খলায় ধান ভিজছে চিন্তিত কৃষক

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
ধান কাটা শেষ। রোপনকৃত সব ধানই কাটতে পেরেছেন অধিকাংশ কৃষকই। মুখে হাসি আর উপজেলার সব জায়গায় উৎসব উৎসব পরিবেশ থাকার কথা। তা না হয়ে উল্টোটা হয়েছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলার প্রতিটি কৃষকের মাথায় এখন দুশ্চিন্তার রেখা দেখা দিয়েছে। জমি থেকে ধান কেটে এনে মাড়াই করার পর বৈরি আবহাওয়ার কারণে শুকানো যাচ্ছে না কষ্ট আর দুশ্চিন্তার সোনার ফসল। লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার কারণে এমন অবস্থায় পড়তে হয়েছে কৃষকদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাঁচা ও ভেজা অবস্থায় বস্তা বন্দি থাকতে থাকতে অনেক ধানে চারা গজিয়েছে। এতে ধানের ব্যপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা করছেন সাধারণ কৃষকরা। আর এতেই তাদের মাথায় দুশ্চিন্তা কাজ করছে। কৃষকরা জানান, বছর বছর বন্যা, খড়া আর শিলাবৃষ্টিতে ফসল হানির পর এ বছর আর জমিতে ধান রোপন করতে ততটা আগ্রহী ছিলেন না তারা। অনেক ভেবে চিন্তে যে টুকু জমি তারা চাষ করেছিলেন আশাতীত ফলন হয়েছে। এতে বেশ খুশিই ছিলেন তারা। তবে, ইদানিং ধান কাটার পর লাগাতার বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাটা ধান ঘরের মাঝে বস্তা বন্দি বা খলার মাঝে ত্রিপল দিয়ে স্তুপাকৃতি অবস্থায় থাকায় ধানে চারা গজিয়েছে। এতে ধান নষ্ট হওয়ার আশংকা তাদের।
রবিবার সকালে কথা হয় দরগাপাশা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের দুধ বিক্রেতা মুসা মিয়ার সাথে। তিনি একজন কৃষকও। তিনি জানান, ‘দরগাপাশার বড় হাওরে তার দুই হালের মতো জমি আছে। সবগুলোই ছেলেদের নিয়ে চাষ করেছিলেন। আর এক একরের কিছু জমি কাটার বাকী আছে। বাকী সব কেটে শেষ। বাড়ির পাশেই চাতাল বা খলা করেছেন তিনি। রোদ না থাকায় ধান চাতালের মাঝে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। রোদের অপেক্ষায় আছেন। তিনি আশংকা করছেন এভাবে আবহাওয়া থাকলে তার অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
পাথারিয়া ইউনিয়নের দরগাপুর গ্রামের কৃষক শেকুল খাঁন। তিনিও জমির সকল ধান কেটে মাড়াই দিয়ে স্তুপ করে রেখেছেন খলা, ঘর, বারান্দায়। প্রায় সকল ধানে চারা গজিয়েছে। তিনি এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। যদি আবহাওয়ার উন্নতি না হয় তাহলে তার কষ্টের ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা তার।