কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতি ছাত্রাবাস থাকার অনুপযোগী

পুলক রাজ
শহরের উকিলপাড়া এলাকায় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণ চন্দ্র স্মৃতি ছাত্রাবাসের বেহাল দশা। হিন্দু হোস্টেল নামের এই ছাত্রাবাসের যুগের পর যুগ কোনো সংস্কার কাজ হচ্ছে না। ছাত্রাবাসটি এখন আর থাকার উপযোগী নয়। ছাত্রাবাসের দ্রুত সংস্কার করার দাবি শিক্ষার্থীদের।
উকিলপাড়া আবাসিক এলাকায় ছাত্রাবাসের আশপাশে রয়েছে নর্দমায় আবৃত্ত দুইটি পুকুর। ছাত্রাবাস এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না থাকায় মশা-মাছি, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পুকুরের পাড়ে যেখানে সেখানে মল-মুত্র ত্যাগ করছেন পথচারীরা। এই ছাত্রাবাস এলাকা নির্জন থাকায় রাতের বেলা বখাটেদের আড্ডাও জমে উঠে।
ছাত্রাবাসের একাধিক ছাত্র জানান, ছাত্রাবাসের যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে কেউ উদ্যোগ নেয় নি।
শিক্ষার্থী অপূর্ব তালুকদার বলেন, ছাত্রাবাসের ফ্লোরে ফাটল ধরেছে, ফ্যান একটাও চলে না। রাহুল সরকার বলেন, ছাত্রাবাসের ৩টি রুমের বেহাল অবস্থা। ঝড় বৃষ্টি হলে টিনের ছাদে পানি ঝরে। ছাদ ভেঙে পড়তে পারে। ছাত্রাবাসের টিনের চালে অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। থাকা-খাওয়া ও পড়াশুনায় এবং রান্না করায় মারাত্মক সমস্যা হয়। শিক্ষার্থী নয়ন মনি দাস বলেন, ছাত্রাবাসের সব কয়টি দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙা। শিক্ষার্থী পরিতোষ বৈষ্ণব বলেন, ছাত্রাবাসের পেছনের প্রতিটি কক্ষে বৃষ্টি পড়ে। গোসলখানা নেই, ছাত্রাবাসের পেছনের নোংরা আবর্জনার পাশে খোলা স্থানে গোসল সারতে হয়।
কৃষ্ণ চন্দ্র স্মৃতি ছাত্রাবাসের অধিনায়ক দেবাশীষ সরকার মিঠু বলেন, ভবনে অনেক সমস্যা রয়েছে। পিছনের তিনটি রুম ঝুকিপূর্ণ। যেকোন সময় ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে। ছাত্রাবাসের চারিদিকের বাউন্ডারি দেওয়াল নেই। নিরাপদ পানি সংকটে একটি নলকূপ জরুরি প্রয়োজন। নতুন ভবন নির্মাণের দাবি আমাদের।
সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সুকুমার দাস বলেন, হিন্দু ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। এখানে বসবাস করা ছাত্রদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এই প্রাচীণ ছাত্রাবাসের স্থলে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করার দাবি আমাদের।
সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ বলেন, রান্নাঘরসহ ছাত্রাবাসের ৭টি রুম ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ আসলে আমাদের পরিকল্পনা আছে নতুন ভবন নির্মাণ করার। নতুন ভবন হলে অনেক ছাত্ররা পড়াশোনা করার জন্য ছাত্রাবাসে থাকতে পারবে।