খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ডিলারের বাড়িতে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মো. আলাল উদ্দিন নামের এক ডিলারের বিরুদ্ধে চার বস্তা চাল বিক্রি না করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। মো. আলাল উদ্দিন উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ডিলার। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চার বস্তা চাল ঠেলাগাড়িতে ডিলারের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় এলাকাবাসী তা আটক করে। পরে ওই ডিলার সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই চাল নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে ওইদিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কান্তি চক্রবর্তী খবর পেয়ে ডিলারের গুদামে গিয়ে কিছুটা অসঙ্গতি দেখতে পাওয়ায় ডিলারের গুদাম তালাবদ্ধ করেছেন।
জানা যায়, ওইদিন সকাল থেকে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর চৌরাস্তা মোড়ে ওই ডিলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি শুরে করেন। সকাল ১১টার দিকে ডিলারের ছেলে মাহবুর আলম সাথে আর একটি ছেলেকে নিয়ে ঠেলাগাড়িতে করে চারটি বস্তায় করে ১শ ৫০ কেজি চাল ডিলারের বাড়ি জয়পুর গ্রামে নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে স্থানীয় জনগণ ঠেলাগাড়ি আটক করে। এ সময় ডিলারের ছেলে মাহবুর আলম চালগুলো তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেই স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে ডিলার মো. আলাল উদ্দিন সেখানে গিয়ে চালগুলো তার বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে উপস্থিত জয়পুর গ্রামের বাবু মিয়াসহ আরও কয়েকজন মুঠোফোনে জানান, এতগুলো চাল এক সাথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখে তিনিসহ আরও কয়েকজন তা আটকে রাখেন এবং ইউএনওকে খবর দেন।
ডিলার আলাল উদ্দিন জানান, তিনি তিনজন কার্ডধারীর চাল একটি ঠেলাগাড়িতে করে কার্ডধারীদের বাড়িতে পাঠাচ্ছিলেন। এতে তার ছেলে কিছুটা সহযোগিতা করেছে। তার বাড়িতে চালগুলো নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সেলিম হায়দার জানান, ডিলার তাকে জানিয়েছে যে চালগুলো সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীরা এসে নিয়ে গেছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরও জানান, তিনি সুনামগঞ্জ শহরে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে এসে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি এ প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।
তদারকি কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁকে যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এ সংক্রান্ত দাপ্তরিক কোনো চিঠি পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কান্তি চক্রবর্তী জানান, সরোজমিনে তদন্ত করে ডিলারের গুদামে থাকা চালের ওজনে কিছুটা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তাই ডিলারের গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। চাল ডিলারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।