কাঠইর-জামালগঞ্জ সড়ক/ মরণফাঁদ নয় স্বস্তির সড়ক চাই

সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কটি সুনামগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। শান্তিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার লোকজন এই সড়ক ব্যবহার করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাঠইর অংশ থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি আগে থেকেই খারাপ ছিলো। গেল ভয়াবহ বন্যায় এই খারাপ অবস্থাকে ভয়াবহ খারাপ অবস্থায় পরিণত করেছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে যখন এইসব গর্ত পানিতে ভরা থাকে তখন কোথায় গর্ত সেটি বুঝা যায় না। দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রবল হয়। এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কপথ দিয়ে বাধ্য হয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলো শুধু রাস্তার বেহাল দশার জন্য ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। গাড়িচালকদের বক্তব্য হলোÑ এই সড়কে একবার গাড়ি চালালে মেরামত করতে অনেক টাকা খরচ হয়, তাই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের গত্যন্তর নেই। বেচারা জনসাধারণ পড়েছে বিপদে। একদিকে যেমন বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারি দিতে হচ্ছে। সবচাইতে বেশি সমস্যা হয় রোগী, শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলাদের। সড়ক সংস্কারের দাবিতে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন বৃহস্পতিবার সড়কের জয়নগরবাজার-সর্দারপুর পয়েন্টে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। তবে এসব মানববন্ধনে যে খুব একটা কাজ হয় না তা আমরা অতীত অভিজ্ঞতা দিয়ে বেশ বুঝতে পারি।
একটি রাস্তা ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে খারাপ হতেই পারে। যদিও আমাদের দেশে নতুন রাস্তাও কিছুদিনের মাথায়ই খারাপ হয়ে পড়ে। রাস্তা খারাপ হলে তাৎক্ষণিক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিশ্চয়ই আপৎকালীন জরুরি ব্যবস্থা থাকে। ওই তহবিল ব্যবহার করে মেরামত কাজ করা হলে রাস্তার অবস্থা আরও বেশি খারাপ হওয়া থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু আমরা দেখে আসছি কোনো রাস্তার সামান্য অংশ নষ্ট হলে সে অংশ ঠিক করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় না। আস্তে আস্তে ভাঙাচুড়া রাস্তার দৈর্ঘ ও পরিধি বাড়তে থাকে, একসময় পুরো রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কটিও এর ব্যতিক্রম নয়। এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, আগামী ২৭ বা ২৮ তারিখে এশিয়ান ডেভেলপম্যান্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা সড়ক পরিদর্শনে আসবেন। তবে কবে নাগাদ সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে তিনি তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। অর্থাৎ এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে যে আরও দীর্ঘদিন দুর্ভোগ সইতে হবে তা বেশ বুঝাই যাচ্ছে।
এখানে আমাদের স্পষ্ট কথা হলো, মূল মেরামত কাজ শুরু করার তহবিল সংস্থান ও বিধিসম্মত প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার আগে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। অন্তত ইটের সুরকি ও বালু-সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে বিপদজনক গর্তগুলো ভরাট করে দেয়া যেতে পারে। এই কাজে খুব বেশি অর্থ খরচের প্রয়োজন পড়ে না। এটুকু করা গেলে এখন সড়কে যে ভয়াবহ ঝুঁকি তা কিছুটা হলেও কমবে। এই ২৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বহু ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। রয়েছে অন্তত ২টি উপজেলা পরিষদ। এরা সকলে মিলে উদ্যোগ নিলে মেরামতের এই সামান্য কাজ হতে পারে না? এলজিইডিও তো এমন জরুরি মেরামত করার ক্ষমতা রাখে। তাহলে হচ্ছে না কেন? মানুষ ঝুঁকি নিয়েই চলছে, তাই?
যাহোক, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের কাঠইর থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত বিপদজনক ২৬ কিলোমিটার রাস্তার মূল সংস্কার কাজের অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজ করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাই। একটি জনপথকে মরণফাঁদ নয় স্বস্তির সড়কে রূপান্তরিত করাই এলজিইডি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব।