কৃষকের দুঃখ পাগনার হাওর

জেলার মধ্যে পাগনার হাওর একটি বড় হাওর। এই হাওরে বোরো ফসলী জমি রয়েছে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর। বৃহৎ এই হাওরে জামালগঞ্জ, দিরাই ও খালিয়াজুরির কৃষকদের জমি রয়েছে । স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এই হাওরের বৃহৎ অংশে গত ২০ বছর ধরে বোরো ধান চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। এই হাওরে যেসব সম্পন্ন কৃষকদের জমি ছিল, তারা ক্রমাগত ফসল হারিয়ে নিঃস্ব ও ভূমিহীনে পরিণত হয়েছেন। পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হলো পার্শ্ববর্তী কানাইখালি নদী ও হাওর মধ্যস্থ খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া। স্থানীয় কৃষকরা বহু আগে থেকেই হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করতে নদী ও খাল খননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কার্যত হাওরটিকে রক্ষার বাস্তব কোন পদক্ষেপ এ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। এই হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলেও পরে তারা প্রতিশ্রুতিগুলো বেমালুম ভুলে বসে থাকেন। ফলে জামালগঞ্জের একটি বড় অংশের কৃষকদের নিকট পাগনার হাওর হয়ে উঠেছে অপার এক দুঃখের নাম।
গত বছর বিএডিসি কানাইখালি নদী খনন করেছিল। কিন্তু তাদের খনন কাজের কোন সুফল পড়েনি হাওরের উপর। মূলত তারা খননের নামে কী করেছেন তা আর কেউ জানে না। বিএডিসির নদী খনন প্রকল্পের কাজটি তদন্ত হওয়া দরকার। এই সপ্তাহে পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সরেজমিনে হাওরের স্থায়ী জলাবদ্ধতার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি অবিলম্বে নদী ও খাল খননের আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে কানাইখালি নদীটি কালীবাড়ি হতে পাগনার হাওর পর্যন্ত এবং পাগনার হাওর থেকে ডালিয়া নদী পর্যন্ত খনন করতে হবে। পাশাপাশি এই পানি প্রবাহের ভাটির নদী পিয়াইন নদীও খননের আওতায় আনতে হবে। গজারিয়া খালটিও খনন করা আবশ্যক। স্থানীয় কৃষকদের এই মতামতটি নদী, হাওর ও পানি বিশেষজ্ঞগণ আমলে নিয়ে সত্যিকার অর্থে কার্যকর একটি খনন প্রকল্প তৈরি করার মাধ্যমে অচিরেই সরকার কাজ শুরু করবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা।
পাগনার হাওরে বছর বছর বোরো ফসল চাষাবাদ না হওয়ার আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিৎ। ১১ হাজার হেক্টরের ৮০ ভাগ চাষাবাদের বাইরে থাকলে জলাবদ্ধ জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৮০০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে ১২৫ মণ ধান হিসাব করলে ৮৮০০ হেক্টর জমিতে ১১ লক্ষ মণ ধান উৎপাদিত হওয়ার কথা। এই ধানের বাজার মূল্য প্রতিমণ ৮০০ টাকা হিসাবে ৮৮ কোটি টাকা। গত ২০ বা তার চাইতে বেশি বছর ধরে ফসলের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণটা এ থেকে সহজেই অনুমেয়। এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কোন ধরনের পদক্ষেপ না থাকার অর্থ কী হতে পারে?  দেশের একটি ছোট অংশের সমস্যা যদি এরূপ দীর্ঘায়িত হয় তাহলে সারা দেশে এমন কত সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে তার হিসাব মিলানোর কি কোন দরকার নেই? এইভাবে নিজেদের সামর্থের জায়গাগুলোকে উপেক্ষা করে স্থায়ীত্বশীল জাতীয় উন্নয়ন ঘটানো কখনও সম্ভবপর নয়।
সুতরাং কৃষকের দুঃখ পাগনার হাওর রক্ষায় অনতিবিলম্বে খনন প্রকল্প শুরু করার জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।



আরো খবর