কমান্ডার সাধন ভদ্র

কুমার সৌরভ

[লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিলো ২০১৬ সনে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন ভদ্রের মৃত্যুতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখাটি পুনরায় প্রকাশ করা হলো-বিভাগীয় সম্পাদক]

তথ্যটি জানা ছিল যে, ইকো ওয়ান ট্রেনিং সেন্টার থেকে ১ম ব্যাচে ট্রেনিং নিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের যে দলটির সেলা সাব সেক্টরে পোস্টিং হয়, সেই দলের প্রথম সামরিক অপারেশনের প্রথম কমান্ডার ছিলেন সাধন ভদ্র। সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার স্বনামধন্য ভদ্র বাসার বড় ছেলে তিনি। যুদ্ধক্ষেত্রে সাধন ভদ্রের অসীম সাহসিকতার নানা গল্পগাঁথা লোক মুখে শুনে আসছিলাম ছোট বেলা থেকেই। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ শুরু করার প্রথম থেকেই তাঁকে উপজীব্য করার একটি ইচ্ছে ছিলো মনে। সুযোগ হয়ে উঠেনি। গত বৎসর এরকম ডিসেম্বর মাসেই একবার চেষ্টা করেছিলাম। তাঁর বাসাঅব্ধি গেছিলামও। সেদিন জরুরি কাজে তখনই বের হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি বাসা থেকে, গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণগাঁও যাবেন। সুতরাং বসা আর হলো না। এর পরেও কয়েকবার যোগাযোগ করেন মালেক ভাই তাঁর সাথে। মনে নেই, ব্যস্ত রয়েছি, পরে হবে; এমনসব কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন সাধন দা। মালেক পীর নাছোরবান্দা লোক। শহরের সকলেই সেটি জানে। আমিও জেদ ধরেছি, একদিন না একদিন তাঁকে ইন্টারভিউ করবই। তক্কে তক্কে ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসে ইদানীং মাঝে মধ্যে আসেন তিনি। সেখানেই দেখা হয় মালেক ভাইর সাথে। মালেক ভাই তাকে তাতিয়ে তুলেন। আপনি এতো বড় একজন যোদ্ধা ছিলেন, অথচ বর্তমান প্রজন্ম তার কিছুই জানে না। এরকম কথা বলে সাধনদার ভিতরের ঘুমন্ত সিংহকে জাগিয়ে তুলতে নানা কিসিমের তৎপরতা শুরু করলেন। ফল হলো। বরফ গললো। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন করে মোটামোটি স্থির হলো ১৪ ডিসেম্বর’২০১৬ তারিখের বিকালে তিনি আমার সাথে কথা বলবেন। আমরা যেন সময়মতো তাঁর বাসায় চলে যাই।
ঠিক কাটায় কাটায় পাঁচটা বাজতেই সাধনদার বাসার সামনে পৌঁছে যাই মালেক পীর সমেত। সাধন দা বোধ করি আমাদের প্রতীক্ষাই করছিলেন। ড্রইংরুমে বসলাম। মুখোমুখি একটি ডিভানে বসলেন সাধন দা। একাত্তরের এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধার জীবনের সামান্য কিছু জানতে আমি বিলম্ব না করেই খাতা-কলম খুলে বসলাম। প্রশ্ন করে করে নোট নেই। মাঝে মধ্যে আপন মনে বলে যাচ্ছিলেন তিনি। আমি নোট নেই। কখনও কখনও মালেক ভাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন আর তিনি ঢুকে পড়ছিলেন সোনালী অতীতে। আমি নোট নেই। এভাবেই দুই ঘণ্টা কথা বললাম। কিন্তু কথা কি আর ফুরোয়। এক যোদ্ধাকে এত কম সময়ে জানার নয়। আবার যেটুকু জেনেছি সেটুকুও একটি লেখার শরীরে লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ পত্রিকায় লিখা দিতে হলে শব্দ গুনে গুনে লিখতে হয়। তাই জীবনচিত্রের ঝলক দেখাতে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু তথ্য আহরণ করে বাকিটুকু তাঁকেই শেষ করার আবদার রেখে বিদায় নিতে হলো। আবদার বলতে, তাঁকে অনুরোধ করলাম যুদ্ধস্মৃতি নিজের বয়ানে লিখার-ডায়েরির মতো করে। তিনি রাজি হলেন। কথা ঠিকঠাক থাকলে সামনের মার্চে কমান্ডার সাধন ভদ্রের যুদ্ধস্মৃতি হয়তো তাঁর নিজের নামেই পত্রিকায় প্রকাশ পাবে।
ব্রাহ্মণগাঁওর সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান সুধীর রঞ্জন ভদ্র শহরে এসে বসতি স্থাপন করেন উকিলপাড়ায়। সুধীর বাবুর বড় সন্তান সাধন ভদ্র। এসএসসি পাস করেছেন জুবিলী হাইস্কুল থেকে ১৯৬৬ সনে। এর পর ভর্তি হন সরকারি কলেজে। বোহেমিয়ান চলাফেরায় লেখাপড়ার গতিতে ছেদ পড়েছে বুঝাই যায় ইন্টারমিডিয়েট ১৯৭২ সনে পাস করা থেকে। মূলত তিনি যখন ১৯৬৬ সনে কলেজে ভর্তি হলেন তখন তরুণ যুবকদের নিরীহ গোবেচারা ভাল ছাত্র হয়ে থাকার সুযোগ কমই ছিলো। কারণ পাকিস্তানি শাসন শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিয়তাবাদী আন্দোলন তখন নানা মোড় সৃষ্টিকারী ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। কোন সচেতন তরুণ যুবক রাজনীতির এই আলোড়ন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারে না। আর সাধন ভদ্রের মতো পাড়া মাতিয়ে বেড়ানো, বন্ধু ও আড্ডাপ্রিয় এবং অতি অবশ্যই রাজনীতি সচেতন ব্যক্তির পক্ষে তো এটি একেবারেই অসম্ভব। এই সাধন ভদ্র সবে প্রবেশিকার গ-ি পেরিয়েছেন কি পেরোননি এরকম সময়েই আইয়ুব বিরোধী তীব্র গণআন্দোলনে জড়িয়ে পড়লেন। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে ছাত্রনেতারা শহরের বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠান থেকে মহাপরাক্রমশালী লৌহমানব আইয়ুব খানের ছবি উঠিয়ে এনে তৎকালীন পুরাতন কলেজ প্রাঙ্গণে (বর্তমানে আলফাত উদ্দিন স্কয়ার) জড়ো করে ভেঙে ফেললেন। ওই আইয়ুবের ছবিভাঙা আন্দোলনে ছোট সাধন ভদ্রও জড়িত। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলছিলেন, আইয়ুবের ছবি ভাঙার সময় পুলিশ এসে শহরের তখনকার জাঁদরেল ছাত্রনেতা চৌধুরী মনসুর আহমদ, গোলাম রব্বানী, সুফি ভাই (পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট), আনোয়ার মিয়া, মানস রায় ও মিনু চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ছাত্রনেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে পরদিন শহরে পালিত হয় সর্বাত্মক হরতাল। আইয়ুব খানের গালে জুতা মারো তালে তালে, জেলের তালা ভাঙবÑ মনসুর ভাই রব্বানী ভাইকে আনব, রাজবন্দীদের মুক্তি চাইÑ এমনসব আগুন ঝরানো শ্লোগানে-মিছিলে ছোট সুনামগঞ্জ হয়ে উঠে উত্তাল। দুই মাস কারাবাসের পর ছাত্রনেতারা জামিনে মুক্ত হলেন। পুরো আন্দোলনকালেই সাধন দা অগ্রজদের সাথে থেকে সকল কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছেন। এহেন সাধন ভদ্রের লেখাপড়া যে সরলরেখায় এগোতে পারে না তা বলে বুঝানোর দরকার নেই।
ছাত্র ইউনিয়ন করতেন তিনি। মতিয়া গ্রুপ। গোলাম রব্বানী তাঁদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। শহরে তখন ছাত্র ইউনিয়নের মতিয়া ও মেনন গ্রুপ এই দুই সংগঠনই সবচাইতে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী। মেনন গ্রুপের কিংবদন্তীতুল্য নেতৃত্ব তখন চৌধুরী মনসুর আহমদের কাঁধে। কলেজ সংসদে বরাবরই মতিয়া গ্রুপ জনপ্রিয়। সাধন ভদ্রও নির্বাচন করলেন। ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেলে সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। ওই প্যানেল থেকে ভিপি তখন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী আর জিএস সাইফুর রহমান শামছু। ১৯৭১ সন পর্যন্ত বাঙালি জাতির মুক্তির প্রস্তুতির লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে পরিচালিত কর্মসূচী যেগুলো সুনামগঞ্জে পালিত হতো তার সবগুলোতেই সাধন ভদ্রের ছিলো সক্রিয় অংশগ্রহণ। এভাবেই আসল কালজয়ী ৭ মার্চ। রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর মহাকাব্যিক ভাষণে কৌশলী শব্দ চয়নে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার যে ঘোষণা আসল সেটি বুঝতে বাকি রইলো না কারও। ওই অমোঘ নির্দেশের বাস্তবায়ন তখন প্রতিটি বাঙালির অবশ্য কর্তব্য। সুনামগঞ্জ কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র লীগ মিলে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদকে দিকনির্দেশনা দিতে লাগলেন শহরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। প্রতিদিনই মিছিল মিটিং হতে থাকলো। আর ভিতরে ভিতরে সবাই অত্যাসন্ন সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। মিছিলের গগনবিদারী শ্লোগান আর তেজোদ্দীপ্ত ভঙি যেন ওই যুদ্ধে নামারই মহড়া মাত্র।
আসল সেই মুহূর্ত। এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এই আমন্ত্রণ নিয়ে আসল আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা। পাক বাহিনি শহরে প্রবেশ করল ২৭ মার্চ বিকেলে। উঠল পুরাতন সার্কিট হাউসে। পাকবাহিনির সদস্যদের সার্কিট হাউস বরাদ্দ না দেয়ার জন্য স্থানীয় ছাত্র জনতা মিছিল করে তৎকালীন এসডিওর নিকট দাবি জানালেন। কিন্তু অস্ত্রের মুখে এসডিও’র নতিস্বীকার করতে হলো। এদিকে পাক বাহিনি শহরে প্রবেশ করেছে এই সংবাদে মানুষের মনে অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি করল। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আর দেশপ্রেমের এক নতুন রূপ দেখা গেল তখন। সাধন দা আমাদের বলছিলেন, সেদিনের সেই চেতনার কথা বলে বুঝানোর নয়। বর্তমান প্রজন্ম বুঝবে না, কী এক আকর্ষণে মানুষ জীবনকে তুচ্ছ করে মৃত্যুকে ভৃত্য করে রাজপথে নেমে এসেছিলো। মানুষ আসছে শহরের ছাত্রাবাসগুলো থেকে, বিভিন্ন মহল্লা থেকে, পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে, নদীর উত্তর পাড় থেকে। দলে দলে। হাজারে হাজারে। আগেই শহরের ও শহরের বাইরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও মোজাহিদ বাহিনির বহু লোক রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহ্বানে শত্রুকে সশস্ত্র ভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। ট্রেজারি থেকে রাইফেল ও গোলাবারুদ এনে আনসার-মোজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয়েছিল। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রাইফেলধারী সেই আনসার মোজাহিদরাও সেদিন শহরে প্রবেশ করলেন রণসাজে। এমন বিদ্রোহ কখনও দেখেনি সুনামগঞ্জবাসী। প্রতিবাদের এতো তেজ আগে প্রত্যক্ষ করে নি বাঙালি। বাঙালির এই তেজ দেখে ভীত বিহ্বল হয়ে পড়ে শহরে প্রবেশ করা পাকবাহিনির সদস্যরা। তারা সার্কিট হাউসে অবস্থান নিয়ে বসে থাকে। ২৮ তারিখ সকাল থেকেই রুদ্ররোষে ফেটে পড়া নিরস্ত্র ও সশস্ত্র জনতার লক্ষস্থলে পরিণত হয় পুরাতন সার্কিট হাউস। ওইখানে থাকা শত্রুর দল। কিন্তু সুনিপুণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাক হানাদারের ১১ সদস্যকে তাদের বাঙালি ক্যাপ্টেন মাহবুবসহ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি বাঙালি প্রতিরোধকারীদের পক্ষে। তবে সার্কিট হাউসের সুরক্ষিত অবস্থান ত্যাগ করে আসলে তারা যে জনতার পায়ের তলে পিষ্ট হয়েই প্রাণ হারাত তা ছিল দিবালোকের মতো সত্য। কাপুরুষের মতো লুকিয়ে গুলি করতে থাকে তারা প্রতিরোধকারীদের লক্ষ্য করে। শহীদ হন রিক্সাচালক গনেশ ও আনসার কমান্ডার আবুল হোসেন। ২৮ মার্চ বৃষ্টি ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাতের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে কাজে লাগিয়ে ইঁদুরের মতো শহর ছেড়ে সদলে পলায়ন করে ক্যাপ্টেন মাহবুব, সঙ্গীয় আহত দুইজনকে ফেলে রেখেই। শেষ হয় প্রতিরোধপর্বের উত্তাল দেড়দিন।
এদিকে পাক বাহিনির আক্রমণে দলে দলে মানুষ বাসা বাড়ি ছেড়ে মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে শুধু প্রাণ নিয়ে শহর ছাড়তে শুরু করেন। সাধন ভদ্র তার ঘনিষ্ট বন্ধু আতম সালেহ, শামছুল হক (ইব্রাহিমপুর), সাব্বির আহমদ মিনু, লিয়াকত আলী সহ এসময়ে রাতের বেলা থাকতেন দেওয়ান মোসাদ্দেক রাজা চৌধুরীর বাসায়। এসময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আহ্বানে সীমান্ত রক্ষী বাহিনির কিছু সদস্য বিভিন্ন সীমান্ত থেকে শহরে আসা শুরু করলেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে থাকেন আনসার মোজাহিদ বাহিনির লোকজনও। তাদের থাকা-খাওয়ার জন্য যে স্বেচ্ছাসেবকরা তখন শহরে কাজ করতেন তাঁদের অন্যতম সাধন ভদ্র। দিনে এইসব কাজ আর রাতে মোসাদ্দেক রাজার বাসায় ঘুমানো। এইভাবেই চলল বেশ কিছু দিন। মে মাসে পাক বাহিনি যখন পূর্ণশক্তি নিয়ে শহরে প্রবেশ করল তখন আর এখানে থাকা নিরাপদ মনে করলেন না তারা। শহর ছাড়লেন। সেদিনের কথা এখনও তাঁর মনে উজ্জ্বল। তিনি বলছিলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম মোছাদ্দেক রাজার বাসায়। ভোরের দিকে আওয়ামী লীগ নেতা আলিমাবাগের আবু মিয়া ডেকে আমাদেরকে ঘুম থেকে তুললেন। বললেন, শহরে পাক আর্মি এসেছে। তোমরা দ্রুত পলায়ন কর।
তৎক্ষণাৎ তাঁরা শহর ছাড়লেন। কোথায় যাবেন ? স্থির হলো সাধন ভদ্রের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণগাঁওই যাবেন। মূল সড়ক এড়িয়ে হেঁটে হেঁটে তারা ব্রাহ্মণগাঁও চলে গেলেন। বাড়ি গিয়ে দেখা গেল সেখানে দুইজন কামলা ছাড়া আর কেউ নেই। কোনমতে ওখানে চারটি ভাত খেয়ে দুপুরের আগেই নদী পেরোলেন তারা। এবার গন্তব্য সীমান্তবর্তী আশাউড়া। আবারও হাঁটা শুরু। সন্ধ্যায় পৌঁছালেন আশাউড়া। প্রথমে উঠলেন হেকিম মিয়ার বাড়িতে। সেখানে দেখা হলো শহরের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনের সাথে। তিনিও তখন সীমান্ত পেরিয়ে বালাট যাওয়ার প্রতীক্ষায়। যাহোক রাতে সাধন ভদ্র সঙ্গী বন্ধুদের নিয়ে রাত্রি যাপন করলেন কালি বাবুর বাড়িতে। কালি বাবু যথেষ্ট আদর আপ্যায়ন করলেন শহর ছাড়া এই তরুণ দলকে।
পরদিন সকালে চা খেয়েই বালাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু। ৩ ঘণ্টা হেঁটে বালাট পৌঁছালেন তাঁরা। বালাটে অবস্থানরত নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হলো। শরণার্থী শিবিরে থাকার ব্যবস্থা হলো। রেশন কার্ড নিলেন। বরাদ্দকৃত ঘরে রেশনে পাওয়া খাদ্যসামগ্রী নিজেরাই রান্না করে খাওয়া-দাওয়া, শুরু হলো তাঁদের প্রবাস-শরণার্থী জীবন। তেমন কোন কাজ নেই। ঘোরাফেরা, রান্নাবান্না, পরিচিত নেতৃবৃন্দ ও মানুষের সাথে দেখা করা আর ঘুমানো। এই নিরামিষ জীবন তাঁদের ধাতে সহ্য হওয়ার নয়। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, সুনামগঞ্জের হুসেন বখত, আলফাত উদ্দিন আহমদ, আছদ্দর মিয়া তখন বালাটে। তাঁদের সাথে দেখা করে কিছু একটা করার তাগিদ দিতে লাগলেন। নেতৃবৃন্দ আশ্বস্থ করলেন, চিন্তা করো না, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চলছে। কয়েকদিনের মধ্যেই খবর পেয়ে যাবে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যখন গেরিলা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেন তখন প্রথম সুযোগটিই সাধন ভদ্র ও তাঁর বন্ধুরা গ্রহণ করলেন। একদিন বালাট ছাড়লেন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে। ট্রেনিং হবে ইকো ওয়ান নামের আড়ালে গহীন পাহাড়-জঙ্গলবেষ্টিত কোন এক অজানা গন্তব্যে। রোমাঞ্চে শিহরিত হলেন তাঁরা। পাহাড়ী দুর্গম কষ্টসাধ্য পথ পেরিয়ে তাঁদের বহনকারী গাড়ি একদিন পৌঁছেও গেলো সেই অজানা ট্রেনিং ক্যাম্পে। প্রথম ব্যাচের ওই দলে সুনামগঞ্জ কিশোরগঞ্জ সিলেট ও ছাতকের প্রায় ১৫০ জনের মতো ছিলেন। সবে মাত্র স্থানটি ট্রেনিংয়ের জন্য বাছাই করা হয়েছে। দুই একটি স্থাপনা ভিন্ন এখানে আর কিছু নেই। ইন্ডিয়ান আর্মি প্রশিক্ষণার্থী মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েই বনজঙ্গল সাফসুতরো করিয়ে নিলেন। শুরু হলো ২৮ দিনের গেরিলা ট্রেনিং। ট্রেনিংয়ের শেষ দিকে আয়োজন করা হয় ডামি যুদ্ধের। এক পক্ষ পাক আর্মি অন্য পক্ষ মুক্তি বাহিনি। পাক বাহিনির কমান্ডার হলেন সাধন ভদ্র অপরদিকে মুক্তি বাহিনির কমান্ডার সিলেটের নিজাম উদ্দিন লস্কর। কনিষ্ট মালেক পীর পেলেন মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ হয়ে রেকি করার দায়িত্ব। বলাই বাহুল্য মালেক পীর রেকি করতে গিয়ে নিজেকে গোপন রাখতে পারেন নি। ধরা পড়ে গেলেন সাধন ভদ্রের দলের হাতে। যা হোক প্রশিক্ষণ শেষে আসল শপথ গ্রহণের পালা। ভারতীয় আর্মির পক্ষে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল গুরবখস সিং গিলে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ওখানে উপস্থিত ছিলেন তরুণ ও সপ্রতিভ এমপিএ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। শপথ অনুষ্ঠানে জেনারেল গিলের বক্তব্য বাংলায় তরজমা করে শুনিয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সাধন ভদ্র টেনিংয়ের বিষয়ে বলছিলেন, ওখানে আমাদের গেরিলা কায়দা-কানুন ও অস্ত্র গোলাবারুদের ব্যবহার, কষ্ট সহ্য করা; এমন সব বিষয়ের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রশিক্ষণে বলা হয়েছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে যদি দেখ তোমার কোনো সহযোদ্ধা এমন গুরুতর আহত হয়েছে যে তার আর বাঁচার সম্ভাবনা নেই কিংবা তাকে নিয়ে পালানোর সুযোগ নেই তাহলে তাকে শ্যুট করে মেরে ফেল নিজেরাই। কখনও শত্রুর হাতে ধরা পড়তে দিবে না। ধরা পড়লে শত্রুপক্ষ তার কাছ থেকে মূল্যবান তথ্য হাতিয়ে নিবে। আর শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল এই যুদ্ধে ভারতের সংশ্লিষ্টতার কথা সর্বাবস্থায় গোপন রাখতে হবে। কারণ এটি প্রকাশ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে যাবে ভারত।
এখন যুদ্ধক্ষেত্রে আসার পালা। শিলং ক্যান্টনম্যান্টে হাতিয়ার বিতরণ করা হয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের। সাধন ভদ্রসহ মোট ৩০জনকে বিয়ানিবাজারের শামছুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেলা পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেলা তখন একটি পৃথক সাব সেক্টর। সেলা থেকে দলটি পাথরঘাটা বিএসএফ ক্যাম্পে চলে আসল। সেখানেই অবস্থান করলেন তারা। পাথরঘাটা পৌঁছার দুই দিন পর ভারতীয় কর্নেল বখশি ও ক্যাপ্টেন চট্টোপধ্যায় মালেক পীরকে ডেকে পাঠান বিএসএফ ক্যাম্পে। মালেক পীরকে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও ছাতক বাজার এলাকা রেকি করার দায়িত্ব দিলেন ভারতীয় কমান্ডার। এটি জানতেন না সাধন ভদ্র। তাই মালেক পীরকে সেদিন কী বলা হয়েছিলো তাও জানা ছিলো না তাঁর। বিষয়টি খোলাশা করলেন মালেক পীর স্বয়ং। মালেক পীর বলছিলেন, আমাকে সেদিন রেকি করার দায়িত্ব দিলে আমি চলে আসলাম সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকায়। সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকুরি করতেন আমার এক আত্মীয়। তাঁর নাম শাহ নান্না মিয়া। আমি তার বাসায় উঠলাম। ইতোপূর্বে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো ধরনের তৎপরতা ছিলো না বলে পাক বাহিনি তখন আমাকে সন্দেহ করেনি। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর নান্না ভাই ফ্যাক্টরির ভিতরের বিভিন্ন স্থাপনার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলেন। তিনি ফ্যাক্টরির পাওয়ার স্টেশনে চাকুরি করতেন। রাতে বাসায় বসে একটি কাগজে ম্যাপ অঙ্কন করি আমরা দু’জন মিলে। পরদিন পাথরঘাটা ফিরে আসি সকালেই। ম্যাপটি কমান্ডারকে দিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করি। আমার দায়িত্ব শেষ। মালেক পীর থামলেন। তাঁর কাহিনি ওই পর্যন্তই।
এদিকে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা দুপুরে ডেকে পাঠান সাধন ভদ্রকে। সাধন ভদ্রকে ডেকে পাঠিয়ে বায়নোকোলার দিয়ে ছাতকের সিমেন্ট ফ্যাক্টরি দেখিয়ে ওখানে একটি গেরিলা অপারেশন পরিচালনার নির্দেশ দেন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদ্বয়। তাঁকেই ওই অপারেশনের কমান্ডার নির্বাচিত করে ২০ জন সহযোদ্ধা নিয়ে রাতেই টার্গেটে পৌঁছে যেতে বললেন। সাথে দুইজন গাইড দেয়া হলো। সেলা সাব সেক্টরের প্রথম সামরিক অভিযানের প্রথম কমান্ডার তিনি। শিহরণ রোমাঞ্চ ও আবেগে কেঁপে উঠলেন। নির্দেশ পেয়ে ফিরে আসলেন নিজেদের অবস্থানে। সহযোদ্ধা বাছাই করে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে গাইডের দেখানো পথে রাতের অন্ধকারে রওয়ানা হলেন। অপারেশন ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। বর্ষা মওসুম। বৃষ্টি হচ্ছে। ঘন অন্ধকার। অজানা এলাকা অচেনা পথঘাট। দুর্গম চলার পথ। কখনও জমির আইল, কখনও কোন গ্রামের পাশ দিয়ে কখনও খাল পেরিয়ে ছুটে যাচ্ছে অকুতোভয় একদল মুক্তিযোদ্ধা মাতৃভূমির অভ্যন্তরে শত্রুসেনাদের উপর আক্রমণ করার সংকল্প নিয়ে। কষ্ট হচ্ছে পথ চলতে। অদম্য দেশপ্রেম তাঁদের সামনে নিয়ে যাচ্ছে। সিমেন্ট ফ্যাক্টরির মাইল দেড়েক দূরত্বে পৌঁছার পর গাইড আর অগ্রসর হতে রাজি হচ্ছিল না। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের ওখানেই পজিসন নিতে হলো। দূরে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত সিমেন্ট ফ্যাক্টরি দেখা যাচ্ছিল। ওখানে পাক বাহিনির শক্ত অবস্থান। সাধন ভদ্র পাক অবস্থান লক্ষ করে ফায়ার ওপেন করার নির্দেশ দিলেন। আচমকা গুলাগুলির শব্দ পেয়ে সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ভিতরে অবস্থানরত পাক আর্মি ফ্যাক্টরির সবগুলো লাইট নিভিয়ে দিলো। এরপর শুরু করলো এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ। মেশিনগান, মর্টার, এলএমজি ও রাইফেল সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র একসাথে আগুন ঝরাতে শুরু করলো । সাধন ভদ্র ভাবলেন তাদের অপারেশনের উদ্দেশ্য সফল। মূলত উদ্দেশ্যই ছিলো মুক্তিবাহিনির অবস্থান জানান দেয়া এবং পাকবাহিনিকে ভড়কে দেওয়া। কিছুক্ষণ পর ফায়ারিং বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন তিনি। এবার দ্রুত নিরাপদে ক্যাম্পে ফিরতে হবে। ফিরতি পথ ধরে ভোরবেলা কালাটেক পৌঁছে গেলেন। দিনের আলো ফুটে উঠায় ওখানেই লুকিয়ে রইলেন এক বাড়িতে। পরে বিএসএফ এসে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এভাবেই শেষ হলো প্রথম গেরিলা অপারেশন।
সাধন দা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছিলেন, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি অপারেশন শেষ করার পর ক্যাম্প থেকে উধাও হয়ে গেলেন মালেক পীর। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খবর রটে গেল মালেক পীর পলায়ন করেছেন। নিজ দলের একজন যোদ্ধার খোঁজ না পাওয়া দলনেতার দায়। এজন্য সামরিক শৃঙ্খলাবোধ অনুসারে শাস্তি অবধারিত। শাস্তি পেতে হলো সাধন দাকেও। তাঁকে নাকি সূর্যের দিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকার শাস্তি দেয়া হয়েছিলো। মালেক পীর আমাদের সাথেই আছেন (এ্ই প্রতিবেদন লিখার সময়)। তাঁকেই বললাম সেদিনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে। মালেক পীর বর্ণনা করলেন, ওই দিন আমাকে আবারও ডেকে নেন বিএসএফ কমান্ডার। বললেন, অপারেশনের পর পাক বাহিনির কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে দেখে এসে রিপোর্ট করার। আদেশ পেয়ে তিনি রওয়ানা হলেন বটে। তবে সিমেন্ট ফ্যাক্টরির পথ বাদ দিয়ে সোজা সুনামগঞ্জের পথ ধরলেন তিনি। আবারও সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকায় যেতে ভীষণ ভয় হচ্ছিল তাঁর। প্রকৃত পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নই করলেন মালেক পীর। তবে এই পলায়ন স্থায়ী নয়। পরে আবারও ঠিক চলে গেছেন রণক্ষেত্রে। দিরাইর টানাখালি বাজারে শামসুল হক (ইব্রাহীমপুর) এর কমান্ডে। শফিক চৌধুরী, যতীন্দ্র শর্মা, আবুল কালামও ছিলেন সেখানে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। ভিন্ন প্রেক্ষাপট। সুযোগ হলে যথাসময়ে বলা যাবে। আপাতত আমরা সাধন দার দিকেই মনোযোগী হই।
সাধন ভদ্র পাথরঘাটা অবস্থান থেকে পরবর্তীতে আরও দুইটি অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন। এর একটি হচ্ছে টেংরাটিলা পাক অবস্থানে আক্রমণ ও রসরাই গ্রামের পাক বাংকার আক্রমণ। উভয় অপারেশনে শহীদ চৌধুরী ছিলেন কোম্পানি কমান্ডার, সাধন ভদ্র সেকেন্ড ইন কমান্ড। এরপর তাঁকে সরিয়ে নেয়া হলো পূর্ব বাংলাবাজারে অবস্থানরত শামসুদ্দীনের কোম্পানিতে। প্রথমে ইদ্রিছ আলীর (পরবর্তীতে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত) নেতৃত্বে এক প্লাটুন ও সাধন ভদ্রের নেতৃত্বে আরেক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন কোম্পানিতে যোগ দিলেন। পরে আরও প্লাটুন এসে যোগ দেয়। ওই অবস্থান থেকেই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির বড় অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ক্যাপ্টেন হেলালের নেতৃত্বে মহব্বতপুর পাক আর্মি অবস্থানে আক্রমণ পরিচালনায় সাধন ভদ্র নিজ প্লাটুন সমেত অংশ নিয়েছিলেন এই পূর্ব বাংলাবাজার থেকেই।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই পাকবাহিনি ছাতক ছাড়া শুরু করল। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের পিছু পিছু ধাওয়া দিলো। গোবিন্দগঞ্জ এসে শক্ত অবস্থান গাঁড়ে পাক আর্মি। সেখানে বিভিন্ন দিক থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পাক বাহিনি বিশ্বনাথ রাস্তা ধরে পলায়ন করার চেষ্টা করে। অপরাপর মুক্তিযোদ্ধা দলের সাথে পিছু পিছু ধাওয়া করতে করতে বিশ্বনাথ পর্যন্ত পৌঁছে যান সাধন ভদ্র নিজ দলসহ।
যুদ্ধ শেষ কমান্ডার সাধন ভদ্রের। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ফিরলেন নিজ বাসায়। দেখা হলো মা বাবা ভাই বোনের সাথে। আবেগে আপ্লুত হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন। সবার চোখে তখন অশ্রুর বন্যা। জীবিত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে সকলেই ভীষণ খুশি।
ব্যক্তিগত জীবনে সাধন ভদ্র বিবাহিত। স্ত্রী মীতা ভদ্র গৃহিনী। ১ ছেলে ও ১ মেয়ে তাঁর। ছেলে সৌমিত্র ভদ্র শাওন বিবিএ শেষ সেমিস্টারের ছাত্র। মেয়ে সুস্মিতা ভদ্র এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী।