কৃষক হত্যা- হাড়গ্রামের কর সম্প্রদায়ের বাড়িঘর এখন মানুষ শূন্য

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের পল্লীতে গরু দিয়ে বোরো ক্ষেতের পাকা ধান খাওয়ানোর জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে জমির মালিক নুরুল হক নিহতের ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতে নিহতের ছেলে সাইদুল হক বাদী হয়ে শহীদ মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার নিহতের লাশ পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হলে বেলা আড়াইটার দিকে জানাজার নামাজ শেষে কুবাজপুর নতুনপাড়া গ্রামের পঞ্চায়িতী কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রামের কর সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও শহীদ মিয়ার বাড়িটি যেন মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। কর সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে পুরুষ-নারী-যুবতি এমনকি শিশুদেরও দেখা যায়নি। গ্রামের আশপাশের লোকজন জানিয়েছেন গত রবিবার একটি সংঘর্ষের ঘটনায় কর সম্প্রদায়ের লোকজন গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে পালিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুবাজপুর (নতুনপাড়া) গ্রামের কৃষক নুরুল হকের ধানক্ষেতের পাকা ফসল পাশের ইউনিয়নের পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রামের বিভাস কর, বৈষ্ণব কর, পাখি করের লোকজনের কয়েকটি গরু খায়। এ নিয়ে জমির মালিক নুরুল হকের সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়।
এক পযার্য়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ঘটনাস্থলে নুরুল হক নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত নুরুল হকের ছেলে সাইদুল হকসহ ৪ জন আহত হয়। নিহতের ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে হাড়গ্রামের শহীদ মিয়া বিভাষ করগংদের পক্ষ নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে কৃষক নুরুল হককে হত্যা করেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহান মিয়া বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কৃষককের প্রাণহানি অনাকাংখিত। ঘটনার পর পরই হারগ্রামের কর সম্প্রদায়ের লোকজন পুলিশী গ্রেফতারির ভয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাইফুল আলম বলেন, সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় এরই মধ্যে ৪জনকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেফতারী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



আরো খবর