কানাইখালি নদী খননের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ

কানাইখালি নদী দিয়ে বৃহত্তর পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশিত হয়। সকলের জানা যে, পাগনার হাওরের বেশির ভাগ জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে গত ২০ বছর যাবৎ চাষাবাদের বাইরে রয়েছে। টাকার অংকে প্রতি বছর প্রায় ৮৮ কোটি টাকার ধান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতি বছর এই হাওরের জলাবদ্ধ জমির মালিকরা। স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন যাবৎ কানাইখালি নদী ও তৎসংযুক্ত হাওরের খালগুলো খননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গতবছর কাগজেপত্রে নদী ও খাল খননের কিছু কাজও হয়েছিল। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, গত বছর সবচাইতে বেশি টাকার খনন কাজ করেছে বিএডিসি। ৬ কিলোমিটার খনন প্রকল্পের আওতায় তারা ৩.৭ কিলোমিটার খনন করার দাবি করেছেন। প্রতি কিলোমিটার খননে বিএডিসি ১২ লাখ টাকা হারে খরচ করেছে। অন্যদিকে এলজিইডি হিলিপ প্রকল্পের মাধ্যমে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথকভাবেও খননের কাজ করেছে বলে ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজ করলে তার একটি ফলাফল থাকে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এই খননের ফলে হাওরের জলাবদ্ধতা দূরিকরণে কোন সুফল পাওয়া যায় নি। সুফল যে পাওয়া যায় নি তার বড় প্রমাণ হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারই পাগনার হাওরের প্রায় ৮০ ভাগ জমি চাষাবাদের বাইরে থেকেছে। পাগনার হাওরপাড়ের কৃষকদের অভিমত হলো কথিত খনন কাজ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না, এমনকি ক্থোায় কী পরিমাণ খনন হয়েছে তাও তাদের জানা নেই। একটি এলাকার বহু কৃষকের বছরের একমাত্র আবাদী জমি নিয়ে এমন কর্মকা- সত্যিকার অর্থেই দুঃখজনক। অবশ্য স্থানীয়দের এই দাবির বিপরীতে কাজ সম্পন্নকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা যথাযথভাবে খনন কাজ করিয়েছেন। সরকারি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের কথাবার্তার মধ্যে এমন বৈসাদৃশ্য নিরসন করা উচিৎ। নতুবা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। জনগণের সাথে সরকারের এই দূরত্বই মূলত যাবতীয় দুর্নীতির উৎস হিসাবে কাজ করে। দুর্নীতিবাজরা চায় না, স্থানীয় কেউ উন্নয়ন কাজে নাক গলাক। অথচ সকল উন্নয়ন কাজে এমন জন-তদারকী তথা সামাজিক নীরিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকলে কখনও সরকারি অর্থের এমন শ্রাদ্ধ কাউকে দেখতে হত না।
সম্প্রতি পানিসম্পদমন্ত্রী পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতার অবস্থা সরেজমিনে দেখে গেছেন। তিনি কৃষকদের আশ্বস্থ করেছেন যে, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে অচিরেই সমস্যার সমাধান করা হবে। মূলত এই হাওরে যাদের জমি রয়েছে সেই কৃষকরা বছরের পর বছর ফসলবঞ্চিত থেকে থেকে সম্পন্ন অবস্থা থেকে দরিদ্র অবস্থায় পতিত হয়েছেন। অনেকে এলাকা ত্যাগ করেছেন আবার অনেকে ত্যাগ করেছেন কৃষি পেশা। অন্যদিকে একটি হাওরের প্রায় আট হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী থাকার কারণে দেশের খাদ্যভা-ার যৎকিঞ্চিৎ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আবাদযোগ্য এক ইঞ্চিও জমি যাতে অনাবাদী না থাকে। সরকারের এই অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে পাগনার হাওরের জমিকে আবারও চাষাবাদের আওতায় আনা তাই জরুরি।
কানাইখালি নদী ও তৎসংলগ্ন খালে খনন কাজ পরিচালনার বিষয়টি একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিৎ। একইসাথে সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করতে যথাযথ খনন কাজ অবিলম্বে শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।