কমিটি নিয়ে বিভক্তি, শোভাযাত্রা ঠেকাতে অন্য পক্ষের অবস্থান

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা সদরে এক পক্ষের নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা ও অন্য পক্ষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। গত রোববার ধর্মপাশা উপজেলার ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় অনুমোদিত কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন খান সমর্থিত নেতাকর্মীরা স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা পুলিশি বাধায় দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিতে পারেনি। তবে বিকেল তিনটার দিকে উপজেলা সদরের ত্রিমুখী মোড়ে পথসভা করেছেন তারা।
অপরদিকে গত ১৯ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ উল আলমসহ কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়কের স্বাক্ষরে অনুমোদিত ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সাদাত তিতাস ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মোহন সকাল থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে তাদের সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেয়। এ কমিটির সভাপতি আবু সাদাত তিতাস বলেন, ‘আমাদের বৈধ কমিটি থাকা সত্বেও আরেকটি অবৈধ কমিটি ঘোষণা দিয়েছে জেলা কমিটি। যা সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত। নতুন অবৈধ কমিটিকে প্রতিহত করতে ও জেলা কমিটির এমন সিদ্ধান্তের প্রতি নিন্দা জানিয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।’
অপরপক্ষের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন খান বলেন, ‘ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে স্বাগত জানিয়ে আমরা মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় সদর ইউনিয়নের মহদিপুর বাজার থেকে মটর সাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাই। শোভাযাত্রা নিয়ে কৃষি ব্যাংকের সামনে আসলে পুলিশ আমাদের শোভাযাত্রায় বাধা দেয়। তাই আমরা দলীয় কার্যালয়ে যেতে পারিনি। পরে উপজেলা সদরের ত্রিমুখী মোড়ে আমরা পথসভা করেছি।’
ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার জানান, ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের এক পক্ষ সকাল থেকে সদর বাজারে প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অন্যপক্ষকে বুঝিয়ে বললে তারা বিকল্প সড়ক দিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে যায় এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে।
উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আগের দিন অর্থ্যাৎ ১৯ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ উল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক জিসান এনায়েত রেজা, মাসকাওয়াত জামান ইন্তি, সুহেল রানা ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগসহ জেলার সাতটি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের বরাত দিয়ে সম্মেলনের পরের দিন অর্থ্যাৎ ২১ এপ্রিল কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে অনুমোদিত সাতটি ইউনিটের কমিটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে দীপঙ্কর কান্তি দে’কে সভাপতি ও আশিকুর রহমান রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন হয়। এ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওই সাতটি ইউনিটের কমিটি গঠনের জন্য সিভি আহ্বান আহ্বান করেন এবং আহ্বায়কের দেওয়া কমটিকে অবৈধ দাবি করে গত রোববার ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেন।