কর্মরতদের বেতন থেকে দেয়া হচ্ছে ৮ জনের পারিশ্রমিক

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
নিয়োগপ্রাপ্ত নয় অথচ এমন ৮ ব্যক্তি রয়েছেন যারা ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। এদের মধ্যে ১জন চিকিৎসা সহকারি, ১জন নাইটগার্ড, ১জন ওয়ার্ডবয়, ১জন আয়া, ১জন কুক মশালচী ও ৩জন ঝাড়–দার। তাদের জন্য সরকারি কোনো বেতন ভাতার ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন থেকে প্রতি মাসে তাদের ২১ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই পদগুলো খালি থাকায় হাসপাতালের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবার মান ধরে রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে স্থানীয়ভাবে ওই ব্যক্তিদের হাসপাতালে কাজে নিযুক্ত করে।
জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫৮টি পদের মধ্যে ৬৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এখানে প্রথম শ্রেণির ১৭টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ১৩টি, তৃতীয় শ্রেণির ১০৬টি, চতুর্থ শ্রেণির ২২টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), ১জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ১ জন এনেস্থেসিয়া, ১জন ডেন্টাল সার্জন, ৫জন সহকারি সার্জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ১জন নার্সিং সুপারভাইজার, ৪জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, তৃতীয় শ্রেণির ১জন করে পরিসংখ্যানবিদ, গুদামরক্ষক, এমটি (রেডিও), সহকারী নার্স, ৩জন অফিস সহকারি কাম মুদ্রাক্ষরিক, ২জন চিকিৎসা সহকারি, ২জন এমটি (ল্যাব), ৪জন এমটি (ফার্মা), ২জন সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১৩জন স্বাস্থ্য সহকারি ও ৪জন কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার, চতুর্থ শ্রেণির ৫জন এমএলএসএস, ১জন ওয়ার্ডবয়, ২জন আয়া, ২জন নিরাপত্তা প্রহরী, ২জন কুক মশালচী ও ৪জন ঝাড়–দারের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এ উপজেলার আড়াই লক্ষাধিক জনগণের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
সদ্য যোগদানকারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা বলেন, ‘এখানে এসেই শুনেছি সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার স্বার্থে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনের একটি অংশ থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কাজে নিযুক্ত ৮জন ব্যক্তির পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি একদিকে যেমন প্রশংসার দাবিদার অন্যদিকে অমানবিক। নিজের বেতনের টাকার একটি অংশ প্রতি মাসে এই খাতে ব্যয় করাটা অনেকের জন্য কষ্টদায়ক। শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি নিয়োগ বিধির ওপর হাইকোর্টের রুল থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ আছে। অধিদপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে যতদিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগ বিধি তৈরি না হচ্ছে ততদিন আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে লোকবল নেওয়া হবে। লোকবলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা রাখি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’