কম সময়ে বেশি ফলন, লাভবান কৃষক

কামরান আহমেদ
বিনাধান-১৬ ও বিনা ধান-১৭ জাতের চারা রোপনের ১০০ দিনের মধ্যে জমি থেকে ধান কেটে আনা যায়। ভালো উৎপাদনও হয় এই জাতের ধানের। এই ধান কেটে একই জমিতে সরিষা, আলুর চাষ করা যায়। এই ধান চাষ করলে কৃষকের বাড়তি আবাদের সুযোগ হয়, আয়ও বেড়ে যায়। এই জাতের ধান বিপ্লব ঘটাতে পারে কৃষিক্ষেত্রে বলে মনে করছেন কৃষকসহ সংশ্লিষ্টরা।
এবার জেলার অধিকাংশ আমন জমিতে বিনা ১৬ ও ১৭ জাতের ধান চাষ হয়েছে। সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন, সুরমা ইউনিয়ন, মুসলিমপুর ও বিশম্ভরপুর উপজেলার প্রায় আশিভাগ জমিতে বোরো এবং আমন মৌসুমে বিনা ১৬ ও ১৭ জাতের ধান দুটি চাষ হয়েছে।
জানা যায়, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহের (১-৩০ আষাঢ়) মধ্যে বীজতলায় এই ধানের বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। প্রতি হেক্টর জমি চাষের জন্য ২৫-৩০ কেজি বা এক একর জমির জন্য ১০-১২ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। উর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে বীজতলা তৈরি করলে কোন রূপ সার প্রয়োজন হয় না। অনুর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে কেবল দুই কেজি পচা গোবর বা আবর্জনা সার প্রয়োগ করলেই চলে। এ জাতগুলোর রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। তবে প্রয়োজনে বালাইনাশক প্রয়োগ করা উচিত। এ জাতটি মাজরা পোকার প্রতি মধ্যম প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন।
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষবেড় গ্রামের কৃষকরা এই ধান চাষ করে ভালো ফসল পেয়েছেন। বৃৃহস্পতিবার জেলা কৃষি অফিস ও বিনা উপকেন্দ্র’এর উদ্যোগে এই ধানের জাত দুইটির শস্য কাটা হয়। ভৈষবেড় গ্রামের কৃষক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, গত পাঁচ বছর যাবৎ বিনা জাতের ধান তিনি চাষ করছেন। জাতটি অত্যন্ত ফলনশীল হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে ভালো ফসল ও একই জমিতে নতুন করে অন্য ফসল ফলাতে পারছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ৩০ বিঘা জমিতে এই জাতের ধান চাষ করেছেন। এই দুটি জাতের ধান স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় কৃষকরা এই ধান চাষ করে কম সময়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষক হেলাল মিয়া বলেন, বোরো ও আমন দুই মৌসুমে বিনা উপকেন্দ্র ও কৃষি অফিস থেকে বীজ ও তাদের পরামর্শ নিয়ে এই ধান চাষ করেছি। কম সময়ে ফসল কাটা যায় ও অন্য জাতের চেয়ে ফসল অনেক বেশি হওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে সাবলম্বি হতে পারছি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন টিপু বলেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি চাষ হয়েছে। বিনা ১৬ ও ১৭ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে। এই জাত দুটি খরা ও রোগবালাই সহনশীল ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহের সাথে এই ধান চাষ করছেন।
বিনা উপকেন্দ্র’এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব, বিনা ১৬ ও ১৭ আমন এবং বোরো দুই মৌসুমে চাষের উপযোগী। এই ধান চাষাবাদ করতে কৃষকদের আমরা বীজ সার সরবরাহ ও তাদের উৎপাদন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ জাতের ধান চাষাবাদ করে কৃষকরা অনেক খুশি। উল্লেখ্য. দেশের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির জন্য বিনা’র বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন আমন মৌসুমের জন্য উচ্চ ফলনশীলন ও স্বল্প জীবনকাল বিশিষ্ট আগাম জাতের বিনা ধান-১৬ ও বিনা ধান-১৭। বিনা ধান-১৬ জীবনকাল মাত্র ৯৫-১০০ দিন। গড় উৎপাদন প্রতি বিঘায় ২৪ মণ। বিনা ধান-১৭ এর জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন। গড় উৎপাদন বিঘাপ্রতি ২৭ মণ। এ জাতের ধানের জীবনকাল কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। অতীতে আমন ধানের জীবনকাল ছিল ১৬০-১৭০ দিন।