কামরান-আরিফের নির্বাচনী হলফনামা- ১৪ লাখ টাকায় নির্বাচন মেয়র প্রার্থীর!

সু.খবর ডেস্ক
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের প্রচারে মোট ১৪ লাখ টাকা খরচ করবেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পরিকল্পনা করেছেন সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় এই ব্যয়ের খাত ও আয়ের উৎসও জানিয়েছেন তারা। কামরান জানিয়েছেন, নিজের ১০ লাখ টাকার পাশাপাশি দুই স্বজন তাকে চার লাখ টাকা দেবেন। আর আরিফুল জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী খরচ আসবে ব্যবসা, বাসা ভাড়া আর মেয়র থাকাকালে পাওয়া বেতনের টাকা দিয়ে।
নির্বাচনে অংশ নিতে হলে হলফনামায় তার ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়, সম্পদ, অর্থের উৎস, আয়কর তথ্যসহ মোট আটটি তথ্য জমা দিতে হয়। একইভাবে ভোটে কোথায় কোথায় কী পরিমাণ খরচ করবেন, এই টাকা কোত্থেকে আসবে, সেটাও দেখাতে হবে।
কামরানের টাকার উৎস ও খরচের খাত
কামরান জানান, তিনি তার দুই স্বজনের কাছ থেকে ‘স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান’ হিসেবে চার লাখ টাকা পাবেন। ভায়রা আতিকুর রহমান এবং শ্যালক মাহবুবুল হাসান দুই লাখ টাকা করে দেবেন।
হলফনামায় আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিনি এর বাইরে নিজ আয় থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এই টাকা সঞ্চয় করে রাখা হয়েছে।
হলফনামা দেওয়া তথ্য মতে, কামরান ৩০ হাজার পোস্টার ছাপাবেন। এতে ব্যয় হবে এক লাখ টাকা। তিনি ছয়টি নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে তার ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। এসব ক্যাম্পে কর্মীদের জন্য খরচ হবে আরও ৯০ হাজার টাকা।
কামরানের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ক্যাম্পের খরচ ১০ হাজার টাকা এবং এ ক্যাম্পের কর্মীদের খরচ ৩৫ হাজার টাকা।
কামরানের নিজের ও তার নির্বাচনী এজেন্টদের যাতায়াতে ব্যয় হবে সাড়ে ৮৭ হাজার টাকা। যাতায়াতের ক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যয় বাবদ খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা।
ঘরোয়া বৈঠক বা সভার জন্য ভেন্যুর ভাড়া ১০ হাজার টাকা, সভা আয়োজনের জন্য শ্রমিকের পারিশ্রমিক ১৫ হাজার টাকা এবং সভার জন্য আসবাবপত্র বাবদ ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া এক লাখ লিফলেট ও এক লাখ হ্যান্ডবিল ছাপাবেন নৌকা মার্কার প্রার্থী কামরান। এতে ব্যয় হবে আড়াই লাখ টাকা। আবার ১৬২টি ব্যানার বাবদ সাড়ে ৮১ হাজার টাকা এবং ব্যানার টানানো বাবদ ১৬ হাজার ২০০ টাকা খরচ হবে।
৩০টি ডিজিটাল ব্যানার তৈরিতে ৩০ হাজার টাকা এবং সেগুলো টানানোর ক্ষেত্রে ছয় হাজার টাকা ব্যয় করবেন কামরান। তিনি ৩০টি পথসভা করবেন এবং এক্ষেত্রে ব্যয় হবে ৩০ হাজার টাকা।
অন্যান্য খরচের মধ্যে মাইকিংয়ে এক লাখ ৬৬ হাজার পাঁচশ টাকা, নির্বাচনী প্রতীক তৈরি বাবদ ১০ হাজার টাকা, ছয়টি অফিসে আপ্যায়ন বাবদ এক লাখ ৮ হাজার টাকা, ৬০ জন কর্মীর আপ্যায়নে এক লাখ ২ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারণা বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং বিবিধ ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা ধরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
আরিফুলের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের খাত
আরিফুল হক চৌধুরী অন্য কারও কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নেবেন না। বিএনপির প্রার্থীও কামরানের মতোই পোস্টার ছাপবেন ৩০ হাজার। তবে এতে তার ব্যয় বেশি হবে ২০ হাজার। মোট এক লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় ধরেছেন তিনি।
তার দুটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনে খরচ হবে ৩০ হাজার টাকা এবং ক্যাম্পে কর্মীদের জন্য ব্যয় হবে ৫০ হাজার টাকা। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনে ৩০ হাজার টাকা এবং এ ক্যাম্পের কর্মীদের জন্য ৫৫ হাজার টাকা খরচ ধরেছেন তিনি।
যাতায়াতে আরিফুলের খরচ হবে ৪০ হাজার টাকা এবং কর্মীদের খরচ হবে ৮০ হাজার টাকা। ঘরোয়া বৈঠক বা সভা আয়োজনে ভেন্যুর ভাড়া বাবদ ৯০ হাজার টাকা, সভা আয়োজনে শ্রমিকের পারিশ্রমিক এক লাখ টাকা এবং সভায় আসবাবপত্রের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন বিএনপি নেতা।
এর বাইরে এক লাখ লিফলেটে এক লাখ টাকা এবং ২৭ হাজার হ্যান্ডবিলে ৫৪ হাজার টাকা, ৪৫টি ব্যানারে ৩৬ হাজার টাকা এবং এগুলো টানাতে ৯ হাজার টাকা, ১০০টি ডিজিটাল ব্যানার তৈরি ও টানানো বাবদ যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়েছেন আরিফুল।
৩০টি পথসভায় মাইক ভাড়া বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, মাইকিংয়ের জন্য যানবাহন ভাড়ায় ৪২ হাজার টাকা, মাইকিংয়ে পারিশ্রমিক ২১ হাজার এবং মাইকের ভাড়ায় আরও ২১ হাজার টাকা খরচ করবেন থানের শীষের প্রার্থী।
অন্যান্য খরচের মধ্যে ৪০টি নির্বাচনী প্রতীক তৈরিতে আট হাজার টাকা, তিনটি অফিসে আপ্যায়ন বাবদ ৪২ হাজার টাকা, ১০০ জন কর্মীর আপ্যায়নে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং বিবিধ ক্ষেত্রে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় ধরেছেন আরিফুল হক চৌধুরী।