেই চলেছি আমরা। জেলা সদরের নাকের ডগায় যেখানে প্রায়শই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সহ ঔষধ পরিদর্শকরা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন, সেখানেই যদি এমন অবস্থা হয়, তখন গ্রামাঞ্চলে যেখানে মূলত কোন ধরনের তদারকি ব্যবস্থা চালু নেই সেখানে কী ঘটছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বল্পশিক্ষিত কিংবা নিরক্ষর। কিন্তু আমাদের চিকিৎসকগণ ব্যবস্থাপত্র লিখেন ইংরেজিতে। তাঁদের হাতের লিখা সাধারণের পক্ষে বুঝা দুঃসাধ্য। ওই লেখা বুঝতে পারেন কেবল ফার্মেসির লোকজন। ব্যবস্থাপত্রে ঔষধ সেবনের নিয়মকানুন লিখা থাকে সংক্ষেপে। রোগীরা এসব ব্যবস্থাপত্রের কিছুই বুঝেন না। ঔষধ, সেবনের নিয়ম সবকিছুর জন্য রোগীদের ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর উপর নির্ভর করতে হয়। এখন ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীরা যদি ভুলভাল ঔষধ দিয়ে দেন অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ গছিয়ে দেন কিংবা ঔষধ সেবনের নিয়মগুলো ভালভাবে বুঝিয়ে না দেন, তাহলে রোগীর রোগ কমার বদলে সেটি যে আরও জটিল আকার ধারণ করবে তা বলাই বাহুল্য। এই জায়গায় ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের সংবেদনশীল ও মানবিক আচরণ কাম্য হলেও মাঝে মধ্যে এর ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায়। আমরা এও জানি, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আমাদের ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীরা যে সেতুবন্ধের কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করে আসছেন তা আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য একটি ভাল দিক। এই ভালদিকটি যখন কারও অবিবেচনাপ্রসূত কাজের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন আফসোস হয় বৈকি। এই জায়গায় ফার্মেসি ব্যবসায়ীদেরই সচেতন উদ্যোগ গ্রহণ করে তাদের পেশার জন্য নেতিবাচক প্রবণতা ও উপসর্গগুলোকে দূর করতে হবে।
আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফার্মেসিগুলোর ভূমিকা ফেলনা নয়। এখনও সাধারণ অসুখ-বিসুখে, ক্ষেত্র বিশেষে কিছু জটিল ক্ষেত্রেও, অস্বচ্ছল লোকজন অনেক টাকা খরচ করে ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করার অসামর্থের কারণে, ফার্মেসির দ্বারস্থ হন। ফার্মেসির অভিজ্ঞ বিক্রয়কর্মীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও এতদসংক্রান্ত আয়ত্বকৃত কিছু বিদ্যা দিয়েই এই বৃহৎ শ্রেণিটিকে কোন ধরনের ফি ছাড়া চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যবস্থাটি না থাকলে আমাদের জনগণ চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির জায়গায় আরও অনেক বিড়ম্বনাকর অবস্থায় পতিত হতেন। এমন যে জনহিতকর দায়িত্ব পালন করছেন যারা, তাঁদের সম্পর্কে যেকোন নেতিবাচক কথাবার্তা আমাদেরকে পীড়িত করে। তাই আমরা এই জায়গায় সর্বোচ্চ মানবিকতা ও নৈতিকতার দৃঢ়িকরণ দেখতে আগ্রহী।