ক্ষতির পর আশা

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
রোদের অভাবে হাওর পাড়ের বোর ফসলী কৃষকদের অনেক কাটা ধান ও গো খাদ্যের ক্ষতি হয়েছে। র্দীঘ দুই সপ্তাহ টানা ঝড় বৃষ্টি, বজ্রপাতের পর অবশেষে রোদের ঝিলিক দেখা দিয়েছে। রোদ দেওয়ায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা আশার আলো জেগে উঠেছে। উপজেলার বৃহৎ করচার হাওর, আঙ্গারুলী হাওর সহ বিভিন্ন হাওরের শ্রমিক সংকট সহ নানা সমস্যা মধ্যেও প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বোর ধান কেটে ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু ধান কাটার শুরু থেকে টানা ঝড় বৃষ্টি তুফান বজ্রপাত লেগে ছিল। কাটা ধান খলায় (মাঠে) এনে মাড়াই করে ঝড় বৃষ্টির কারণে ধান, গো-খাদ্যের খর শুকাতে পারেননি তারা। ভেজা ধান খলায় থেকে চারা গজিয়ে, পঁচে গলে অনেক কৃষকের কষ্টার্জিত সোনার ফসল বিনষ্ট হয়।
শনিবার রোদ দেখা দেয়ায় কৃষকরা তাদের ধান ও গো-খাদ্য শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মুক্তিখলা গ্রামের আজমান আলী বলেন, ‘আমার ১৬ কেদার জমির ধানে চারা গজিয়ে গেরা আসে। আজ রোদ দেওয়ায় উপজেলা সদর এলজিইডির রাস্তায় ধান শুকাচ্ছি। এর মধ্যে অনেক ধান নষ্ট হয়েছে।’
কৃষ্ণনগর গ্রামের মিলটন বলেন, ‘আমার জমির ধান কেটে এনে ছিলাম, রোদের অভাবে ধান শুকাতে পারছিলাম না। এখনো যদি কয়েকদিন রোদ দেয় নষ্ট হওয়ার পর অবশিষ্ট ধান ঘরে তুলতে পারবো।’
অনুরূপভাবে শত শত কৃষকের একই অবস্থায়। চারা গজানোর পাশাপাশি ধানের রং কালো হয়ে গেছে। এ ধরনের ধান বাজারে কম দামে বিক্রি করা ছাড়া আর উপায় নেই। বাজারে বোর ধান প্রতি মণ ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অতি বৃষ্টিপাতের কারণে বাদাম চাষীদের বাদাম নষ্ট হয়েছে।
এদিকে অতি বৃষ্টিপাতের কারণে করচার হাওরে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাওর এলাকায় গরু বাছুরের রোগ ব্যাধি দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার (১১মে) কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক কাজল বর্মনের একটি গরু রোগে আক্রন্ত হয়ে মারা যায় এবং আরো একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।