খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু, গোদাম থেকে ৩০ কেজির বদলে ৫০ কেজির বস্তা দেয়া হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার
খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে সুনামগঞ্জে। শুধুমাত্র খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির তালিকাভূক্ত কার্ডধারী ব্যক্তিরা চাল কেনার সুযোগ পাবেন।
জেলার ১১ উপজেলার ১৬৮ জন ডিলারের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে-পয়েন্টে ও হাট-বাজারে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি করা হবে। একজন কার্ডধারী প্রতি মাসে ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল কেনার সুযোগ পাবেন। ৩ মাসে ৩০ কেজি করে ৯০ কেজি চাল কিনতে পারবেন। ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে এসব চাল বিক্রি করবেন ডিলারগণ।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারী ব্যক্তি রয়েছেন ৯১ হাজার ৫৯০ জন, প্রতিটি ইউনিয়নে ২ জন করে নিয়োগকৃত ডিলার রয়েছেন ১৮০জন। ডিলারগণ উপজেলা খাদ্য গোদাম থেকে প্রতি কেজি চাল ৮ টাকা ও ৮.৫০ টাকা করে ক্রয় করে ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন। দুর্গম এলাকার ডিলারদের জন্য সাড়ে ৮ টাকা ও উপজেলা সদরের সাথে ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ৮ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে।
৯১ হাজার ৫৯০ জন ভোক্তার বিপরীতে তিন মাসে ৯০ কেজি করে মোট ২৭০০ মে. টন চাল বিক্রি করা হবে সুনামগঞ্জ জেলায়। প্রতি মাসে ৭০০ মে. টন চাল বিক্রি করা হবে।
সদর উপজেলায় ডিলার ২৪ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১৭ জন, জামালগঞ্জে ১০ জন, বিশ্বম্ভরপুরে ১৮ জন, তাহিরপুরে ১৪ জন, ধর্মপাশায় ১০ জন, দিরাইয়ে ১৮ জন, শাল্লায় ৮ জন, ছাতকে ২৬ জন ও দোয়ারাবাজারে ১৮ জন ডিলার রয়েছে। গতকাল ১৯ মার্চ পর্যন্ত ১৭১ জন ডিলার স্থানীয় খাদ্য গোদাম থেকে চাল উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ কেজির সেলাই করা এক বস্তা চাল দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন জায়গায় ৫০ কেজির বস্তা ভেঙে চাল বিক্রি হচ্ছে। এতে কোথাও কোথাও চাল ওজনে কিছু কম দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাল বিক্রি সরেজমিনে মনিটরিং করছেন জেলা ও উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের টুকেরবাজারের ডিলার আব্দুল কদ্দুছের বিরুদ্ধে চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। গত ১৮ মার্চ সোমবার চাল বিক্রির সময় ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি ধরা পরে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অবগত করলে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এসময় চারজনকে চাল ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। প্রত্যেকের ৪ কেজি করে চাল কম ছিল। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া ওই চারজনের চাল সঠিক মাপে দিয়ে দেন।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন,‘ নিয়ম অনুযায়ী ৩০ কেজির বস্তা দেয়া কথা। কিন্তু আমাদের এলাকায় ৫০ কেজির বস্তা ভেঙে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা দাবি জানাই প্রত্যেককে ৩০ কেজির বস্তা দেয়া হোক।’
গৌরারং ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেন,‘ টুকেরবাজারের ডিলার রবিবার রাতে ভুয়া মাস্টার রুলে রাতের আঁধারে ট্যাগ অফিসার ছাড়াই চাল বিক্রি করেছেন। অভিযোগ পেয়ে সোমবার সকালে বাজারে গিয়েছিলাম। চাল কম দেয়া হয়েছে বলে ১২ জন ভোক্তা অভিযোগ করেছেন। আমরা চারজনের চাল ওজন করে ৪ কেজি করে কম পেয়েছি। রবিবার রাতে ৩৩ জনের নামে চাল বিক্রির কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ডিলার। এসময় সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু দেখেছেন। ’
গৌরারং ইউনিয়নের টুকেরবাজারের ডিলার আব্দুল কদ্দুছ বলেন,‘ কাউকে চাল কম দেয়া হয়নি। আমি নিজে চাল বিক্রি করিনি, আমার লোকজন চাল বিক্রি করে। মিটারে একটু সমস্যা ছিল, তাৎক্ষণিক সমাধান করে দেয়া হয়েছে। ’
সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুর রউফ বলেন,‘গৌরারং ইউনিয়নের ডিলারের বিরুদ্ধে চাল ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে। ১৮ মার্চ চারজনকে ৩-৪ কেজি করে চাল কম দিয়েছিল ডিলার। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান ওই চারজনের চাল সঠিক মাপে দিয়ে দিয়েছেন। ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মুস্তফা বলেছেন,‘ বস্তা সংকট ও খাদ্য গোদামের সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তা ডিলারদের সরবরাহ করা হচ্ছে। কারণ গোদামে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা মওজুদ রয়েছে। ডিলাররা সেই বস্তা ভেঙে কার্ডধারীদের মাঝে বিক্রি করছেন। তবে চাল বিক্রিতে কঠোর নজরদারী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আমাদের মনিটরিং অব্যাহত আছে। আমরা আশা করছি আগামী মাসে ৩০ কেজির বস্তা সরবরাহ করতে পারব।’