কেবল বিদ্যুতের মিটারই দেখছেন তারা

স্টাফ রিপোর্টার
একবছর হয় কেবল বিদ্যুতের মিটার দেখছেন তারা। বিদ্যুতের লাইনেও কোথাও কোথাও ইতিমধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরেও কোন সদুত্তর পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। ১ বছর আগে দুই কিস্তিতে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ৮ শ’ টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু অদ্যাবধি বিদ্যুৎ পাননি তারা। বিশ্বম্ভরপুর সলুকাবাদ ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার প্রায় ৩০০ গ্রাহক এই কষ্টে আছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সলুকাবাদ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপাড়া এলাকায় একটি বিদ্যুৎবিহীন খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার খুলে পড়েছে গ্রামের মাঠে। কিন্তু এই এলোমেলোভাবে ছড়ানো তারের ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে গরু-ছাগল ঘাস খাচ্ছে। একাধিক স্থানে পিলারও হেলে পড়েছে।
গ্রাহকরা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে এলাকার গ্রাহকদের মিটার সংযোগ দিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনে সহযোগিতায় ৮০০ টাকা করে দিয়েছেন তারা। যারা ৮০০ টাকা নিয়েছিলেন, এখন তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বম্ভরপুর অফিসে গেলে বিদ্যুতের লোকজন শীঘ্রই বিদ্যুৎ পাওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু একবছর হয় বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। যারা এলাকা থেকে টাকা তুলেছিল, তাদের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে।
সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা গ্রাহক মো. জুনায়েদ মিয়া, মেরাজ আহমেদ, জুনাইদ আহমদ, আয়ুব আলী বলেন,‘আমরা প্রতি গ্রাহকে বিদ্যুতের সংযোগের জন্য দুই কিস্তিতে ৮ শত টাকা দিয়েছি। আমাদের এলাকায় পল্লীবিদ্যুতের মিটার সংযোগের পর প্রায় ১ বছর হয়েছে কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। বিদ্যুৎ সংযোগে অবহেলা করা হচ্ছে। আমাদের সাথের গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা পাচ্ছি না।’
মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পল্লীবিদ্যুতের লাইন টানিয়ে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খুঁটি হেলে পড়ছে, তার ছিঁড়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংযোগের খবর নেই। জিনারপুর, সোনারপাড়া এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী আছে। তাদের লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। রমজানে ইবাদত বন্দেগিতে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ যখন দেয়া লাগবে, তখন দেরি করা হচ্ছে কোন স্বার্থ হাসিলের অপেক্ষায়?’
জিনারপুর এলাকার ব্যবসায়ী মো.এখলাছ মিয়া বলেন, ‘১ বছর আগে এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, ঘরে বিদ্যুতের ওয়ারিং, লাইট লাগানো হয়েছে। মিটার স্থাপন করে দিয়েছে অফিসে। কিন্তু বিদ্যুৎ জ্বলেনি এখনও।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. মরম আলী বলেন, ‘গ্রাহকের অবহেলা যেমন, অফিসেরও তেমন। অফিসের লোকজন এসে গ্রাহকদের তাগাদা দিয়ে ওয়ারিং করিয়েছে, এখন আবার গ্রাহকরা অফিসে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে। অফিস শুধু আশ্বাস দিয়ে চলেছে।’
এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের এজিএম নিথীশ সাহা বলেন,‘সোনারপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনে গ্রাহকদের তেমন সাড়া ছিল না। আমাদের অফিসের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাগাদা করায় ঘরে ওয়ারিং হয়েছে, মিটারও লাগানো হয়েছে। মিটার লাগানোর সময় ৮শ’ টাকা নয় ৬০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর পনের দিনের মধ্যে সোনারপাড়া এলাকায় বিদ্যুতের সকল লাইন চালু করে দেয়া হবে।’