কাইয়ারগাঁওয়ে সংঘর্ষের ঘটনা সালিশে নিষ্পত্তির উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনায় পাল্টা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। এলাকায় উত্তেজনায় ঘটনার নিষ্পত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা উদ্যোগ নিয়েছেন।
সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, কাইয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ আহমদ এবং একই গ্রামের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম মানিক মিয়ার স্বজনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ সৃষ্টি হয়ে আসছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১৭ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকালে চলতি নদীতে বালু উত্তোলন করতে গেলে মানিকের লোকজনকে বাধা দেয়া হয়। কিন্তু এ সময় ফরিদ আহমদের লোজনের সাথে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে কেউ কেউ বলছেন। এই ঘটনার জের ধরে ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। মারামারির ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই প্রতিবেদক কথা বলার সময় ফরিদ আহমদের পক্ষের জাহেদা খাতুন, দানিস মিয়া, মাজেদা খাতুন, সাদেক মিয়া, হারুন মিয়া, শহীদ মিয়া, পান্না বেগম, জামিনা খাতুন, আম্বিয়া খাতুন, আব্দুল মোতাল্লিব, হাসম আলীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম মানিকের পক্ষের মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলী, মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান, আবু তাহের, আবুল কাশেম, শহীদুল্লাহ, মোসাদ্দেক মিয়া, নুর মিয়া, কামাল হোসেন, বিল্লাল মিয়া, দেলোয়ার মিয়া, ধন মিয়া, জি.এম. হাওয়া বেগম, খায়রুন নেছা, জামিলা খাতুনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে ফরিদ আহমদ বলেছেন, নজরুল ইসলাম মানিক ও তাঁর লোকজন দীর্ঘদিন ধরে চলতি নদীতে চাঁদা আদায় করে আসছে। আমি মানিকের বিরুদ্ধে অবৈধ চাঁদা আদায়ের কারণে আদালতে মামলা করেছি। এই মামলা তোলে আনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল মানিক। ওইদিন আমাদের লোকজনের কাছে চাঁদা দাবি করায় তার সাথে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাক্ষণিকভাবে মানিকের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করে এবং মারপিট করে ২৮ জনকে আহত করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানের ৮টি ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচোরসহ আসবাবপত্র নষ্ট করেছে। মারামারির ঘটনায় লুটপাট হয়েছে।
নজরুল ইসলাম মানিক মিয়ার শ^াশুড়ি জি.এম হাওয়া বেগম ও স্ত্রী খায়রুন নেছা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে চলতি নদীতে বালু তোলতে গেলে আমাদের ১ জনকে মারধর করেছে ফরিদ আহমদের লোকজন। শুক্রবার সকালে মারামারির ঘটনায় আমাদের প্রায় ১৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার সময় আমাদের লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করেনি। ফরিদ মিয়ার স্বজনরা নিজেরাই ঘরে ভাঙচোর করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালের ঘটনার পর বিকালে চৌমুহনী বাজারে নজরুল ইসলাম মানিককে মারধরের চেষ্টা চালায় এবং মোবাইল ফোনে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় সন্ধ্যায় সদর মডেল থানায় জিডি করা হয়। এই জিডি হওয়ার খবর পেয়ে ফরিদ আহমদের লোকজন বেপরোয়া হয়ে উঠে।
জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুকশেদ আলী বলেন, ‘আমি সরেজমিনে ঘটনার শেষের দিকে যাই। গিয়ে দেখেছি অনেকেই আহত হয়েছেন। কয়েকটি ঘর ভাঙা দেখেছি, কে ভেঙেছে তা জানি না। ঘটনা সালিশে নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
সদর মডেল থানার এস.আই জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার দিন এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। থানায় মামলা হয়েছে।’