কর্মব্যস্ত ওয়ার্কসপ শ্রমিকরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজার। বৈশাখ মাসকে সামনে রেখে প্রচন্ড ব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছে এ বাজারের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের দোকানগুলো।
বৈশাখ মাসের ধান মাড়াইয়ের মেশিন ও ধান বোঝাইয়ের ঠেলাগাড়ি তৈরি ও রিপিয়ারিং-এর কাজ করেই তাদের এ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।
একই অবস্থা সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া, শান্তিগঞ্জ, আক্তাপাড়া, নোয়াখালীসহ প্রায় প্রতিটি বাজারে। চলতি সপ্তাহ থেকে বৈশাখী জমিতে বি-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। পাকতে শুরু করেছে বি-২৯ জাতের ধানও। আগামী সপ্তাহে পুরোপুরিভাবে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। তাই, আগে থেকেই মাড়াই মেশিন ও ধান বহনের ঠেলাগাড়ি প্রস্তুত করে রাখছেন সাধারণ কৃষকরা। এজন্য স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের দোকানগুলোতে এখন বাড়তি ভিড়। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয় মেশিনের কারিগরদের। কোনো সময় ভোর রাত পর্যন্তও কাজ করতে হচ্ছে তাদের। কথা বলার ফুরসত নেই যেনো কারও। গত বছর তাদের দোকানগুলোতে কোনো ভিড় ছিলো না। দোকানদাররা জানান, তাদের হাতে এখন প্রচুর কাজ। তারা মাড়াই কল, ঠেলাগাড়ি ও ইঞ্জিনের কাজের চাপে ঠিকমতো রাতে ঘুমাতে পারছেন না। এ অবস্থা চলবে আরো কিছু দিন। তবে এতে তাদের ব্যবসাও ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা।
বুধবার উপজেলার পাগলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাঁচটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের দেকানগুলোর সামনে একাধিক মাড়াই কল রাখা হয়েছে। কোথাও আবার ঠেলাগাড়ির ঝালাইয়ের কাজ হচ্ছে। কোথাও ইঞ্জিনের। কেউ কথা পর্যন্ত বলতে পারছেন না। সবাই কাজে ব্যস্ত। একটা মেশিন সারিয়ে আরেকটায় হাত দিতে হবে। এসব মেশিন, ইঞ্জিন ও ঠেলাগাড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে এ বাজারে আসে।
জয়কলসের আস্তমা, কামরূপদলং, সুলতানপুর, পূর্ব পাগলার চিকারকান্দি, খাড়ারাই, দামোধরতপী, ডিগারকান্দি, বীরগাঁও-এর সলফ, ধরমপুর, বীরগাঁও ও দরগাপাশার সীচনী, আক্তাপাড়া, নোয়াগাঁওসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব মেশিন, ইঞ্জিন আসে। দোকানদাররা গভীররাত পর্যন্ত কাজ করেন এসব দোকানে। দোকানের হাতুরি পেটার শব্দ বহুদূর পর্যন্ত যায়। রাতে ওয়েল্ডিং-এর আলোয় দূর থেকে মনে হয় বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে আকাশে। এ ব্যস্ততায় স্বস্তি অনেকের মনে।
এক কৃষক বলেন, ফলন যদি ভালো হয় সেই আশায় আমরা মেশিন ঠিক করাতে নিয়ে আসি। ফলন না হলে আমরা তখন একেবারে অসহায় হয়ে যাই। এ বছর ফসল ভালো হয়েছে। সবাই ধান কাটতে পারবে বলে ধারণা ঐ কৃষকের। এছাড়াও নতুন নতুন ধান মাড়াইয়ের মেশিনও নগদ বাকীতে বিক্রি হচ্ছে খুব।
পাগলা বাজারের ওয়ার্কসপ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন,‘ আমরা খুব খুশি। প্রচুর কাজ হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন কাজ আসছে, দিনেরাতে দুইতিনটা করে মেশিন ডেলিভারি দিতে পারি।’
আকাব ইঞ্জিনিয়ার এন্ড মেশিনারিজের সত্ত্বাধিকারী মো. আকাব মিয়া বলেন,‘বৈশাখের ফসল ভালো হলে কাজ হয়। গত তিন বছর ফসল হয়নি, ব্যবসাও ছিলো না। এ বছর প্রচুর কাজ আসছে।’
আরেক ব্যবসায়ী কালাম মিয়া বলেন, এবার ভাল কাজ হচ্ছে। চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে এখনো কাজ হচ্ছে।’