কাঠইর-জামালগঞ্জ সড়ক যেন মরণফাঁদ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের কাঠইড় পয়েন্ট তিন উপজেলার সংযোগ সড়ক। কাঠইড় পয়েন্ট থেকে জামালগঞ্জ ২৬ কিলোমিটার। এই সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে আছে। মরণ ফাঁদ বললেও অত্যুক্তি হবে না। তিন উপজেলার লাখো মানুষের দুর্ভোগের পথ এখন এটি।
জামালগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ অংশের বাসিন্দাদের সুনামগঞ্জ জেলা শহর, সিলেট বিভাগী শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করার সড়ক এটি। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এবং বিশাল অঞ্চলের রোগীদের জন্য সড়কটি এখন মরণ ফাঁদ। মাঝখানে গর্ত হওয়া কিংবা ঢালাই না থাকায় এই সড়কে যানবাহন নিয়ে যেতে চান না পরিবহণ শ্রমিকরাও। ভাঙা সড়কের কারণে অনেক চালক পথ বদল করে অন্য সড়কে চালাচ্ছেন। এই সড়ক দিয়ে কালে-ভদ্রে যানবাহন চললেও দ্বিগুন ভাড়া গুণতে হয়।
জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ (আংশিক অংশ) এই তিন উপজেলাবাসীর দুঃখই কাঠইর-জামালগঞ্জের এ সড়ক। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালগঞ্জ-কাঠইর সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিতে জয়নগর বাজার-সর্দারপুর পয়েন্টে এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহ সভাপতি কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে যুব ও ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সড়ক দ্রুত সংস্কার করা না হলে আরো বড় ধরণের কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানানো হয় মানববন্ধনে।
কাঠইর-জামালগঞ্জ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, কাঠইর পয়েন্টেই সড়কের মাঝখানে বড় গর্ত। যেন ছোটখাটো একটা পুকুর হয়ে আছে সড়কে। চন্ডিটিয়র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের অংশ, একই এলাকার সেতুর পূর্ব এবং পশ্চিমাংশ, নারিকিলা পয়েন্টের পূর্বাংশ, শাখাইতি-হুসেননগর এলাকার সড়কের বেহাল দশা। পরের অংশের আরো বেশি খারাপ অবস্থা। খানাখন্দ ও গর্তে ভরপুর সড়ক। হুসেন নগরের সেতুর পশ্চিমাংশ থেকে জয়নগর বাজার-সর্দারপুর পয়েন্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়ক ভাঙা আর গর্তে ভরা।
গেল জুনের বন্যার আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কারের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখলেও বন্যা পরবর্তীতে আর কাজ শুরু হয় নি। জয়নগর বাজার-সর্দারপুর পয়েন্ট থেকে জামালগঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্তও সড়কে এমন বেহাল দশা।
নিরাপদ সড়ক চাই এর সংগঠক কামরুল ইসলাম বললেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দিরাইর সড়ক মুখে আরেকটি মানববন্ধন হবে।
সকলের একটাই দাবি, কাঠইর-জামালগঞ্জের সড়কটি যেনো দ্রুত সংস্কার করা হয়।
হুসেননগর গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি মো. আবদুল হেকিম, নোয়াগাঁও গ্রামের মো. মহির উদ্দিন, মো. বায়জিদ বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি করছি। রুগী নিয়ে যেতে আমরা ভয় পাই। গর্ভবতী মহিলা নিয়ে যেতে হলে তো, চিন্তার শেষ থাকে না। জয়নগর বাজার-সর্দারপুর পয়েন্টের পরিবহণ শ্রমিক মঈন উদ্দিন, লেগুনা চালক শামীম মিয়া, মোটরসাইকেল চালক রুপন আহমদ ও অটোচালক রমিজ আলী বললেন, ভাড়া কী আর আমরা স্বাদে বাড়িয়েছি? একবার আপ-ডাউন (আসা-যাওয়া) করলে গাড়িতে কাজ করাতে হয়। রাস্তা যেভাবে ভাঙছে, এভাবে চলতে থাকলে এ রাস্তায় গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না। অধিকাংশ যানবাহন এই রাস্তা থেকে সরে গেছে। গাড়ি কম, যাত্রী বেশি, ভাঙা রাস্তা সব মিলিয়ে সামান্য সময়ের জন্য ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। রাস্তা ঠিক হয়ে গেলে সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই আমরা গাড়ি চালাবো।
কাঠইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি শামসুল ইসলামকে এ বিষয়ে জানতে ফোন দিলে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন রাস্তা পরিদর্শন করে আপনি (প্রতিবেদক) সুস্থ্য আছেন কি না? রাস্তার যে দশা আপনি তো সুস্থ্য থাকার কথা না। তিনি বলেন, আমরা যারা এ রাস্তায় চলাচল করি তাদের অবস্থা তো শেষই। যদি কোনো রোগীকে এ রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে সে রোগী রাস্তাতেই মারা যাবেন। গর্ভবর্তী মহিলা হলে তো কথাই নেই। রাস্তায় প্রসব হবে। দু’একদিনের মধ্যে ইউনিয়নবাসী দিরাই রাস্তার মুখে এসে রাস্তা সংস্তারের দাবিতে মাববন্ধন করবেন শুনেছি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, কাঠইর-জামালগঞ্জ সড়কের ব্যপারে আমরা পূর্ব থেকেই অবগত। ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কারের জন্য প্রকল্প প্রস্তত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি। চেষ্টা করা হচ্ছে বিদেশি অর্থায়নে সড়কটি সংস্কার করার। আমাদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ২৭ কিংবা ২৮ তারিখ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শনে আসছেন। কবে নাগাদ সড়ক সংস্কার প্রকল্পের অনুমোদন হবে এমন প্রশ্নে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে, আগামী হেমন্তের আগে আসতে পারে এমনটাই আশা করছি। বন্যার আগে একটা গ্রুপ কাজ করেছিলো, বন্যায় সব ওয়াস আউট হয়ে গেছে।