কসাইখানার গন্ধে জ্ঞান পলায়নপর

পুলক রাজ
জেলা সরকারি গ্রন্থাগার অবকাঠামোগত সমস্যাায় পড়ে পাঠকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। নতুন বইয়ের অভাবে কমছে পাঠক সংখ্যা। এছাড়াও বই সংরক্ষণের সেলফ সংকটের কারণে পর্যাপ্ত বই বিন্যস্ত করে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রন্থাগারের সামনের কসাইখানা থেকে দুর্গন্ধের কারণে গ্রন্থাগারে বই পড়তে আসতে চায় না বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ পাঠকরা।
সুনামগঞ্জ সরকারি গ্রন্থাগার শহরের হোসেন বখ্ত চত্তরের পাশে অবস্থিত। ভবনটির নির্মাণ কাজ ২০০৯ সালে আরম্ভ হয়ে ২০১১ সালে শেষ হয়। ভবনটি দীর্ঘদিন যাবৎ মেরামত না করার কারণে বাউন্ডারি ও স্থাপনার ভিতরে প্লাস্টার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে বাউন্ডারির বাহিরের দিকের মাটি সরে যাওয়ায় যে কোন সময় দেয়ালটি ধসে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদ দিয়ে পানি চুঁয়ে ভিতরে প্রবেশ করছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বইয়ের সংকট ব্যাপক। এদিকে গ্রন্থাগারের প্রবেশের গেইটে গড়ে উঠেছে একটি কসাইখানা। কসাইখানার বর্জ্য ড্রেনে ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে।
পাঠক সাগর রায় বলেন, সুনামগঞ্জ সরকারি গ্রন্থাগার সন্ধ্যা ছয়টার সময় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পাঠক সন্ধ্যায় লাইব্রেরিতে পত্রিকা কিংবা বই পাঠ করতে আসেন কিন্তু পড়তে পারেন না। পাঠক সংখ্যা কমে যাওয়ার এটিও একটি কারণ।।
গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক সুকান্ত দত্ত বলেন, সপ্তাহে পাঁচদিন লাইব্রেরি খোলা থাকে। লাইব্রেরির প্রবেশদ্বারে কসাইখানাটা যদি এইখান থেকে সরিয়ে অন্য কোথায় নেয়া হয় তাহলে পাঠকদের জন্য সুবিধা হয়। বসার সিট অনেক কম। যারা বই পড়তে আসেন একটু বিলম্ব হলেই বসার সিট পাওয়া যায় না। গ্রন্থাগারে কোনো আপডেট বই পাওয়া যায় না। দুই বছর অথবা তিন বছর আগের বই সব।
পাঠক ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার সরকারি গ্রন্থাগারের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। কসাইখানার জন্য লাইব্রেরির গেইটের সামনে জটলা লেগেই থাকে সব সময়। যার কারণে আমাদের
পড়াশুনা করতে ব্যাঘাত ঘটে। নতুন বই কিংবা সংকলন একেবারে নেই বললেই চলে। আমরা চাই আমাদের জেলা সরকারি গণ-গ্রন্থাগার পাঠকদের কাছে জ্ঞান অন্বেষণ ও আহরণের একটি নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠুক।
পাঠক মলয় চন্দ্র কর বলেন, আমাদের সুনামগঞ্জে এরকম সরকারি একটা লাইব্রেরি আছে এটা অনেকেই জানেন না। আমি মনে করি সুনামগঞ্জ সরকারি লাইব্রেরিতে যে পাঠক সংখ্যা অন্যান্য লাইব্রেরির তুলনায় সেটা অনেকটাই কম। পাঠক সংখ্যা অরো বৃদ্ধি করা উচিৎ । এখন লাইব্রেরির পরিবেশ পাঠক উপযোগি নয়। লাইব্রেরির পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকা বাঞ্ছনীয়। লাইব্রেরির পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পরিবেশ সুন্দর রাখাতে হবে।
পাঠাগারের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান আনিছুর রহমান বলেন, অবকাঠামোর সমস্যার কারণে ভবনে অনেক জায়গায় রং উঠে গেছে এবং দেয়াল চুঁয়ে পানি ভিতরে চলে আসে।
তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় গ্রন্থাগারে সীমিত বাজেট আসে। ভবনের কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে বাউন্ডারি। এটি মেরামত করতে অনেক টাকার দরকারত্থবিদ্যুত সমস্যার প্রাথমিক সমাধান হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ থাকায় কিন্তু একটা জেনারেটর হলে আরও ভাল হত। দিনে দিনে আমাদের পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। লাইব্রেরীর বুক সেলফ সবগুলো ব্যবহার হচ্ছে। বুক সেলফ আরো দরকার। এছাড়াও গ্রন্থাগারের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরার প্রয়োজন। অফিস স্টাফের ৮ টি পদের বিপরীতে ৪ জন আছেন। জনবল যদি পর্যাপ্ত হয় তাহলে পাঠক সেবা আরো ভালো দিতে পারব।