কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন
কমনওয়েলথের ২৫তম অধিবেশনে যোগ দিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে সৌদি আরব থেকে লন্ডন এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার লন্ডন সময় রাত ১২.৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি লুটন বিমান বন্দরে অবতরণ করে। এসময় তাঁকে স্বাগত জানান লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি নিল হল্যান্ড।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়কসহ (এসডিজি বিষয়ক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর পর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় সেন্ট্রেল লন্ডনের হোটেল লবিতে।
হোটেল লবিতে দললীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করন।
বিমান বন্দর থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে হোটেল লবিতে নিয়ে আসলে সেখানে ফুল হাতে দিয়ে তাকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, সহ সভাপতি হরমুজ আলী, শাহ আজিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নঈমুদ্দিন রিয়াজ, মারুফ চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য শাহ শামীম ও সারব আলী প্রমুখ।
এসময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে গভীর রাতেও হোটেলের বাইরে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে‘র আমন্ত্রণে ২৫তম কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল বৃটেন অবস্থান করবেন তিনি। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টারে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মেলন কক্ষে ‘এডুকেট টু এম্পাওয়ার: মেইকিং ইকুইটেবল অ্যান্ড কোয়ালিটি প্রাইমারি এডুকেশন অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন এ রিয়েলিটি ফর গার্লস অ্যাক্রস দ্য কমনওয়েলথ’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
সেখানে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিকেলে যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংস্থা ওডিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি: নীতি, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা থাকবেন তিনি।
এছাড়া ১৮ এপ্রিল এশীয় নেতাদের অংশগ্রহণে ‘ক্যান এশিয়া কিপ গ্রোইং?’ শীর্ষ একটি গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দেবেন। সেদিন বিকেলে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে যোগ দেবেন। ১৯ এপ্রিল কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকের উদ্বোধনী ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
কমনওয়েলথ মহাসচিবের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২০ এপ্রিল সম্মেলনের সমাপনী কার্যনির্বাহী অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পরদিন তিনি রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি (আরসিএস) আয়োজিত সংবর্ধনা ও রানির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।



আরো খবর