কাউন্সিলর রাসেলের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক অফিস সহায়ককে বেধরক মারধরের অভিযোগে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুসেন আহমেদ রাসেল’এর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। আহত জাকারিয়া (৩২) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম তেঘরিয়ার সাঞ্জব আলী’র ছেলে।
মামলা ও জাকারিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাকারিয়া তাঁর ছোটবোনের বিয়ের কাঠের আসবাবপত্র পৌর শহরের ষোলঘর এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে কিনেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ষোলঘর পয়েন্টের পাশে থাকা ওই দোকান থেকে এসব আসবাব আনার জন্য একটি ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। এ সময় সড়কে কিছুটা জ্যামের সৃষ্টি হয়। তখন হঠাৎ করে একটি মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় কাউন্সিলর হুসেন আহমদ রাসেল সেখানে আসেন। এরপর তিনি ট্রাক চালককে গালিগালাজ করার এক পর্যায়ে মারধর শুরু করেন। তখন জাকারিয়া এগিয়ে গেলে তাঁকেও বেধরক মারধর শুরু করেন কাউন্সিলর হুসেন আহমদ রাসেল। কাউন্সিলর তখন মাতাল অবস্থায় ছিলেন। তিনি ডিসি অফিসের কর্মচারী হিসেবে তাঁর পরিচয়পত্র দেখিয়ে মারধর না করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এরপর তাকে পৌরসভায় নিয়ে আবার মারধর করা হয়।
জাকরিয়া বলেন,‘আমাকে রাস্তায় ফেলে প্রথমে এবং পরে পৌরসভায় নিয়ে দ্বিতীয় দফা মারধর করা হয়েছে। তার মারধরে আমার কানের পর্দা ফেটে গেছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে পৌরসভা থেকে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’
রাতে হাসাতপালের ভর্তি করার পর জাকারিয়াকে দেখতে এবং তার চিকিৎসার
খোঁজ নিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা সেখানে যান। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে পাঠানো হয়। বুধবার রাতেই জাকারিয়ার ছোট ভাই দিদার হোসেন বাদী হয়ে কাউন্সিলর হুসেন আহমেদ রাসেলের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, জাকারিয়ার কান দিয়ে রক্ত বেরোনোয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে বৃহস্পতিবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জাকারিয়ার ভাই দিদার হোসেন জানিয়েছেন, তার ভাইকে বেধরক মারপিট করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম রয়েছে। এঘটনার ন্যায় বিচার চান তারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল বলেন, ‘সরু সড়কে ৭ টনের ট্রাক দেখে তিনি চালককে ট্রাক সরানোর জন্য বলেন। এক পর্যায়ে জাকারিয়া তার শরীরে হাত দিয়ে বলেন, আপনি চলে যান, আমরা এখান থেকে মাল ওঠাবো। আমি তাকে শরীরে হাত দিয়েছো কেন বলায় সে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে তাকে পৌরসভার আসার জন্য বলি। পৌরসভায় গেলে মেয়র সাহেব সবকিছু জেনে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে বিদায় করে দেন। এরপর শুনি সে অজ্ঞান, তাকে মারপিট করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সাজানো।’
পৌর মেয়র নাদের বখ্ত বলেন, পৌরসভায় অন্য একটি অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। হঠাৎ হৈ-চৈ শুনে বের হয়ে দুই পক্ষকে বিদায় করে দিয়ে বলি এই বিষয়ে পরে দেখবো। এরপর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছ থেকে শুনি ছেলেটিকে মারধর করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সহিদুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি আমরা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ঘটনাটি শুনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার জন্য নির্দেশ দিয়েছি আমি।