কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জনবল সংকট

আকরাম উদ্দিন
দীর্ঘদিন যাবত জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। জনবল সংকট থাকায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন শাক-সবজি ও ধানের আশানুরূপ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।
এই জেলায় ফসল উৎপাদন মওসুমকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। শীতকালীন, গ্রীষ্মকালীন ও বর্ষাকালীন মওসুম। রবি মওসুম শুরু হয় ১৬ অক্টোবর, শেষ হয় ১৫ মার্চ। এই মওসুমে বেশি শীতকালীন ফসল উৎপাদন হয়। ১৬ মার্চ থেকে শুরু হয় করিফ-১, শেষ হয় ১৫ জুলাই। এই সময় গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন উভয় মওসুমের ফসল উৎপাদন হয়। করিফ-২ শুরু হয় ১৬ জুলাই থেকে শেষ হয় ১৫ অক্টোবর। এই সময় গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন ফসল উৎপাদন হয়। কোন মওসুম কী ধরণের ফসল উৎপাদনে উপযোগি এবং মওসুম শুরু হওয়ার বিষয়টি কৃষি বিভাগ নির্ধারণ করে দেয়। কৃষকেরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন জাত ফসলের চাষাবাদ শুরু করেন। এতে ভাল ফসল উৎপাদনও হয়। এই জন্য কৃষি বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তার পদ ৫টি রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি পদ শূন্য রয়েছে। আছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে ১জন।
জেলার সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, ছাতক ও দোয়ারা উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পদ রয়েছে ২৬৩টি। কর্মরত আছেন ১০৯ জন। পদ শূন্য আছে ১৫৪টি। এই পদে প্রতি ইউনিয়নে ৩ জনের পদায়ন রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই মাঠ পর্যায়ে। এছাড়া শাল্লায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পদও শূন্য রয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের আমড়াগড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন,‘উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩ জন থাকলে আমরা ফসলের ভাল-মন্দ বিষয়ে সহজে জানতে পারব। নিরাপদ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে কৃষি বিভাগে জনবল সংকট নিরসনের দাবি আমাদের।’
সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা এলাকার কৃষক আব্দুল মালিক বলেন,‘মাঠ পর্যায়ে আমাদের ফসলের ভাল-মন্দে পরামর্শ করার ভরসা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তাঁদের সাথে আমাদের যোগাযোগ থাকলে, ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
সুরমা ইউনিয়নের ঝরঝরিয়া গ্রামের শহীদ মিয়া বলেন,‘উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে হাতের কাছে পেলে অনেক বিষয়ে জানা যায়। মওসুম শুরুতে কোন ফসলের চাষাবাদ শুরু করব, ফসলে রোগব্যাধি দেখা দিলে প্রতিকারের ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে জানা যায়। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।’
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ সফর উদ্দিন বলেন,‘কৃষি বিভাগে শূন্যপদ থাকার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে পদায়নের সম্ভাবনা আছে। লোক সংকট নিরসন হলে জেলায় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’