খেলার আয়োজন করার মধ্যেই কমিটির মাহাত্ম্য নিহিত থাকে

নিয়মিত ফুটবল লীগ আয়োজনের দাবিতে রাস্তায় নেমে কর্মসূচী পালন করেছেন ফুটবলাররা। রবিবার জেলা সদরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। স্মারকলিপিতে সুনামগঞ্জে ফুটবল খেলার উৎকর্ষ সাধনে সকল পর্যায়ে নিয়মিত লীগ আয়োজন করার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্মারকলিপিসূত্রে জানা গেল, জেলা সদরে ২০১০ সনের পর প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ আয়োজিত হয়নি। নানা দাবি দাওয়া নিয়ে প্রায়শই শহরের রাস্তায় মানববন্ধন দেখে অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু ফুটবল লীগ আয়োজনের মত একটি চমকপ্রদ দাবি নিয়ে খেলোয়াড়দের রাস্তায় দাঁড়ানো এই প্রথম। তারা নিজেদের কোন সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য নয়, জেলার পুরাতন ফুটবল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ফুটবল কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের এই ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। আমরাও মানববন্ধনকারীদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করি।
এই শহরে ক্রীড়া সংস্থার সুরম্য ভবন তৈরি হয়েছে। স্টেডিয়ামের উন্নয়ন হয়েছে। বড় বড় কমিটি আছে। তহবিলও আছে। বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য গঠিত এইসব কমিটিতে নামিদামী লোকজন আছেন। কিন্তু সবকিছু থাকার পরও মূলত কিছুই নেই। যে সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো ও কমিটি, সেগুলো যদি স্থানীয় পর্যায়ের খেলাধুলার উন্নয়নে কোন ভূমিকাই রাখতে পারল না তাহলে এইসবের উপযোগিতা কোথায় রইল? বলাবাহুল্য ২০১০ সনের পর প্রথম বিভাগের কোন ফুটবল লীগ আয়োজন করতে না পারা স্থানীয় ফুটবল সংগঠকদের লজ্জাজনক ব্যর্থতা। স্বাধীনতার আগে-পরে, যখন এই শহরে গ্যালারি সুবিধাসম্পন্ন কোন স্টেডিয়াম ছিল না, যখন খেলাধুলায় তেমন টাকা-পয়সার সংযোগ ছিল না, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও ছিল নামমাত্র; তখন প্রতিবছর বিভিন্ন বিভাগের ফুটবল লীগসহ নানা টুর্নামেন্টের আয়োজন হত। খেলাঅন্তপ্রাণ কিছু সংগঠক ও খেলোয়াড়রা ক্রীড়াঙ্গনকে মাতিয়ে রেখেছিলেন। শহরবাসীকে নির্মল বিনোদন দানে তাদের অবদান ভুলার নয়। ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে হারুন মিয়া, কন্টর, শমসের, লাল, নীল, সবুজ, সহিবুর, চিনু, তাপস, রসিক মিয়া, আব্দুল আলী… কত নাম চোখের সামনে ভেসে উঠে। ফুটবলে তাঁদের পায়ের কারুকাজ আজও রোমন্থন করেন বয়স্করা। স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন, ক্রীড়াপাগল এই শহরের আজ কী দুরবস্থা।
জাতি গঠনে খেলাধুলার অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে যুব ও তরুণ সম্প্রদায়কে যাবতীয় পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করতে লেখা-পড়ার পাশাপাশি খেলা ও সংস্কৃতি চর্চার কোন বিকল্প নেই। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে যেমন শরীর মন সতেজ থাকে তেমনি গড়ে উঠে একটি প্রতিযোগী মনোভাব। এই মনোভাব পরবর্তী জীবনে ব্যক্তি মানুষকে সফলতার পথে এগিয়ে নেয়। তাত্ত্বিকভাবে সত্য এই কারণেই সরকার খেলাধুলার প্রতি বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা দান করে থাকে। খেলার জগতে এখন টাকা পয়সার অভাব নেই। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ক্রীড়াক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ বেড়েছে। তাই সংগত কারণেই ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন দেখার আশাবাদ সকলের মাঝে জাগ্রত হয়। কিন্তু এত সুযোগ-সুবিধার মাঝেও যখন সংগঠকরা নিয়মিত ফুটবল লীগ আয়োজন করতে পারেন না তখন সকলেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এই ব্যর্থতা কার? আত্মানুসন্ধান একান্ত প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জের কিছু খেলোয়াড় যখন নিয়মিত ফুটবল লীগ আয়োজনের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তখন ক্রীড়া সংস্থার প্রধান জেলা প্রশাসকের কিছু পদক্ষেপ আমরা সংগত কারণেই দেখতে চাই। তিনি অচিরেই জেলার ফুটবল সংগঠকদের সাথে বসে একটি সঠিক ক্রীড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন বলে সকলে আশা প্রকাশ করেন। ফুটবল কমিটির ব্যক্তিবৃন্দকে খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোর ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। মনে রাখতে হবে খেলার আয়োজন করার মধ্যেই কমিটির মাহাত্ম্য নিহিত থাকে। এই মাহাত্ম্য দেখাতে হবে এখন।