কুশিয়ারার ভাঙনে বিলীন গ্রাম, হুমকিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়

সুব্রত দাস খোকন, শাল্লা
শাল্লা উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিগত তিন বছরে বিলীন হয়ে গেছে অর্ধশত বর্ষের পুরোনো নোয়াপাড়া গ্রাম। একই সঙ্গে হুমকিতে আছে গ্রামের শেষ চিহ্ন ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়ে এলে ও কোন কাজ হচ্ছে না।
শাল্লা উপজেলার দক্ষিণ দিকে এবং কুশিয়ারা নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত প্রতাপপুর বাজার। বাজারের পূর্ব দিকে ছিল নোয়পাড়া গ্রাম এবং গ্রামের পূর্ব দিকের শেষ ভাগে অবস্থিত নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ও কুশিয়ারা নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত। সরেজমিনে দেখা গেছে গ্রামের পশ্চিম পাশে ভাঙন শুরু হয়ে, ইতিমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের অর্ধশত বর্ষী নোয়াপাড়া গ্রামটি বিগত তিন বছর যাবৎ কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামের পূর্ব দিকে অবস্থিত শেষ স্মৃতি চিহ্ন ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী পাড় ৩-৪ ফুট দূরে। বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটি ২০০২ সালে তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হান্নান মিয়া উদ্বোধন করেছিলেন। এখন এই ভবনটি নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নদীর ভাঙনও প্রবল হচ্ছে। এখনই যদি ভবনটির রক্ষার্থে ব্যবস্থা না হয় তাহলে আগামী ১ সাপ্তাহের মধ্যে বিদ্যালয় ভবনটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে গমন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
প্রতাপপুর বাজার ব্যবসায়ী তরুনী কান্ত দাস বলেন, চোখের সামনে পুরো গ্রামটি কুশিয়ার টেকে চলে গেল। বাজার বিলীন হওয়ার উপক্রম। প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও আগামী কিছু দিনের মধ্যে নদীর পেটে চলে যাবে। কর্তৃপক্ষ গত বছর কিছু জিও ব্যাগ ফেলেছিল, যেখানে ৫০০০-৬০০০ ব্যাগ ফেললে হয়তো গ্রামটি কিছুদিন ঠিকে যেত, সেখানে ফেলা হয়েছে মাত্র ৬০০ ব্যাগ। ব্যাগের অস্তিস্থ কিছু দিনের মধ্যেই শেষ, গ্রামও শেষ। এবারও কিছুদিন পূর্বে স্কুলে সামনে কিছু ব্যাগ ফেলা হয়েছিল দেখেন ব্যাগের কোন চিহ্ন নেই। হুনছি আগামী কাল থেকে কিছু ব্যাগ ফেলা হবে। আমরা বলি নদীর ¯্রােত যেখানে ঠেকে সেখানে ফেলতে কিন্তু তারা ফেলে যেখানে ¯্রােত নেই সেখানে। তাই কাজের কাজ কিছুই হয়না। আমাদের নামকাওয়াস্তে কিছু ব্যাগ দেখিয়ে সরকারি টাকা মাইরা খাওয়ার ফন্দি।
নোয়াপাড়া সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক ঋষিকেশ তালুকদার বলেন, বিদ্যালয়টি যেকোন মুহুর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আগামী দিনগুলিতে কোথায় শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা করব তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, গত বুধবার উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়কে সাথে নিয়ে আমি ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সরজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করি। এখন উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়টি ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
পাউবো শাল্লা শাখার কর্মকর্তা উপ:সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার্থে কিছুদিন পূর্বে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল কিন্তু বন্যার কারণে ব্যাগ নদী গর্ভে চলে যায়। আজ (বৃহস্পতিবার) আমি বিদ্যালয় ভবন সংলগ্ন নদী পাড়েই আছি। জিও ব্যাগ রেডি হচ্ছে আজ থেকেই জিও ব্যাগ ফেলা হবে তাতে যদি না হয় নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের অনুমতি নিয়ে আরও ব্যাগ ফেলা হবে। আশা করি বিদ্যালয়টি রক্ষা হবে।
সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম (পওর বিভাগ-২) বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার্থে আমার এসও সাবকে পাঠিয়েছি। ভাঙন রোধকল্পে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙন রোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজ অব্যাহতি থাকবে। নদী পাড়ে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি সচেতন গ্রামবাসীকে অনুরোধ করবো ঠিকাদারের কাছ থেকে শতভাগ কাজ আদায় করতে।
উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী) বলেন, গতকাল (বুধবার) বিদ্যালয়টি সরজমিনে পরিদর্শনকালীন স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আমিও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি। গ্রাম, বিদ্যালয় ও প্রতাপপুর বাজার রক্ষার্থে গত বছর কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল কিন্তু মূল জায়গায় না ফেলে অন্য জায়গায় ফেলা হয়েছে। তাই কাজের কাজ কিছুই হয় নি। অজতাই সরকারি টাকা অপচয় করা হয়েছে। গত বছরের এবং এবছরের জিও ব্যাগের কোন চিহ্নই নেই। বিষয়টি আমি জেলা সমন্বয় সভায উত্থাপন করব। আমি মনে করি জিও ব্যাগ না ফেলে যদি নদী পারে ব্লক বসানো যেত তাহলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হত।