কাউকে অনুকরণ নয়, আমি আমার মতো হতে চেয়েছি- অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু

লন্ডন প্রতিনিধি
অভিনয় জগতের দীর্ঘ অনুশীলনে একক কাউকে অনুকরণ নয়, তিনি নিজে নিজের মতো হতে চেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় ও খ্যাতিমান অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু।
লন্ডনে তার সম্মানে সত্যবানী আয়োজিত দীর্ঘ আড্ডায় মেতে উঠা বাংলা নাটকের কিংবদন্তী অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমার নাটকের গুরু মামুনুর রশীদ। আমি তাঁর কাছ থেকে শিখার চেষ্টা করেছি, শিখেছি অনেক। অভিনয়ের সময় যারা সামনে থাকতেন তাদের কথা শুনতাম, অনুশীলন করতাম। কিন্তু অভিনয় করতাম আমার নিজের মতো করে। আসলে অভিনয় জীবনের প্রথম থেকেই কাউকে অনুকরণ নয়, আমি আমার মতো হতে চেয়েছি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সত্যবাণীর উপদেষ্টা সম্পাদক আবু মুসা হাসান ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা।
কথোপকথন ও প্রশ্নোত্তর পর্ব উপস্থাপনা করেন, বিলেতের সুপরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বুলবুল হাসান।
অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু বলেন, আমি ফরিদপুরের মানুষ। নদী বেষ্টিত আমার এলাকার প্রকৃতি নিয়মিতই আমাকে টানে। নদীর সাথে আমার নাড়ির সম্পর্ক। প্রকৃতিই আসলে আমাকে গড়ে তুলেছে।’
পাড়ার এক বড় ভাইয়ের আহবানে প্রথম অভিনয়, এমন তথ্য দিয়ে তিনি জানান, ফরিদপুরে আয়োজিত জাতীয় নাট্যৎসবে অভিনয়ের মাধ্যমেই এ জগতে তাঁর প্রথম পদার্পন। পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আসার পর নাটককে নিজের করে নেন।
বাবু বলেন, ‘অভিনয় আমার পছন্দের পেশা। আমি এমন একজন ভাগ্যবান মানুষ, যে নিজের পছন্দের বিষয়টিকে পেশা হিসেবে নিতে পেরেছে। আমি সব সময়ই সর্বোত ভাবে চেষ্টা করি যাতে পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই আমি আমার কাজটি করতে পারি’।
একজন অভিনেতার জন্য আরাধ্য জায়গা হলো মঞ্চ ও চলচ্ছিত্র, এমন মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘বিগত মাঝখানের দুটি দশক আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য খুবই খারাপ সময় ছিলো, নামতে নামতে এমন স্থানে এসেছিলাম আমরা যে রুচিবান দর্শক সিনেমা হলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই সময়ে সিনেমার সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু দর্শক কমেছে। আগে ৫০টি চলচ্চিত্র তৈরী হলে এরমধ্যে ১০টি থাকতো ভালো রুচিশীল। আর এখন ৫শ টি সিনেমা হলে, এর মধ্যে ভালো সিনেমা থাকে বড় জোড় ১১টি। আর একারনেই এক সময় সারা দেশে ২৪শ সিনেমা হল থাকলেও এখন ঠিকে আছে মাত্র ২শ।’
ভবিষ্যতে আপনার দর্শকরা আপনাকে কতটুকু মনে রাখবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যত বলার ক্ষমতা নেই আমার। মানুষের স্মৃতিতেই আমাদের বেঁচে থাকা। দর্শকদের স্মৃতিতে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়, অভিনয় করতে গিয়ে আমি সবসময়ই সেই চেষ্টা করি’।
কথোপকথন পর্বে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সংস্কৃতিকর্মী মাহফুজা তালুকদার, সত্যবাণীর বার্তা সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমিন অনুষ্ঠান সহযোগী প্রবাসী পল্লীর পরিচালকমন্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও কেমডেন ল সেন্টারের সাবেক কর্মকর্তা জামাল হাসান, ইমিগ্রেশন এডভাইজার মাহমুদ কাইয়ুম, অভিনেত্রী মাহফুজা তালুকদার, গুলশান হাসান, রুমী হক, তানজিলা, চ্যানেল এস’র রেজাউল করিম মৃধা, টেলিভিশন উপস্থাপিকা উর্মী মাজহার, সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, কালের কন্ঠের লন্ডন প্রতিনিধি জুয়েল রাজ, এনটিভি’র আকরাম হোসেইন, ফটো সাংবাদিক জি আর সোহেল ও নাহিদ জায়গীরদার, রাজনীতিক সৈয়দ এনামুল ইসলাম, যুবনেতা সৈয়দ মুমিন, শহীদ শেখ, ছাত্রনেতা তামিম ও সজিব, ব্যবসায়ী সৈয়দ আসাদ হক, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট সৈয়দা বিলকিস মনসুর, সৈয়দা নাসিহা হক প্রমুখ।
কথোপকথন পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে ফজলুর রহমান বাবু ‘নিথুয়া পাতারে নেমেছি বন্ধুরে ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই’ গানটি গেয়ে শোনান। এই পর্বে অন্যানের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাইদা তানি, পরাগ হাসান ও রাজিয়া রহমান।