কচ্ছপের গতিতে চলছে ফাইল

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সীমান্ত এলাকার প্রস্তাবিত ডলুরা স্থলবন্দরের জমি অধিগ্রহণের ফাইল চলছে কচ্ছপের গতিতে। একবছরেও জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। একবছর ধরে কেবল ফাইল চালাচালি চলছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা যায়।
গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন এনবিআরের চেয়ারম্যান (বর্তমানে মুখ্য সচিব) নজিবুর রহমান ডলুরা এলাকা পরিদর্শন করে বলেছিলেন,‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এখানে বন্দর চালুর বিষয়ে আন্তরিক, তাই দ্রুত এখানে স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখানে স্থলবন্দর হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। সুনামগঞ্জের অনেক অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। এই বন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।’ এখানে বন্দর চালু করার জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সুনামগঞ্জের ডলুরায় ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলেও সীমান্তের ওপাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানী রপ্তানী করা হয়নি। এর মধ্যেই (২০০৮ সালে) সীমান্তের ওপারের সড়ক নির্মাণ এবং এপারে নৌ ও সড়ক পথের সুবিধা হয়েছে। এখানে স্থল বন্দর চালুর জন্য সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর ভারতের মেঘালয়ের একটি শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ও সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সাথে যৌথভাবে ডলুরা এলাকা পরিদর্শন করেন।
এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ শুল্কস্টেশন চালুর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পৃথক পৃথক আধাসরকারিপত্র দিয়েছিলেন।
বুধবার জেলা প্রশাসকের এল এ শাখায় এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সার্ভেয়ার আজমল হোসেন বলেন,‘ডলুরা স্থল বন্দরের জমি অধিগ্রহণের জন্য সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রস্তাবিত ১০ একর জমিই সরকারি খাস জমি, এজন্য এসএ শাখায় এই ফাইল পাঠিয়ে বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া করার জন্য লিখে দিয়েছি।’
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান বললেন,‘ডলুরা স্থল বন্দরের প্রস্তাবিত জমি সরেজমিনে দেখে স্কেচম্যাপ করে বছর খানেক আগে এসএ শাখায় পাঠিয়েছি আমরা।’
ডলুরা স্থল বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিলেট কাস্টমস্ বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমেদুর রেজা চৌধুরী’র মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
সিলেট কাস্টমস অফিসের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মচারী নাম উদ্ধৃত না করার অনুরোধ করে বললেন, ‘ডলুরা স্থল বন্দর চালুর অগ্রগতি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানবেন। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মহোদয়কে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ শাখা এই চিঠি প্রাপ্তির কয়েক মাস পর চিঠি দিয়ে সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করতে হবে। আমরা দুয়েক দিনের মধ্যেই জমি বন্দোবস্ত দেবার জন্য আবেদন করবো।’
সুনামগঞ্জ কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন বলেন,‘ডলুরা স্থল বন্দরের অগ্রগতি দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিলেট কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমেদুর রেজা । তাঁর পক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ৬ মাস হয় যোগাযোগ রাখছি, এখনও জমি বন্দোবস্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন,‘ডলুরায় ইমিগ্রেসনসহ বন্দর চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে, এজন্য সময় বেশি লাগছে। খুব শীঘ্রই এ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের বৈঠক হবে দিল্লীতে। ঐ বৈঠকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘আমার অফিসে কোন ফাইল আটক থাকে না। ডলুরা স্থল বন্দরের জমি বন্দোবস্তের আবেদন পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়ের অগ্রগতি কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার ভাল বলতে পারবেন।’