খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী যেন শেষ পর্যন্ত জনবান্ধবই থাকে

১০ টাকা কেজি দরে গরিব মানুষকে চাল সরবরাহ করা শেখ হাসিনার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। তিনি নিজের ক্ষমতাকালে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছেন। ওই প্রতিশ্রুতির আলোকে এ বছরও সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হচ্ছে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচী। টানা তিন মাস চলবে এই কর্মসূচী। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় সংশ্লিষ্ট কমিটি সভানুষ্ঠানের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় চাল বিক্রি শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট বিক্রয় পয়েন্টগুলোতে এই চাল বিক্রি করবেন সরকার নিয়োজিত ডিলাররা। প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ কর্মসূচীটির মাধ্যমে প্রকৃত গরিব ব্যক্তিরা কতটা সুফল পাবেন তার পুরোটাই নির্ভর করছে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত ডিলার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপর। এদেশে তৃণমূলে যারা বিভিন্ন সরকারি সহায়তা বা সেবা জনগণের নিকট পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন তাদের একটি অংশ বরাবরই ভাল ভাল কর্মসূচীগুলোকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেন নিজেদের অপকর্ম দ্বারা। ভিজিএফ-ভিজিডি বা সরকারি রিলিফের চাল নিয়ে নানা কেচ্ছা-কেলেংকারির কথা প্রায়শঃই সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়। আলোচ্য ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীও যদি অনুরুপ অপকর্মতাড়িত হয় তাহলে তৃণমূলে সরকারি সহায়তা কর্মসূচীটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে না। এমন অবস্থায় উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে যে কমিটিগুলো রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই সচেতন ও তৎপর থাকতে হবে। ডিলার নির্বাচনের কাজটি করতে হবে যথাযথ বিবেচনাবোধ প্রয়োগের মাধ্যমে। রাজনৈতিক মদদপুষ্ঠ অসৎ কর্মী বা অতীতের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা যাতে কোন অবস্থায় এই কর্মসূচীর ডিলার না হতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই কর্মসূচীর সুফলভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে প্রকৃত অবস্থা বিবেচনা করে স্বচ্ছতার সাথে। ডিলার পয়েন্টগুলোকে রাখতে হবে উপকারভোগীদের হাতের নাগালের মধ্যে। নতুবা দশ টাকার চাল সংগ্রহ করতে যেয়ে দরিদ্র উপকারভোগীদের খাজনার চাইতে বাজনা বেশি হয়ে পড়বে।
সরকার তার শেষ সময় অতিক্রম করছে। সামনের ডিসেম্বরেই নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে। এ অবস্থায় এই কর্মসূচী যদি কতিপয় দুর্নীতিবাজের কারণে জনমনে অসন্তোষ তৈরি করে তাহলে ক্ষমতাসীনদের ভাবমূর্তি জনমনে নষ্ট হবে। তাই সরকারি দলকেও এই কর্মসূচীর সফল বাস্তবায়নে সদা সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। আমরা মনে করি, স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা যদি প্রশাসনকে উপযুক্ত সহায়তা দান করেন তাহলে কারও সাধ্য হবে না এখানে এক রত্তি দুর্নীতি করার। সকল দুর্নীতিই সংঘটিত হয়ে থাকে উপর্যুক্ত পক্ষবৃন্দের পারষ্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে। আমরা আশা করব, গরিবের হক নিয়ে এবার অন্তত কেউ নিজেদের আখের ঘোচানোর ধান্দায় নামবেন না। অর্বাচীন বা দুর্বিনীত কেউ যদি এমন সাহস করে ফেলেন তাহলে তাকে তাৎক্ষণিক ঝেটিয়ে বিদেয় করে অন্যদের সঠিক পথে রাখতে হবে।
সরকার দিবা-রাত্রি চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেশটির উন্নয়ন করার। দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। সরকার জনগণের জন্য। আর সরকারি কর্মচারি, সরকার দলীয় নেতা-কর্মী কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও অন্য অংশীজন সরকারের হাত। এই লক্ষ কোটি হাত যদি ঠিকভাবে কাজ করে তাহলেই কেবল ভাল কর্মসূচীর ভাল বাস্তবায়ন হয়। এবার আমরা আদর্শ ও উদাহরণ তৈরি করার মত এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর সফল বাস্তবায়ন দেখতে চাই।