কৌশলে গণসংযোগে বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ৫ টি নির্বাচনী এলাকায়ই কৌশলে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। সরকার দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচারণা চালালেও পুলিশি নির্যাতন ও মামলার ভয়ে বিএনপি এক্ষেত্রে কৌশলী। জেলা বিএনপির দায়িত্বশীলরা বলেছেন,‘নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত তারা, যেহেতু আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি প্রচারণা চালাতে হচ্ছে, এজন্য কৌশলে এগুচ্ছি আমরা।’
দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থীতা এখনো সুনামগঞ্জের কোন আসনেই চূড়ান্ত হয়নি। তবে মহাসচিব পর্যায় থেকে কাউকে কাউকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ৬ জন। এরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ডা. রফিক চৌধুরী, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খান, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মামুন অর রশিদ শান্ত। এই ৬ সম্ভাব্য প্রার্থীই নানা কৌশলে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ- (দিরাই-শাল্লা) আসনে সাবেক সংসদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী গণসংযোগ করছেন আরো আগে থেকেই। এই আসনের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলের সমর্থকরাও নানা পন্থায় সক্রিয়।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি লে.কর্নেল অব. আলী আহমদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফারুক আহমদ নির্বাচনী এলাকায় নানা কৌশলে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম কয়ছর আহমদের স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অবশ্য. এই আসনটিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী জোটের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি নির্বাচনী এলাকায় মাঝে-মধ্যে গণসংযোগও করছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির দুই হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী কৌশলে নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এরা হলেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক হুইপ ফজলুল হক আছপিয়া ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ৪ বারের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। এছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল লতিফ জেপি ও আবুল মুনসুর শওকত এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুলও এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন। দলীয় কর্মসূচি পালন ছাড়াও সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিএনপি নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তাঁরা।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক- দোয়ারা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার দলীয় কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এই আসনের আরেক মনোয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসেফ আলী গত দুই ঈদ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় এসেছেন। নিজের সমর্থকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করেন তিনি।
আগামী নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন,‘আমাদেরকে রাস্তায় নামতেই দেওয়া হচ্ছে না। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে অনেক উপজেলায় মিছিলই করেনি। অথচ. মামলার আসামী হয়েছে অসংখ্য নেতা-কর্মী, গ্রেপ্তারও হয়েছে ৪৫ জন। এমন হয়রানিতে দল আরও সুসংগঠিত হচ্ছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেতা-কর্মীরা, দলের মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হবে. তাঁর পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে নামবে নেতা-কর্মীরা।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন,‘দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতনের খড়গ চলছে। কিন্তু আমাদের তৎপরতা কমেনি। আমরা কৌশলে বিভিন্ন বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং গ্রামে যোগাযোগ রাখছি, গণসংযোগও করছি। গণসংযোগের বেশি তৎপরতা শো-করে কর্মীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়াতে চাই না।’
সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বলেন,‘দলের উপর নির্যাতন দেখে গ্রামে গ্রামে কর্মীরা সংগঠিত হচ্ছে। দলের মহাসচিব পর্যায় থেকে আমাকে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করতে বলা হয়েছে। আমার প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও মামলা দিয়ে বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করা যাবে না।’
সাবেক হুইপ ফজলুল হক আছপিয়া বললেন,‘নির্বাচনী প্রস্তুতি আমরাও কৌশলে নিচ্ছি, আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ দলীয় কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বব্যাপি সমাদৃত, তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কারাবরণ করছেন। আমরা তাঁর মুক্তির আন্দোলনে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’