ক্ষুধা

কুমার সৌরভ
(উৎসর্গ: সাংবাদিক রাজীব নূরকে (দৈনিক সমকাল, ঢাকা)। যিনি শরণার্থী জীবন নিয়ে গল্প লিখতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাঁর কথা থেকেই এ গল্প লিখার ইচ্ছা জেগে উঠা এবং এক দিনেই লিখে ফেলা। গল্প না হোক, তাঁর ইচ্ছাকে তো সম্মান জানানো হলো; এইটুকুই সান্ত¦না।)
ভিড়ের ঠেলায় ডান হাতে শক্ত করে ধরে রাখা রেশনকার্ড সমেত রতন লাইনের বাইরে চলে এল। অজগর সাপের মত আঁকাবাঁকা পেছনের লাইনটি ক্রমাগত সামনে চাপ দিচ্ছিল। রতনের ছোট্ট শরীর সেই চাপ সামাল দিতে পারেনি। লাইন থেকে ছিটকে পড়ে নীচে বালুর উপর গড়িয়ে পড়ে। দুপুরের রোদের তেজে বালুপ্রান্তরটি তেঁতে রয়েছে। রতনের পাতলা অপুষ্ট শরীরে ত্যানার মতো লেগে থাকা চামড়া সেই তাপ সহ্য করতে পারে না। কঁকিয়ে উঠে রতন। তখনও তার ডান হাত শক্ত করে ধরে আছে রেশনকার্ড। বামহাতে ছালার ব্যাগ। উঠে বসে রতন। আবার লাইনে ফিরতে চায়। যে বুড়ো কাকার পিছনে ও তাঁগড়া বাবরিছাট চুলওয়ালা দাদার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সেই জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে চায় সে। পেছন থেকে হৈ হৈ করে উঠে কয়েকজন।
‘ওই পটকা, তুই ঢুকছিস কেন লাইনে। সর এখান থেকে’ – পেছনের এক মাঝবয়সী লোক তেড়ে উঠে এই বলে।
আস্তে করে রতন বলে, ‘আমি এখানেই আছিলাম গো দাদা। তোমাদের ঠ্যালায় পড়ে গেছিলাম’।
‘যা.. যা..’ করে ধমকে উঠে এবার আরও কয়েক জন।
রতন ঢুকতে পারে না লাইনে। তার কণ্ঠ দিয়ে তখন প্রতিবাদ বেরিয়ে আসার বদলে কান্না চলে আসে। কেঁদে কেঁদেই সকলকে অনুরোধ করে লাইনে তার নির্দিষ্ট জায়গাটিতে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে। এবার একজন ভলন্টিয়ার এগিয়ে এলো। সে রতনের বিস্তারিত শুনে। লাইনের কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করে রতনের কথার সত্যতা যাচাই করে। এরপর সে তাকে লাইনে নিজের জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিল। যারা রতনকে লাইনে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল তাদের উদ্দেশ্যে ভলন্টিয়ার বলে-
‘আমরা সবাই এখানে শরণার্থী হয়ে এসেছি। আমাদের দেশটি স্বাধীন করতে যুদ্ধ হচ্ছে। যুদ্ধে আমাদের অনেক ভাইয়েরা প্রাণ হারাচ্ছে। আর তোমরা এখানে এক বাচ্চাকে লাইনে তার জায়গায় দাঁড়াতে দিচ্ছ না। এ অন্যায়, ভারী অন্যায়। ই-িয়ান গভর্নম্যান্টের লোকজন আমাদের এ আচরণ দেখলে জাতি হিসাবে আমরা লজ্জা পাব। এখন একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করার সময়। ভবিষ্যতে কেউ এমন আচরণ করলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব।’
ভলন্টিয়ারের কথায় সকলেই লজ্জা পেয়ে গেছে। লাইনের নিরবতা দেখে এমনই মনে হয়। এবার আর লাইনে কোন ঠেলা ধাক্কা নেই। সুশৃঙ্খলভাবে সকলেই যার যার বরাদ্দের রেশন তুলে নিয়ে ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে যেতে থাকল। রতনও এভাবেই রেশন তুলে ক্যাম্পে ফিরে আসে।
রেশন বলতে পাঁচ কিলো মোটা চাল, আধা কেজি মুশুরি ডাল, আধা লিটার সুয়াবিন তেল, একটি কাপড় কাছার সাবান, ১টি দিয়াশলাই। এক সপ্তাহের বরাদ্দ। রতনদের পরিবারে পাঁচ সদস্য। এই রেশনে এক সপ্তাহ চলে না। তাই রতনের মা নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন সারা দিনে একবার ভাত খাওয়া যাবে। দিন ও রাতের জেগে থ্কাার সময়ের হিসাব করে তিনি সময় বেঁধে দিয়েছেন, মাথার উপরে যখন সূর্য উঠে তখন ভাত খাওয়া হবে। তিনি বলতেন, ‘এই বেলা ভাত খেলে সারাদিন কেটে যাবে। রাতে একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লে দিন চলে যাবে।’
রতনদের দিন এভাবেই ক্টাছিল। রতনের বয়স নয় বছর। যুদ্ধের আগে নিজেদের বাসায় থাকতে খাওয়া দাওয়ার এমন অদ্ভূত রুটিন সে দেখেনি কখনও। যখন ইচ্ছা খেতে পেরেছে। সকাল দুপুর রাত তিন বেলাই পেট ভরে ভাত খাওয়ার অভ্যাস রতনের। এর বাইরেও স্কুলের টিফিনে মায়ের কাছ থেকে নেয়া পয়সা দিয়ে এটা ওটা কিনে খেতে পারত। সন্ধ্যায় যখন পড়তে বসত, মা তখন দুধ দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে বাটিতে করে দিয়ে যেতেন। ক্ষুধা বলতে কী বুঝায় তাই রতনের জানা ছিল না।
যুদ্ধ লাগার পর তাদের পরিবার যখন বর্ডার পেরিয়ে ক্যাম্পে আসল সেই দিন বলতে গেলে রতনদের কিছুই খাওয়া হয়নি। তারা প্রায় ১২ মাইল পথ পায়ে হেঁটে বর্ডার পেরিয়েছিল। পথের ক্লান্তিতে রতনদের পরিবারের সকলেই ক্লান্ত। তারা যখন একটা লম্বা ব্যারাকের মতো ঘরে আশ্রয় পেল তখন তাদেরকে জনপ্রতি একটি করে লুচি ও একটুখানি লাবড়া দেওয়া হয়। মা ব্যারাকের বালুর মেঝেতে সাথে নিয়ে আসা কাঁথা বিছিয়ে দিয়েছিলেন। কাঁথার উপর বসেই রতনরা তিন ভাইবোন ও বাবা মা মিলে লুচি লাবড়া খেলো। ক্ষুধায় ওইটুকু লুচি লাবড়াই তখন অমৃতের মতো মনে হয়েছিল রতনের। খুব সুস্বাদু কিছু রান্না হলে বাসায় তাদের এক পীসিমা বলতেন- ‘এই রতন আয় অমৃত খাবি’। আজকের লুচি লাবড়া খাওয়ার সময় তাই রতনের অমৃত শব্দটা মনে আসল। কিন্তু একটি লুচিতে কিছুতেই তার পেট ভরছে না। রতনের মা তাকে নিজের ভাগের লুচিটুকু দিয়ে বললেন- ‘নে, তুই খা এটা’। রতনও খেয়ে নিল, মা কী খাবেন সেই চিন্তা তার মাথায় আসেনি।
ক্যাম্পের প্রথম রিলিফ পেটে দিয়েই রতন শুয়ে পড়ল। অল্পক্ষণেই গভীর ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল সে। ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার আগে রতনের মনে হলো, এইটুকু লুচি খাওয়ার আগে বহুক্ষণ তার পেটে কেন একধরনের অন্যরকম অনভূতি কাজ করছিল। তার ছ্ট্টো শরীরটি কেন জানি তখন দুর্বল হয়ে উঠেছিল। রতনের মনে হলো শরীরের এরকম অবস্থাকেই বুঝি ক্ষুধা বলে। ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই তার যাবতীয় চেতনা ঘুমের কাছে আত্মসমর্পন করল।
ইতোমধ্যে ক্ষুধা কী জিনিস তা ভালভাবে বুঝে গেছে রতন। কারণ ওই সূয্যি মাথায় উঠার পর এক কি দুই ঘণ্টা তার ক্ষুধা থাকে না। বাকি সময়টুকু ক্ষুধা নিয়েই কাটাতে হয়। মাঝে মধ্যে ক্ষুধা অসহ্য হয়ে উঠে। তখন চুপচাপ ঘরের কোণে রাখা ছালার ব্যাগ থেকে একমুঠো চাল নিয়ে বেরিয়ে আসে সে। বাইরে বসে হাতের চালটুকু মুখে দিয়ে চিবোতে থাকে। শক্ত চাল দাঁতে কাটতে চায় না। বিস্বাদ। তবুও রতন চিবোয়্, যতক্ষণ না চালটুকু দাঁতের চাপে পিষ্ট হয়ে গলা দিয়ে ঢুকানো যায়, ততক্ষণ। এর পর একগ্লাস জল খেলে ক্ষুধার কষ্ট কিছুটা কমে। এভাবে একদিন চাল চুরির সময় সে মায়ের হাতে ধরা পড়ে যায়। রতনের মনে আছে সেদিন মা তাকে খুব বকেছিলেন, কষে একটি থাপ্পরও দিয়েছিলেন গালে। রতন নিরব থাকে। মাকে কিছুই বলে না। অভিমানে তার বুক বদ্ধ হয়ে আসে। মার প্রতি রাগ হয়। এই মা আগে তাকে কত আদর করতেন। বাসায় থাকতে মা-ই প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় চার আনা দশ পয়সা যেদিন যা হয় পকেটে পুরে দিতেন। এই মা আজ একটুখানি চাল খাওয়ার জন্য পিটুনি দিলেন। রতন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকে। তার চোখ ভিজে যায়। একটু পর দেখে মা তাকে কোলে টেনে নিয়েছেন। বুকে জড়িয়ে গালে মুখে আদর দিতে দিতে তিনিও কেঁদে উঠলেন। রতনকে জড়িয়ে ধরেই বললেন, ‘কাঁদিস না বাপ। এই দুঃখের দিন শেষ হবে। আবার আমরা বাসায় ফিরে যাব। তখন তুই আর এমন ক্ষুধায় ভোগবি না রে বাবা। আমরা যে এখন নিজের বাড়ি ছেড়ে দেশ ছেড়ে অন্য জায়গায় অন্যের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছি সোনা। একটুখানি সহ্য কর’। রতন মার কথায় নিজেকে শক্ত করে। বলে- ‘কেঁদো না মা। আমি আর কখনও তোমার চাল চুরি করব না। দেখে নিও।’ রতনকে তার মা আরও শক্ত করে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরেন।
সত্যিই রতন ক্যাম্প জীবনে আর কখনও চাল চুরি করেনি। আর কোনদিন সে ক্ষুধায় কাতর হলেও কাঁদেনি। ক্ষুধা পেলে সে পাহাড়ি নদীটির কাছে চলে যেত। বালু চরের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে এই নদী। তার ডান পাশে সুউচ্চ গারো পাহাড়। ঘন সবুজ। বড় গাছপালা ও লতাগুল্মবেষ্টিত। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ঘরবাড়ি। নদীর পাড়ে বসে সে সেই পাহাড়ের দিকে চেয়ে থাকত। নদীতে নেমে স্বচ্ছ পানিতে দাঁড়িয়ে থাকত। নদীর নিচে বালু চিক চিক করছে। শরীর নুইয়ে দুই হাত আঁজলা করে পানির নিচ থেকে সেই বালু কুঁড়িয়ে আনত সে। এই পানিতে রতন খুঁজত রূপোলী মাছ। তাদের বাসার পিছনের খালে অথবা সামনের পুকুরে যেরকম কাইখ্যা মাছের সারিকে ঘুরে বেড়াতে দেখত, যেমন এক ঝাঁক পোনা মৌমাছির চাকের মতো পানির এক জায়গায় চক্রাকারে ঘুরত; তেমন কিছু এই নদীতে না দেখে রতন খুব হতাশ হত। সে ভাবত, এই পাহাড় ও বালুর দেশে মানুষ থাকে কেমন করে। এখানে ধানের জমি নেই, হাওর নদীর মাছ নেই, গরু ছাগলও দেখা যায় না দূরের কোন মাঠে। এই রকম এক জায়গায় কেন যে তাদের নিয়ে আসা হলো সেজন্য অজানা কারও প্রতি রাগে ফুঁসে উঠে তার কচি মন। রাগ কমাতে সে নদীর জলে ডুব দেয়। ঠা-া হয় তার শরীর। মনও। এভাবে কখন যে বিকাল নেমে আসে টেরও পায় না রতন। সূর্য যখন পাহাড়ের পিছনে যেতে শুরু করে তখন সে ক্যাম্পে ফিরে। মা তাকে দেখতে পেয়ে যেন স্বস্তি পান। দুপুরের বরাদ্দের খাবার বেড়ে দেন তাকে। সেও কোন কথা না বলে খেয়ে নেয়।
গত কয়েকদিন ধরে রেশন দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। রেশনের ঘরে গিয়ে শত শত মানুষ ফিরে আসছে। রেশন ঘর থেকে জানানো হয়, উপর থেকে জিনিসপত্র আসেনি। কখন আসবে তাও বলতে পারছে না তারা। পুরো ক্যাম্পে আশঙ্কা দেখা দেয়। শরণার্থীদের মুখগুলো কালো অন্ধকারে ঢেকে যায়। ক্যাম্পের বাইরে খোলা জায়গায় রেডক্রস লঙ্গরখানা খোলেছে। ওখানে গেলে খিচুরি দেয়া হয়। ক্যাম্পের অনেকেই ওখানে গিয়ে খিচুড়ি খাচ্ছে। কিন্তু মা তাদের ভাইবোনদের লঙ্গরখানায় যেতে দিচ্ছেন না। লঙ্গরখানায় যাওয়ার কথা কেউ বললেই তিনি বলে উঠেন, ‘ওখানে ওই খিচুরি খেয়ে কলেরা ডেকে আনার দরকার নেই। কলেরায় মরার চাইতে না খেয়েই সকলে মিলে মরে যাব এই ভাল’
রতনদের ঘরে আজ চুলা জ্বলেনি। এক দানা চালও নেই যে তার মা রান্না করবেন। সারাদিন অভূক্ত থাকতে হলো রতনদের। বিকালের দিকে রতনের বাবা একটি পুটলিতে করে কিছু চাল নিয়ে ঘরে ফিরলেন। রতন শুনতে পেল. তিনি তার মাকে বলছেন, ‘কাঁসার যে বাটিটি দিয়েছিলে সেটি নিয়ে সারাদিন বালাট বাজারে বসেছিলাম। কেউ দামও জিজ্ঞেস করেনি। বিকালে একজন দাম করল। বললাম, বাবু দেন পাঁচ টাকা। বাবুটি তাচ্ছিল্য দেখিয়ে বললেন এইটুকু বাটির দাম পাঁচ টাকা। এই নাও দুই টাকা। পুষালে দাও না হলে বসে থাকো। কী করবো। বেঁচে দিলাম দুই টাকায়ই।’
সেদিন রাতে মা তাদের ফেনভাত করে খাইয়েছিলেন। রতন ঘুমিয়ে পড়েছিল। জাগিয়ে মা কোলে বসিয়ে তাকে খাইয়ে দিয়েছিলেন।
এরপর আরও বহুদিন এভাবেই কেটেছে রতনদের। সারাদিন কিছু খেতে না পারলেও রতনের কোন অনুযোগ ছিল না। সে চলে যেত নদীর তীরে। ক্যাম্প লাগুয়া নদীটির জল এখন অনেক শুকিয়ে গেছে। নদীর জলও ময়লায় পরিপূর্ণ। নামলে পায়ের গোড়ালিও ভিজে না। সে আরও উজানে যায়। উজানে গেলে কিছুটা স্বচ্ছ জলের দেখা মিলে। প্রতিদিনই তাকে একটু একটু করে আরও উজানে যেতে হয়। যেতে আসতে সময় লাগে। তাই বেশিক্ষণ নদী তীরে বসা যায় না। এভাবে একদিন সে পাহাড়ের পাদদেশে চলে আসে। সে দেখতে পেল একটি জলধারা পাহাড় থেকে মেয়েদের লম্বা বেণীর মতো নীচে নেমে আসছে। ধবধবে সাদা রঙের সেই বেণী। পাহাড়টি তখন যেন সবুজ রঙের প্রকা- এক নারীমূর্তি, মনে হলো রতনের। ওই বিশাল নারীর মাথা থেকে সাদা বেণী নীচে নেমে আসছে কল কল করে। একেবারে পাহাড়ের গোড়ায় এসে ধাক্কা খাচ্ছে সেই বেণীগুচ্ছ। নীচের পাথরে পড়ে ভেঙে খান খান হয়ে পড়ছে সেই অপূর্ব সুন্দর পাহাড়বেণী। এরপর ভেঙে চুড়মাড় হয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে পাহাড়কে ছেড়ে চলে যাচ্ছে দূরের অজানায়। রতন ভাবল নারী তো মা। আর মা মানেই সন্তানের দুঃখ হরণকারী। রতনের নিজের মার কথা মনে পড়ল। পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের বেণীটিকে তার নিজের মার চুলের গুচ্ছ মনে হলো। জল থেকে পা সরিয়ে আনল সে। রতন এবার মাটিতে মাথা ঠুকে গড় করে প্রণাম করল পাহাড় জননীকে। মনে মনে বলল, ‘হে জননী তুমি আমাদের দুঃখ দূর করে দাও। আমরা যে নিজের দেশ ছেড়ে আজ তোমার শরণাগত হয়েছি।’
সন্ধ্যা নেমে এসেছে পাহাড়ের তলায়। দূরের ক্যাম্প অন্ধকারে ঢেকে গেছে। রতন ফেরা শুরু করল। এবার সে নিজের মার কাছে যাবে। অন্ধকারে পথ খুঁজছে রতন। রাস্তা ঠাহর করতে পারছে না। কিন্তু তাকে যে ফিরতেই হবে। তার মা এতক্ষণে নিশ্চয়ই ঘরের বাইরে চলে এসেছেন ছেলের খোঁজে। রতন মাকে ডাকছে- ‘মা, তুমি কোথায়, আমাকে নিয়ে যাও।’