করোনা : সদর হাসপাতালে সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো রোগীর সমাগম হচ্ছে। কিন্তু করোনার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশের সময় রোগীদের বা অভিভাবকদের জীবাণুমুক্ত হওয়ার বা সুরক্ষার ব্যবস্থা কম বলে দাবি করেছেন অনেকেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের প্রবেশ গেইটের বাম পাশে দুইটি হাত ধোয়ার বেসিন রয়েছে। কিন্তু বেসিন দুইটি নষ্ট দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় বাসিন্দা একজন জানান, এই বেসিনে একদিনও কাউকে হাত ধুতে দেখা যায়নি। হাত ধোয়ার জন্য বলে দিতে কোনো লোকও রাখা হয়নি। এমন অবস্থায় পড়ে থাকায় পানির টেপও নেই এখন।
হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেই দেখা যায় লিফটে যাতায়াতের জন্য অপেক্ষমান রয়েছেন অনেকে। লিফটের দরজা খুলতেই দেখা গেল প্রায় ১০ জন বের হয়ে আসছেন। তারা সবাই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন লিফটের ভেতরে। কেউ বের হবার আগেই লিফটে উঠার জন্য ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি শুরু করে দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু পাশেই রয়েছে উঠানামার জন্য সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে আগ্রহী নন কেউ। এই অবস্থায় লিফটে সামাজিক দূরত্ব বা শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। এমনকি যারা লিফটে যাতায়াত করেছেন তাদের কেউ মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।
মইনপুর গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, হাসপাতাল হামানির পর মুখোশ
লাগানির দরকার নাই। মুখোশ লাগানির কথা কেউ আমরারে কইছে না। নয়া আসপাতাল এমনই পরিস্কার। ডাক্তারের ধার আইছি রোগ ভালা অইবার ওষুধ নিতাম। আমরার কোনো করোনা না, গ্যাসের ওষুধ নিতাম আইছি।
মোল্লাপাড়ার গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, করোনায় ধরত না করি দোকান মাল কিনতে গেলে কত নিয়ম কানুন মানতে হয়। পয়লা হাত ধোয়ার পানি দেয় আর কয় দুর দুর থাখইন। হাসপাতাল ইতা কুনতা নাই। গায়ে গায়ে ঘষাঘষি খইরা বেজান হামাও আর বারঅও। এমন কথা জানালেন জলিলপুর গ্রামের জবান আলীও।
স্থানীয় বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে হাসপাতালকে সুরক্ষা রাখতে হবে কঠোরভাবে। মানুষ সুরক্ষা থাকার ব্যবস্থাও রাখতে হবে হাসপাতালে। সেই সাথে যারা হাসপাতালে প্রবেশ করবে তাদেরকেও সুরক্ষার বিষয়ে অবগত করতে হবে। প্রবেশকারী নিজ থেকে তা পালন করা উচিৎ। নইলে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘হাসপাতালে ৪টি বেসিন স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। সাবান, পানি সবই আছে। রোগী ও অভিভাবকেরা হাত ধুয়ে প্রবেশ করছে।