করোনাকালের স্বাভাবিকতাও নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণহীন নয়

করোনা ভাইরাসের বাড় বাড়ন্ত অবস্থায়ই আজ থেকে বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর সবকিছু খুলে দেয়া হচ্ছে। সাধারণ ছুটির নামে এক অদ্ভুত অবস্থা দেখেছি আমরা। এই অদ্ভুত অবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে আজ থেকে। জীবন ও জীবিকার প্রশ্নে আপাতত জীবিকা জয়লাভ করল বটে। এতে জীবন বাঁচে কিনা সেই কঠিন প্রশ্নের উত্তর মিলানো শুরু হবে এখন। ভবিষ্যৎ আমাদের কোন্ অজানা পরিণতির সম্মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে আমরা জানি না। জানি কেবল এই মুহূর্তে আমাদের কাজ দরকার, আয় রোজগার করে বেঁচে থাকার উপকরণ সংগ্রহ খুব জরুরি। এই জরুরি প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে আমরা তাবৎ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের পরামর্শ উপেক্ষা করে যে অনিশ্চিত গন্তব্যে যাত্রা শুরু করলাম, তাকে মেনে নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিধানে নিজেরাই সচেষ্ট থাকব এইটুকুই কামনা করি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করার যেমন উপায় নেই তেমনি এই দুর্যোগে ভয়ে জবথবু হয়ে থাকারও কোনো মানে নেই। যুদ্ধে আক্রমণের জুৎসই জবাব হলো পালটা আক্রমণ। পাল্টা আক্রমণ না করলে শত্রুপক্ষের জয় সুনিশ্চিত হয়। তবে সেই আক্রমণ করতে হয় উপযুক্ত অস্ত্র দিয়ে। চাইনিজ রাইফেলের বিপরীতে খালি হাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়ালে অথবা শৌখিন পাখি শিকারীর গাদা বন্দুক নিয়ে নামলে সেটি যুদ্ধ হয় না। সেই ধরনের অসম লড়াইয়ে নামার নাম আত্মহনন, যেমন আগুনে দলে দলে পতঙ্গ ঝাপিয়ে পড়ে মরে তেমন। নোভেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার মতো কোনো অস্ত্র মানব জাতির হাতে নেই। তবে কার্যকর অস্ত্র যা এই ভাইরাসকে কাবু করতে পারে তা আবিষ্কারে মরিয়া চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে মানব জাতি। হয়ত সময়ের ব্যবধানে তা এসেও যাবে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত কী ? যুদ্ধনীতি অনুসারে দুর্বল পক্ষকে ততদিন আত্মরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করতে হয়। সারা পৃথিবীর মানুষ জানে, প্রতিষেধক বের না হওয়া পর্যন্ত শাররিক দূরত্ব বজায়, মাস্ক পরিধান আর ঘন ঘন হাত ধোয়াই আপাতত করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। এই কাজগুলোই আমাদের করতে হবে। মানুষকে বুঝাতে হবে যাতে সকলে এই নিয়মগুলো মেনে চলে।
আমরা ঘনবসতি ও স্বল্প সামর্থের দেশ। আমাদের জনগোষ্ঠী খুব বেশি সচেতন নয়। মানুষ নিয়ম মানতে অনভ্যস্ত। কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস প্রবল। এই ধরনের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে আত্মরক্ষার্থে বিজ্ঞানসম্মত উপায়গুলো অনুসরণ করানো কঠিন কাজ বৈকি। কিন্তু সরকারকে এই কঠিন কাজটিই করতে হবে। নতুবা এখন আমরা যে সবকিছু স্বাভাবিক করে দিচ্ছি তার ভয়াবহ পরিনাম ভোগ করতে হবে।
আজ থেকে নতুনভাবে আসুন আমরা সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার। অপরকে বুঝানোর। একটি জাতি যখন কোনো কিছু অর্জনের জন্য মনেপ্রাণে বিশ্বাস স্থাপন করে তখন সেটি অর্জন করা কঠিন নয়। সরকার গত তিন মাস ধরে অনেক সফলতা দেখাচ্ছে। সাধারণ ছুটির মাঝেও বাজারে কোন সরবরাহ ঘাটতি হয়নি, কোন পণ্যের দাম বাড়েনি, কোন মানুষ না খেয়ে থাকেনি। এই বিশাল সফলতা যে সরকার করতে পারে সেই সরকার কেন মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না? অবশ্যই পারবে। আসুন জনগণ আমরা সরকারকে সর্বতো সহযোগিতা করি।