কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ইসলামপুর গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
২শ’ থেকে ৩শ’ পরিবারের বসবাস দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। লোক সংখ্যা হবে সহস্রাধিক। গ্রামে আছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শতাধিক শিক্ষার্থী। গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি পাগলা বাজারের উত্তরাংশ থেকে মহাসিং নদীর পশ্চিমপাড় ঘেঁষে ময়না মিয়ার মাছের খামার হয়ে ইসলামপুর (নয়াগাঁও) পর্যন্ত গিয়েছে। প্রায় অর্ধকিলোমিটারের এ রাস্তাটির এখন বেহাল দশা। শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সহ¯্রাধিক মানুষের চলাচলের এ রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ বন্যার পানিতে ইতোমধ্যে ডুবে গেছে। যেটুকু অংশ এখনো ভাসমান সে অংশও কাদার জন্য চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এতে চলাচল করতে পারছে না গ্রামে বসবাসকারী জনগণ, নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। রাস্তা ডুবার কারণে আর একটু পানি বাড়লেই পানিতে তলিয়ে যেতে পারে গ্রামটি।
জানা যায়, সামন্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। পা পিছলে মানুষ মাটিতে পড়ে যায়। নদীর পাড়ে রাস্তা থাকার কারণে প্রায় অংশই ভেঙ্গে যায়। এই ক’দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী ও হাওরের পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে রাস্তার নয়াগাঁও অংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। যে অংশ বাকী আছে সে অংশও কাদায় এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে যে, তা আর চলাচলের অবস্থার মধ্যে নেই। নয়াগাঁওয়ের লোকজন নৌকা ছাড়া চলাচল করতে পারছেন না।
অপরদিকে ইসলামপুরের শিক্ষার্থীসহ সকলেই চলাচল করতে হচ্ছে কাদা মাড়িয়ে। অনেক দিন থেকেই রাস্তাটি পাকা করণের দাবি এলাকাবাসীর। তাদের দাবি অন্তত পাগলা বাজারের উত্তরাংশ থেকে ইসলামপুরের শেষাংশ পর্যন্ত যদি রাস্তাটি পাকা করা হলে দুর্ভোগ অনেকাংশেই কমে যাবে এলাকাবাসীর।
ইসলামপুর গ্রামের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিপ্তা বেগম জানান, কলেজে আসতে হলে খুব ঝুঁকি নিয়ে আসতে হয়। কখন যেনো রাস্তায় পড়ে যাই। প্রচ- রকমের পিচ্ছিল রাস্তায় কাদায় ভরা। জুতা হাতে নিয়ে আমাদের চলাফেরা করতে হয়। ছোট ছোট স্কুল মাদ্রাসাগামী ছাত্রছাত্রীদের দুর্ভোগ তো আরও বেশি। মা বাবারা কোলে করে তাদেরকে রাস্তা পার করে দিতে হয়। রাস্তাটি পাকা হলে আমাদের দুর্ভোগ দূর হবে।
মুক্তার আলী নামের ঐ গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, আমাদের চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। রাস্তাটি পাকা করার জন্য স্থানীয় সরকারের কাছে আমার আবেদন রইলো।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, পাকা করার মতো পর্যাপ্ত মাটি রাস্তায় নেই। তাই এতোদিন পাকা করতে পারিনি। এখন হাতে কোনো বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। আগামীতে বরাদ্দ আসলে রাস্তায় মাটি ফেলে পাকা করতে হবে।