কাটাখাল ও ভমভমি বেইলি সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করা হোক

জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর সিলেট বিভাগের সবচাইতে বড় সেতু নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। হয়তো অল্পদিনের ব্যবধানেই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এই সেতু তৈরির ফলে সুনামগঞ্জ এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। ভোরে সুনামগঞ্জ থেকে রওয়ানা হয়ে রাজধানীতে কাজ সেরে হয়তো রাতেই বাড়ি ফেরা সম্ভব হবে তখন। তাই এতদঞ্চলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন সেতুটি চালু হবে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এই সেতু ও সংশ্লিষ্ট সড়কের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যেখানে দুইটি বেইলি সেতুর কারণে কুশিয়ারা সেতুর পূর্ণ সুফল পাওয়া বিঘিœত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুইটি সেতু হলোÑ কাটাখাল সেতু ও ভমভমি সেতু। গেল বন্যায় কাটাখালি সেতুটি ধসে যায়। এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কোনোভাবে চালু করা হয়েছে। ভমভমি সেতুর অবস্থাও তথৈবচ। এখন রানীগঞ্জ ফেরি দিয়ে অনেক ছোট গাড়ি ঢাকায় যাতায়াত করে। এসব গাড়ির চালকরা কাটাখাল ও ভমভমি সেতুর দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যখন কুশিয়ারা সেতু খোলে দেয়া হবে তখন ওই দুই জরাজীর্ণ সেতুর কারণে যাতায়াত দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। এসব স্থানে গাড়ির দীর্ঘ সারি আটকা পড়ে থাকবে। ঘটতে পারে ছোট বড় দুর্ঘটনাও। তাদের দাবি এই দুই সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করার। যেকোনো উন্নয়ন কাজের পূর্বশর্ত হচ্ছে এর সর্বোচ্চ সুফল আদায় করা। এজন্য ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ব্যবস্থারও উন্নয়ন সাধন অপরিহার্য। রাস্তা বা সেতু জরাজীর্ণ রেখে একটি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করে দিলে মূলত যে সুফল পাওয়ার আশা করা হয়ে থাকে তা কখনও পাওয়া যাবে না।
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ভমভমি সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কাটাখাল সেতুটি কোনো একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কাজগুলো এখন করার কথা ছিল না। যখন কুশিয়ারা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় তখনই পুরো সড়কের যেখানে যত সংস্কার ও উন্নয়ন দরকার একসাথে শুরু করা উচিৎ ছিল। পরিকল্পনাও সেভাবেই করার কথা। কিন্তু আমাদের পরিকল্পকদের খ-িত দৃষ্টি সবসময় পুরো অবস্থা দেখতে সক্ষম হয় না। মসৃন ও সুপ্রশস্ত রাস্তার উপর দঘদঘে ঘায়ের মত বিদ্যমান এই দুই বেইলি সেতু রেখে দেওয়া এর প্রমাণ। যাহোক বিষয়টি যে কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে সেটিই আপাতত স্বস্তির। আমরা আশা করব ভমভমি সেতুর যেহেতু দরপত্র আহ্বান হয়ে গেছে সেহেতু এটির নির্মাণ কাজ শুরু করতে বিলম্ব হবে না। আর কাটাখাল সেতুটিকে যেকোনোভাবে নতুন করে নির্মাণের আওতায় আনার সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। এই এলাকার সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তঁকে সঠিক পরিকল্পনা দিতে পারলে সেটি বাস্তবায়ন করা খুব দুরূহ কিছু হবে না। মানুষ চায় কুশিয়ারা সেতুর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করে রাজধানীর সাথে যাতায়াতকে সুগম করতে। দূরত্ব বিষয়টি এখন আর কিলোমিটারের হিসাবে করা হয় না। বরং সময়ের হিসাবে দূরত্ব পরিমাপ করা হয়ে থাকে। কুশিয়ারা সেতু নির্মাণের পরও যদি যাতায়াতের সময় না বাঁচে তাহলে কিছু কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে মূলত মানুষের কোনো উপকারই হবে না। আসল কথা হলো যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা। রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা রেখে অর্জন করা যা কখনও সম্ভব হবে না।
বর্ণিত বেইলি সেতু দুইটি ভেঙে তদস্থলে দ্রুত নতুন সেতু তৈরির দাবি আমাদের।