‘কঠোর নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করতে চেয়েছিল সে’

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক সুনামগঞ্জের মেয়ে ডা. প্রিয়াংকা তালুকদার শান্তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে প্রতিদিনই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শনিবার নাগরিক সমাজ ও ডা. প্রিয়াংকার সহপাঠীদের উদ্যোগে পৃথক পৃথক মানববন্ধন হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১ টায় শহরের আলফাত স্কয়ারে শুরু হওয়া পৃথক পৃথক মানববন্ধন চলে দুপুর ১ টা পর্যন্ত। মানববন্ধন বক্তারা বলেছেন,‘কঠোর নির্যাতন সহ্য করেও প্রিয়াংকা সংসারকে আঁকড়ে ধরেছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার।’
নাগরিক সমাজের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- কবি সুখেন্দু সেন, প্রিয়াংকার বাবা ঋষিকেশ তালুকদার, কবি রুহুল তুহিন, সাংবাদিক পঙ্কজ দে, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বিমান রায়, জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ, জেলা উদীচী’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট কল্লোল তালুকদার চপল, সাংবাদিক শামস শামীম, আশরাফ হোসেন লিটন, সাবেক ছাত্রনেতা সত্যজিৎ রায়, ছাত্রনেতা আসাদ মনি প্রমুখ।
ডা. প্রিয়াংকার সহপাঠিদের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ডা. কানিজ রব্বানি কথা, কৃষ্টি রায়, অর্চি কর, দেওয়ান জিসান এনায়েত রাজা চৌধুরী, সামির পল্লব, শিক্ষক নেতা রুহুল আমিন প্রমুখ।
পৃথক মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,‘প্রিয়াংকার স্বামী দিবাকর দেব, শ্বশুর সুভাস দেব ও শ্বাশুরি রতœা দাস অবিবেচক, অমানবিক ও নির্যাতক ছিলেন। একজন ডাক্তার মেয়েকে দিয়ে পুরো ডুপলেক্স বাড়ি মুছানো হতো, গায়ের রং কালো বলে তাঁকে কটুক্তি করা হতো, হাসপাতালে বা বাইরে ঘরের বউকে চাকুরি করতে নেই জানিয়ে বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হতো, বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি তাকে। চাপা স্বভাবের প্রিয়াংকা এসব নির্যাতনের কথা কাউকে জানাতো না, কিছু কিছু জানালেও সে নিজেই বলতো, সে একমাত্র ছেলের বউ, তাকে এসব ম্যানেজ করতেই হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তা পারেনি। ২ মাসের অন্তঃসত্বা অবস্থায় মরতে হয়েছে তাকে।’
তাকে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে দাবি করে সহপাঠিরা বলে,‘সে আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নয়, তাকে হত্যা করেই ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর মরদেহ ঝুলে থাকা অবস্থায়, শ্বশুর সিগারেট খাচ্ছিলেন, শাশুড়ি পানের বাটা হাতের কাছে রেখে পান চিবুচ্ছিলেন, প্রিয়াংকার বর ফোনে বিভিন্ন জনকে ঘটনা জানালেও পুলিশকে জানাননি । এমন ব্যবহারে মনে হয়, তারাই হত্যার জন্য দায়ী।’
গত রোববার সকালে সিলেট নগরীর পশ্চিম পাঠানটুলাস্থ পল্লবী সি ব্লকের ২৫ নম্বর বাসা থেকে জালালাবাদ থানা পুলিশ ডা. প্রিয়াংকা তালুকদার’এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ প্রিয়াংকার স্বামী দিবাকর দেব, শ্বশুর সুভাস দেব ও শাশুড়ি রতœা দাসকে রোববারই গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড চায়। আদালত সোমবার এদের ৩ জনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জালালাবাদ থানার ওসি হারুনুর রশিদ শনিবার দুপুরে জানান, প্রিয়াংকার শ্বশুর, শাশুড়ি ও জামাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। আজ শনিবার তাঁদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। আবারও তাদেরকে রিমান্ডে আনার আবেদন করা হবে।