করোনা প্রেক্ষিত : দিরাই এ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক একটি কর্মশালা

মোঃ ইসমাইল হোসেন
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক কর্মশালার পর, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও অতিথিবৃন্দের আগ্রহ উদ্দীপনা আর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ফলে বেড়ে যায় দায়িত্ব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে জেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে অনলাইন কার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয়তা বোধ করি চরম ভাবে। চিন্তা ঢুকে যায় মাথায় কিভাবে আরো বেশি শিক্ষকের কাছে পৌঁছা যায়। আরও বেশি বেশি শিক্ষক যুক্ত হতে পারেন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়তার কারণে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের সাথে একটা সু-সম্পর্ক হয়ে গেছে। একটা সুন্দর সম্পর্ক কত ভাবে যে মানুষের কাজে আসে আবারো বুঝলাম আজ। গত বুধবারে আমার পুরোনো এক বন্ধু তার একটি ক্লাসের ভিডিও আমার ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চান। আমার কাছে ক্লাসের উপস্থাপন সহ বেশ ক’টি দিক অসাধারণ লাগে। তবে টেকনিক্যাল কিছু বিষয় আরও ভাল করা যেত বলে আমার কাছে মনে হয়। এখানে বলেই ফেলি, আমার সেই পুরনো বন্ধু জনাব আবদুল মজিদ, প্রধান শিক্ষক, জারুলিয়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, দিরাই। যার সাথে আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে জগন্নাথপুরে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলাম। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে আমি বলি দিরাইয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা গেলে অনলাইন শিক্ষা বিষয়ক খুুঁটিনাটি যে সমস্যা আছে এগুলোকে দূর করে এ কার্যক্রম কে আরও বেগবান করা যায়। আমার এই প্রস্তাব শুনে তিনি যারপরনাই উৎসাহী হয়ে উঠেন। সাধুবাদ জানান এই ভলান্টারিংয়ের। একই সাথে তিনি ক’জন করিতকর্মা শিক্ষের কথা বলেন, যাদের সাথে আমার পূর্ব পরিচয় এবং সু-সম্পর্ক আছে। এদের একজন শিক্ষক নেতা মোস্তফা জামান রুমি, অন্যজন লালবাঁশি দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক, দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। কথা হয় তাদের সাথে। পজিটিভ সাড়া মিলে। রাতেই কথা বলি জেলা শিক্ষা অফিসার সুনামগঞ্জ স্যারের সাথে। তিনি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ রোববার অফিশিয়াল ট্যুর আছে দিরাইয়ে। এ সময়ের মাঝে করা যাবে কিনা। বৃহস্পতিবার সকালে আবার কথা হয় রুমি স্যার ও লালবাশি স্যারের সাথে। উনারা প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ জাফর ইকবাল সহ দেখা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব দেলোয়ার হোসেনের সাথে। তিনি যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন এমন একটি প্রোগ্রামের। লুফে নেন সেই প্রস্তাব। ফলে চূড়ান্ত হয়ে যায়। আয়োজন হয়ে যায় একটি সুন্দর সময়োপযোগী কর্মশালার। এক দিনের নোটিশেই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কর্মশালায় উপস্থিত হন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ৫২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা।
স্বেচ্ছাশ্রমে ছাতক ইউনিয়ন এস ই এস ডি পি মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন, জনতা উচ্চ বিদ্যালয় কামরাংগী এর প্রধান শিক্ষক জনাব কবিরুল ইসলাম, জনাব মিছবাহ উদ্দিন, জনাব অজয় কৃষ্ণ পাল, জনাব আল আমিন, জনাব আবু সালেহ নোমান, জনাব সাজাদ মিয়া, জনাব মহি উদ্দিন, জনাব খালিদুর রহমান ও জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন ও আমি নিজে সহ ১১ জন iCT4E, a2i জেলা এম্বাসাডর উপস্থিত থেকে সক্রিয়ভাবে সেশন পরিচালনার মাধ্যমে দিন ব্যাপি একটি উপভোগ্য ও ফলপ্রসূ কর্মশালার সফল পরিসমাপ্তি টানি। সফর সঙ্গী হিসাবে পাই সহকর্মী লিটন রঞ্জন তালুকদারকে। সঞ্চিত হয় আরও একটি মধুর অভিজ্ঞতা। প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল স্যারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে একে সমৃদ্ধ করেন জেলা শিক্ষা অফিসার সুনামগঞ্জ জনাব জাহাঙ্গীর আলম, বিশেষ অতিথি মাউশি সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক কার্যালয়ের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক জনাব হেপী বেগম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব দেলোয়ার হোসেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক শিক্ষিকাগণের স্বতস্ফূর্ততা। কর্মশালা শেষ পর্যায়ে যখন পার্টিসিপ্যান্টদের একজন (জনাব আজিজ) নিজের মুগ্ধতা থেকে সবার জন্য মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা করেন তার কোন জবাব হয় না। আমাদের প্রবল আপত্তি স্বত্ত্বেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন, দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক সহ উপস্থিত শিক্ষকগণের আতিথ্য ভুলবার নয়। আমার বন্ধু আব্দুল মজিদ নিজের বাসায় আমাদের জন্য রান্না করিয়েছেন। আমার বিশ্বাস এই স্বতস্ফূর্ত আন্তরিকতা, ত্যাগ, কখনো বিফল যেতে পারে না। আমাদের এ প্রয়াস চলবে। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কোথাও যদি সামান্যতম কাজে আসে তবেই স্বার্থকতা।
কৃতজ্ঞতা সবার জন্য।
ভালবাসা।
লেখক : মোঃ ইসমাইল হোসেন, ICT4E Ambassador, a2iও সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) , সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ।