কঠোর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিকল্প নেই

নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন, মারা গেছেন দুইজন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। সংগত কারণেই সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে বিদেশফেরত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তবে নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদেশফেরতদের একটি অংশ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছেন। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টিনের নিয়ম না মানায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তির ওপর আর্থিক জরিমানামূলক শাস্তি প্রয়োগের ঘটনা উঠে এসেছে। তা সত্ত্বেও সবার হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ পরিপালন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস স্থানীয়ভাবে ছড়ানো (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) শুরু হচ্ছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। বিশেষত এদিক থেকে উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলো। এখন হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে না পারলে এ রোগের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। কাজেই বিষয়টি আমলে নিয়ে শুধু আর্থিক জরিমানা নয়, নির্দেশনা মানতে কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিকল্প নেই।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগের চেয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিদেশফেরতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুতই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং বিষয়টি হেলায় নেয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি মাদারীপুরের শিবচরকে যে লকডাউন করে দেয়া হয়েছে, এটি একটি সঠিক নির্দেশনার পদক্ষেপ। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলো চিহ্নিতপূর্বক সেগুলোয়ও এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে নিতে হবে। কোথাও কোথাও চলাচল সীমিত করে দিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা এবং প্রশাসনিক ক্ষিপ্রতা না বাড়ানোর ফল ইতালি, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে দৃশ্যমান। অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা আমলে নিয়ে এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের যাবতীয় অর্জন, সর্বোচ্চ প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও উন্নত অর্থনীতির দেশের পক্ষেও এ মহামারীতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যাপকতা সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে উঠছে। ফলে আতঙ্কের হাওয়া ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে, নানা দেশে। সেটি এরই মধ্যে দৃশ্যমান বাংলাদেশেও। বিশ্বপরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রেখে স্থির মস্তিষ্কে স্থানীয় পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই এখন জরুরি। এ ভাইরাসের সঠিক গতিবিধি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে না উঠলেও দেখা যাচ্ছে এ মহামারী মোকাবেলার সবচেয়ে সহজ ও সুলভ উপায় আপাতত সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা আর ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কিছু নিয়ম মেনে চলা। জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রের উচিত জনগণের কাছে পরিস্থিতির ব্যাপারে স্বচ্ছ থেকে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ সংকটের মোকাবেলা করা।