কৃষকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর হামলা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অসহায় কৃষকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মধ্যনগর উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াসিল আহমেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার ছেলে তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন এ হামলা করে। ওইদিন রাতেই ওয়াসিলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ওয়াসিলের পক্ষে তাঁর চাচা আব্দুর নূর মধ্যনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
মধ্যনগর উপজেলার নারীজোড়া মৌজাস্থিত শালদিঘা হাওরে ১১৭ নম্বর দাগে ১৭.৭৫ একর খাস ভূমি থেকে আলিয়াহারপুর গ্রামের মৃত আদম আলী ছেলে আজম খাঁ ও বলরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে জসিম উদ্দিন ১৯৯৯ সালে ২ একর করে কৃষি জমি পরবর্তী ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত পান। কিন্তু গোলাম মোফস্তা ও তাঁর ছেলেরা আজম খাঁ এবং জসিম উদ্দিনকে তাদের জমিতে যেতে দীর্ঘ বছর ধরে বাধা দিয়ে আসছে। এমনকি গোলাম মোস্তফা সুজাত মিয়া ও হুমায়ূন কবির নামে দুই ব্যক্তিকে দিয়ে আজম খাঁ এবং জসিম উদ্দিনের বন্দোবস্ত বাতিলেরও আবেদন করান। বিদায়ী বছরের ১ ডিসেম্বর আজম খাঁ তার জমিতে কাজ করতে গেলে গোলাম মোস্তফা ও তাঁর ছেলেরা আজম খাঁকে হেনস্থা করেন। এদিকে ওই কৃষকেরা তাদের জমি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও মধ্যনগরের ইউএনওর কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। সংশ্লিষ্ট ভূমিতে গোলাম মোস্তফা এবং আযম খাঁ ও জসিম উদ্দিনের মালিকানা দাবি থাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনিত ঘটনা আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে গত ১১ জানুয়ারি মধ্যনগর থানার এসআই মশিউর রহমান উভয়পক্ষকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন। এসব বিষয়ে ওয়াসিল আহমেদ অসহায় কৃষক আজম খাঁ ও জসিম উদ্দিনকে সুপরামর্শ দিয়ে তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। আর এতে গোলাম মোস্তফা এবং তাঁর ছেলেরা ওয়াসিলের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওয়াসিল তাঁর নিজ গ্রাম বলরামপুর থেকে মধ্যনগর বাজারের যাওয়ার পথে ফারুক নগরগ্রামের পেছনে গোলাম মোস্তফার ছেলে তরিকুলসহ আরও কয়েকজন ওয়াসিলের ওপর হামলা চালায়। এতে ওয়াসিল মারাত্মকভাবে আহত হয়। আহতাবস্থায় ওয়াসিলকে নেত্রকোনার মোহানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ৮টার দিকে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্থানান্তর করা হয়।
ওয়াসিল আহমেদ মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘অসহায় কৃষকদের পক্ষে থাকায় গোলাম মোস্তফার নির্দেশে তরিকুল, হোসেন ও বেলায়েতসহ কয়েকজন আমার ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এতে আমার সারা শরীর মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। আমাকে প্রাণে মারতে পারলে নাকি গোলাম মোস্তফার সুবিধা হয়।’
কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, গোলাম মোস্তফা জোরপূর্বক আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার বিকেলে এ নিয়ে গ্রামে সালিশ হওয়ার কথা ছিল। এ হামলার ঘটনায় তা হয়নি।’
গোলাম মোস্তফার ছেলে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ওয়াসিলের ওপর হামলা করিনি। কি কারণে আমাদের নাম বলা হচ্ছে তা জানিনা।’
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধ্যনগর থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’