খসড়া আইন পর্যালোচনা চলছে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন পর্যালোচনার জন্য আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভা হবে। আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভার পর পরবর্তী পদক্ষেপগুলো প্রক্রিয়া অনুসারে গৃহীত হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন আগামী ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংসদে উপস্থাপন হতে পারে।
পরিকল্পনামন্ত্রী সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এম মান্নানের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। ইতিমধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ’এর একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। এই বছরই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ছাত্র ভর্তিও শুরু হবে।
জানা যায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন প্রস্তুত করার জন্য ডেপুটি ডিরেক্টর মৌলি আজাদের নেতৃত্বে কমিটি করে দেয়। গেল বছরের (২০১৮ সালে) জানুয়ারি মাসেই এই খসড়া আইন প্রস্তুত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ আলী রেজা এই খসড়া আইনটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে দুটি মন্ত্রণালয় থেকে এই খসড়া আইনের বিষয়ে অভিমত পাওয়া গেছে। যেসব মন্ত্রণালয় এই পর্যন্ত (৮ আগস্ট পর্যন্ত) অভিমত দেননি তাদেরকে তাগাদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী সপ্তাহেই এই আইনের খসড়া পর্যালোচনার জন্য আন্ত; মন্ত্রণালয়ের সভা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় হতে পাওয়া অভিমতের পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে আইনটি সংস্কার করা হবে। ওই পর্যায়ে আইনটি যাবে বাংলাদেশ ভাষা কোর্স (বাভাকো)’এ। যেখানে আইনের শব্দ চয়নের ব্যাপারে প্রত্যয়ন নেওয়া হবে। এরপর আইনগত দিক ঠিক আছে কী-না, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে এই খসড়া আইন। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রত্যয়ন পাওয়া গেলে, আবার এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসবে। পরবর্তীতে মন্ত্রী পরিষদের আলোচনা পর্যালোচনা বা মতামতের জন্য কেবিনেট মিনিস্ট্রিতে পাঠানো হবে এই খসড়া আইন। কেবিনেট মিনিস্ট্রি থেকে মতামত পাবার পর আইনটি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। সংসদ সচিবালয় সংসদ উপ-কমিটির কাছে সেটি উপস্থাপন করবে।
সংসদ উপ-কমিটির সম্মতি পাওয়া গেলে, আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ৬ মাসের মধ্যেই সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন হবে। সংসদ অধিবেশনে আইনটি পাশ হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে আইনটি একটি কার্যকরি আইন হিসাবে বিবেচিত হবে।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। এরপর সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামের প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রেরিত হবে। একনেকে প্রকল্প অনুমোদন হবার পর প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের নির্দেশে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়েল কাজের অগ্রগতি দেখভাল করছেন সুনামগঞ্জের ছেলে তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শ্যামল রায়।
শ্যামল রায় জানালেন, সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি হাওরবাসীর জীবন-মান উন্নয়নের জন্য সুনামগঞ্জ শহরে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইড়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)’এর আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। অবহেলিত পশ্চাৎপদ এই জনপদের শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, এই লক্ষে তিনি সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এর অফিসিয়েল কাজ শুরু হয়েছে। তিনি চেষ্টা করছেন আগামী বছরের মধ্যেই কাক্সিক্ষত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কাজ শুরু হোক।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরিচালক আবুল কালাম সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির বিষয়ে জানাতে গিয়ে বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি আমরা। এরপরের কোন অগ্রগতি এখনো আমাদের কাছে আসেনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ আলী রেজা এ প্রসঙ্গে বলেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য এই খসড়া আইন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঈদের পর এই বিষয়ে আন্ত: মন্ত্রণালয়ের সভা আহŸান করা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা চান, হাওর, পাহাড়, চরাঞ্চল, সমতল সকল এলাকার মানুষ সমানভাবে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হোক। হাওরবাসীর প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। সুনামগঞ্জ সহ সারাদেশেই সকল উন্নয়ন হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জ’এর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। ছাতক-সুনামগঞ্জ- ধর্মপাশা- মোহনগঞ্জের রেল লাইনও হবে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। এই কাজ শেষে প্রক্রিয়া অনুসারে অন্য কাজ হবে। আমরা আশা করছি আগামী বছরেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।