কালিবাড়ি ক্লোজারের নিরাপত্তায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জের হালির হাওরের বোরো ফসলরক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ কালিবাড়ি ক্লোজার (ভাঙা) ও ওই বাঁধের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চলছেই। ওই ক্লোজারের নিরাপত্তায় দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে।
রবিবার বিকালে কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন হালির হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার পর জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা দায়েরের জন্য সুপারিশ করেন। সভায় উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ জুয়েলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস সভায় জানান, গত ১২ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় দুইটি মোবাইল ফোন থেকে তাঁকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হয়। এই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জামালগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন তিনি। (জিডি নং-৩০৮, তারিখ-১২.০৩.২০১৮ ইং)। কালী বাড়ি ক্লোজারের পাশ্ববর্তী জলমহালের ইজারাদার হরিপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হরিপুর গ্রামের নিকুঞ্জ বিহারী রায়ের ছেলে প্রভাকর রায়ের বিরুদ্ধে রাতে থানায় জিডি করেন তিনি। এরপর গত ১৯ মার্চ সোমবার গভীর রাতে কালীবাড়ির বাঁধের কাছের গর্ত ভরাটের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনের প্লাস্টিক পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত করে দুর্বৃত্তরা। লোহার সাবল গরম করে প্লাস্টিকের পাইপের কয়েক জায়গা ছিদ্র করা হয়। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে ওই ক্লোজারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনকে হুমকি দিয়ে ড্রেজারের পাইপ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা।
পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী জানান, গত ১৯ মার্চ রাতে বৌলাই নদীর ড্রেজিং প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল মোমেন আহমদ ড্রেজারের পাইপ ছিদ্র করার বিষয়টি জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। চিঠিতে ড্রেজার মেশিনের নিরাপত্তা জোরদার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির জন্য অনুরোধ করা হয়।
২১ মার্চ জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান বাঁধ-ক্লোজার ও ড্রেজার মেশিনের নিরাপত্তা জোরদার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার থানার অফিসার ইনচার্জকে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি ওই বাঁধের ৪ পিআইসিকে একজন করে লোক রাখার জন্য নির্দেশ দেন।



আরো খবর