কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আরও সক্ষম করা হোক

জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করণার্থে কমিউনিটি ক্লিনিকের সক্ষমতা বাড়ানো ও এই জায়গায় বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সম্মেলনের শেষ দিনে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে আমরা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে পেরেছি। অসুস্থ হলেই মানুষকে এখন আর শহরে দৌঁড়াতে হয় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আরও ইনভেস্টের প্রয়োজন’। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার একেবারে তৃণমূলের ইউনিট হল এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে আওয়ামী লীগের যত কাজ আছে তার মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকের বিস্তৃতি অন্যতম। গ্রামীণ পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার কারণেই গ্রামের সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার একটি ছায়া অন্তত দেখতে পেয়েছেন। যদিও আমাদের অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক চিকিসক থেকে নার্স সংকটে নিমজ্জিত, পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহের অভাবে সংকটগ্রস্ত, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অক্ষম; তারপরেও এই ক্লিনিকগুলোই এখন পর্যন্ত হতদরিদ্র লোকজনের একটুখানি স্বাস্থসেবা পাওয়ার একমাত্র ভরসার জায়গা। পরিকল্পনামন্ত্রী যথার্থই এই স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি ওই সম্মেলনে আরও বলেছেন, উন্নয়ন বলতে এই সরকারÑ যারা সরাসরি ক্ষেতে খামারে, বিলে ঝিলে কাজ করেন, তাদের জন্য কিছু করাকে বুঝে। আমাদের জনগোষ্ঠীর প্রধান অংশটিই গ্রামে বাস করেন এবং তাঁরা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। উন্নয়নের সমতা বলতে এঁদের জীবনমানের উন্নয়ন করাকেই বুঝায়। জীবনের সাথে স্বাস্থ্য অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বলা যেতে পারে উন্নয়নের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হলোÑনিরোগ শরীরের সুস্থ মানুষ। মানুষের স্বাস্থ্যই যদি ভাল না থাকে, সে যদি রোগে-শোকে কাতর হয়ে পড়ে; তাহলে ক্ষেতে-খামারে, কলে-কারখানায়, বিলে-ঝিলে কাজ করবে কারা? দেশ ও জাতির যাবতীয় উন্নয়নই মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে যদি না দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ভাল না থাকে। সরকার এই জিনিসটি অনুধাবন করতে পেরেছেন, পরিকল্পনামন্ত্রীর কথা থেকে এটুকু বুঝা যায়।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নানাবিধ সংকটে নিপতিত বলে উপরে বলা হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ও স্বীকার করেছেন এই জায়গায় আরও বিনিয়োগ দরকার। সরকারের উপলব্ধি যেহেতু ইতিবাচক সেহেতু এর সমাধান ওই সরকারের কাছে কামনা করা একেবারেই সঙ্গত। আমরা দেখে থাকি, চিকিৎসক নিয়োগের পর কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে কিছু চিকিৎসক পদায়ন করা হয়। নার্স বা অন্য পদের বেলায়ও তাই। কিন্তু পদায়নের পরই নানা তদবিরের মাধ্যমে এরা তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলো থেকে চলে যান। কেউ গ্রামে থাকতে চান না। সকলেই রাজধানীতে, নিদেনপক্ষে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কাজ করতে চান। এরকম মানসিকতা দিয়ে গ্রামের স্বাস্থ্যকাঠামো ঠিক করার নয়। তা যতই বিনিয়োগ বাড়ানো হোক না কেন। আদতে পরিকল্পনার গোড়ায় গলদ রয়েছে। চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকুরি জীবনের ন্যূনতম পাঁচ বছর গ্রামে কাজ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবং এই বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রচুর পরিমাণে উপসহকারি মেডিক্যাল অফিসার ও নার্স নিয়োগ করতে হবে। উপসহকারি মেডিক্যাল অফিসাররা গ্রাম কাজ করতে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন বলে আমরা মনে করি। ইতোমধ্যে যারা অস্থায়ী বা প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন তাদের চাকুরির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। ভাল ভবন ভাল স্বাস্থ্যকাঠামোর অপরিহার্য পূর্বশর্ত নয়। বরং স্বাস্থ্যকর্মীরাই এর মূল প্রাণ। এদের অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
গ্রামের মানুষের রোগ-শোকে মানবিক সহায়তার মায়ায় ভরে উঠুক আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এই আমাদের কামনা। পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয় যেমন এই ইউনিটের গুরুত্ব বুঝেছেন সেই অনুভব থেকে গ্রামীণ স্বাস্থ্য কাঠামোয় ইতিবাচক জাগরণ ঘটুক এই চাই আমরা।