কেবলই গুজব

সু.খবর রিপোর্ট
ছেলেধরা সন্দেহে দুইজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আটক করেছে জনতা। এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলায় সতর্কীকরণ প্রচারণা করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং তাহিরপুর উপজেলার এক পাগলকে আটক করে গণপিটুনি দেয় জনতা।
জানা যায়, শনিবার রাতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরে গলাকাটা সন্দেহে এক পাগলকে আটক এলাকাবাসী। পরে পাগলকে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যান এলাকাবাসী। রবিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মকসুদ আলী গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাগলকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় পাঠান।
সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই জিন্নাতুর রহমান বলেন, সকালে গলাকাটা সন্দেহে এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসে ইসলামপুরের এলাকাবাসী। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। এই ব্যক্তির পরিবারকে খোঁজে করা হচ্ছে। পরিবারের লোকজন আসলে তাকে তার পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হবে। বর্তমানে এই তিনি থানা হেফাজতে আছেন।
এদিকে তাহিরপুরে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে এক পাগলকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা।
শনিবার রাত ১০টার দিকে এক ভারসাম্যহীন পাগল নদীর পাড়ে বসে ছিল। এসময় মানিগাঁও গ্রামের কিছু যুবক লোকটিকে চক বাজারের নিয়ে গিয়ে গলাকাটা গলাকাটা বলে চিৎকার শুরু করে। চিৎকার শুনে লোকজন জড়ো হয়ে লোকটিকে এলোপাতারি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে পাগল লোকটি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পুলিশ এসে পাগলটিকে বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। রাতেই পাগলটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা করে পুলিশ।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ভারসাম্যহীন লোকটিকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত পাগল লোকটির কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ‘গুজব ছড়াবেন না, আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সতর্কীকরণ প্রচারণা করেছে। রবিবার জগন্নাথপুর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে এমন প্রচারণা চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে এই গুজবকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কোন প্রকার গুজবে কান না দেয়ার জন্য জনস্বার্থে আমরা মাইকিং করে প্রচারণা শুরু করেছি।
তিনি বলেন, গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ছেলে ধরা সন্দেহে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা ফৌজদারী অপরাধ।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেন, ইতিমধ্যে জেলার সকল থানায় মাইকিং করে এসব বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।